১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে দুই মন্ত্রীর বক্তব্য সরকারের নয়ঃ প্রধানমন্ত্রী
Mountain View

প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে দুই মন্ত্রীর বক্তব্য সরকারের নয়ঃ প্রধানমন্ত্রী

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকাঃ দুজন মন্ত্রী বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য ও প্রধান বিচারপতিকে বাদ দিয়ে মীর কাসেম আলীর মামলা নতুন করে শুনানির দাবি করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিরক্ত হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিচারাধীন মামলার বিষয়ে কথা বলা তাঁদের কাজ নয়। তিনি এ-ও বলেন, মীর কাসেমের মামলার রায়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে চলমান বিতর্কের ব্যাপারে দুই মন্ত্রী যা বলেছেন, তা সরকারের বক্তব্য নয়।

মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে সোমবার প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে তাঁর মত প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই মনোভাব প্রকাশ হওয়ার পর এ নিয়ে সরকারের কোনো মন্ত্রী বা বিচার-সংশ্লিষ্ট কেউ কোনো মন্তব্য করেননি। মন্ত্রিসভার বৈঠকে নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে কথা বলার সময় খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু করেন। ওই আলোচনায় মন্ত্রিসভার আর কোনো সদস্য অংশ নেননি।

শনিবার একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত মীর কাসেম আলীর মামলার পুনঃশুনানি দাবি করেন। ওই শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ও রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে অ্যাটর্নি জেনারেলকে অংশ না নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রী মোজাম্মেল হকও প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে কিছু মন্তব্য করেন। রোববারও আবার নিজের কথার পুনরাবৃত্তি করেন কামরুল ইসলাম। আর দুই মন্ত্রীর বক্তব্যকে অসাংবিধানিক বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ আলোচিত ওই মামলার রায় ঘোষণা করবেন। কয়েক দিনে বিতর্ক ও সমালোচনার অন্যতম লক্ষ্য প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি এ সময় দেশের বাইরে ছিলেন। সোমবার বিকেলে তিনি দেশে ফিরেছেন।

রায় ঘোষণার আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, একটি সংগঠনের অনুষ্ঠানে গিয়ে দুজন মন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, এতে মনে হয় যেন ওই সংগঠনটি সরকারের কোনো সংগঠন এবং এই বক্তব্য যেন সরকারের বক্তব্য। এতে কারও কারও ধারণা হতে পারে, সরকারই যেন বিষয়টি আদালতের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাই একজন মন্ত্রী যা বলতে চান তা ভেবেচিন্তে বলা উচিত। বিচারাধীন বিষয়ে এভাবে মন্তব্য করা ঠিক নয়।

মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সদস্য বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী দুই মন্ত্রীর বক্তব্য ‘ডিসওন’ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি কেউ এ ধরনের বক্তব্য দিতে চান, তাহলে রাস্তায় গিয়ে দেন। মন্ত্রিসভার সদস্য হয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পেলেই যা খুশি বলবেন এবং যেকোনো সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানে গিয়ে কথা বলবেন, এটা ঠিক নয়।

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। মন্ত্রিসভার বৈঠকে এমন কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি অন্য কারও সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন।প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে জানতে চাইলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি

শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘খাদ্যমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে, বিচারপ্রত্যাশী হিসেবে এবং একজন নাগরিক হিসেবে বক্তব্য রেখেছেন, মন্ত্রী হিসেবে নয়। আমি মনে করি খাদ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে কোনো অন্যায় বা ভুল করেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা সত্য যে, নির্মূল কমিটি কোনো সরকারি সংগঠন নয়। সরকার মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করায় আমরা যেমন শেখ হাসিনার প্রশংসা করি। কারণ খালেদা জিয়া কোনো দিন এই বিচার করতেন না। এই সরকার বিচার করলেও আমরা বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করি। কারণ আমরা চাই, এই বিচারের স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও মান বজায় থাকুক।’

দুই মন্ত্রীকে আইনি নোটিশঃ এদিকে প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে দুই মন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে তাঁদের আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী। মীর কাসেমের আপিল মামলা ও প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে দেওয়া তাঁদের বক্তব্য কেন আদালত অবমাননা হিসেবে বিবেচিত হবে না, তা ওই নোটিশে জানতে চাওয়া হয়েছে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নোটিশের জবাব না পেলে আদালতে রিট আবেদন করা হবে বলে ওই আইনজীবী জানান।

নিউজবিডি৭১/এম আর/০৮ মার্চ ২০১৬

Share.

Leave A Reply