১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ‘যত বাধাবিপত্তিই আসুক না কেন, তা অতিক্রম করতে পারবঃ শেখ হাসিনা
Mountain View

‘যত বাধাবিপত্তিই আসুক না কেন, তা অতিক্রম করতে পারবঃ শেখ হাসিনা

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকাঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনায় সবার সহযোগিতা কামনা করে বলেছেন, ‘যত বাধাবিপত্তিই আসুক না কেন, তা অতিক্রম করতে পারব। দেশকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের চেতনায় ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলায় গড়ে তুলব। বাংলাদেশ বিশ্বে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হবে।’

সোমবার রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ৭ মার্চ উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গ তুলে শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বঙ্গবন্ধু শুরু করেছিলেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করার পর যেন সব পাল্টে গেল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভূলুণ্ঠিত করা হলো। পঁচাত্তরের পর যুদ্ধাপরাধীদের এ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। যেসব যুদ্ধাপরাধী সাজাপ্রাপ্ত ও কারাগারে বন্দী ছিল, তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। জিয়া নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে দাবি করত। কিন্তু দালালি করেছে ওই পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের। তিনি আরও বলেন, ‘জিয়ার স্ত্রী যুদ্ধাপরাধীদের পাসপোর্ট দেয়, রাজনীতি করতে দেয় এবং মন্ত্রী বানায়। জিয়াউর রহমান যেমন এদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছিল, খালেদা জিয়াও পতাকা তুলে দেন।’

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান বিএনপির চেয়ারপারসন ও ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নাটকটা ভালোই করেছে। নির্বাচিত দুজনেই আসামি। একজন এতিমের টাকা আত্মসাৎ করা মামলার আসামি। আরেকজন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, মানি লন্ডারিং ও দুর্নীতির দায়ে পলাতক আসামি। আবার সেই পলাতক আসামির নাম ইন্টারপোলে। ইন্টারপোলে যার নাম ওয়ান্টেড হিসেবে আছে, সে হলো এই বিএনপির নেতা। তাহলে এরা জনগণকে কী দেবে?’ তিনি বলেন, ‘এরা মানুষ খুন করতে জানে। নির্বাচন বানচালের নামে আন্দোলন করতে গিয়ে তারা জীবন্ত মানুষগুলোকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। মায়ের সামনে পিতা-কন্যাকে পুড়িয়ে মেরেছে। বাবার সামনে নিজের সন্তান পুড়ে মারা যাচ্ছে-সেই দৃশ্য তারা সৃষ্টি করেছিল।’

২০১৫ সালে সরকার উৎখাত না করে খালেদা জিয়ার ঘরে না ফেরার আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, কী অপরাধ ছিল তাদের? কেন তাদের পোড়ালেন খালেদা জিয়া? তার জবাব তাঁকে একদিন জাতির কাছে দিতে হবে এবং এর বিচারও বাংলার মাটিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন সরকারে আসে, তখন এই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের কাজ শুরু করে। ‘৭৫-৯৬’ সাল পর্যন্ত ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। তারপরও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা যেখানে যেখানে সুযোগ পেয়েছে, তারা প্রতিবছর ৭ মার্চ এই ভাষণ বাজাতে গিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়েছিল এবং অনেককে জীবনও দিতে হয়েছিল।’ তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনে প্রণোদনা দিয়েছে এই ভাষণ। আড়াই হাজার বছরের ভাষণগুলোর মধ্যে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ অন্যতম।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘খেলাধুলায়ও আমরা পিছিয়ে নেই। এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে রানার্সআপ হয়েছি। এটাও তো হতে পেরেছি। ওই পর্যন্ত গেছি। আমরা ফাইনালে গেছি। ইনশা আল্লাহ আগামীতে আরও যাব।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণটি ছিল অনেক কৌশলী। তার অন্তর্নিহিত অর্থ অনুসন্ধান করলে অনেক কিছু দেখা যেতে পারে। তিনি বলেন, তাঁর রণকৌশল, রাজনীতির শিক্ষা, অফুরন্ত প্রাণশক্তি-এটা বিস্ময়কর ব্যাপার।

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। সেদিন বেশি দূরে নয়, আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠিত করব।’

শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল পর্যন্ত তাঁর হাতকে শক্তিশালী করতে হবে।

সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন বেগম মতিয়া চৌধুরী, মোহাম্মদ নাসিম, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, এনামুল হক শামীম, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, কামরুল ইসলাম, মেয়র সাঈদ খোকন, মেয়র আনিসুল হকসহ সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের নেতারা। সভা পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক অসীম কুমার উকিল।

বঙ্গবন্ধুর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপনঃ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে সকালে রাজধানীর ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুষ্পস্তবক অর্পণের পর তিনি স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

এরপর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে তিনি দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয়বার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাদের মধ্যে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, জনপ্রশাসনমন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, সাহারা খাতুন, সতীশ চন্দ্র রায়, মাহবুব উল আলম হানিফ, দীপু মনি, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ও আব্দুর রাজ্জাক উপস্থিত ছিলেন।

নিউজবিডি৭১/এম আর/০৮ মার্চ ২০১৬

Share.

Leave A Reply