১৬ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং বাংলাদেশে বিপজ্জনক দ্বন্দ্ব
Mountain View

বাংলাদেশে বিপজ্জনক দ্বন্দ্ব

0
image_pdfimage_print

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
‘বাংলাদেশে বিপজ্জনক দ্বন্দ্ব’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদপত্র ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। এতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের নিখোঁজের ঘটনাসহ বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়েছে।

সোমবার ভিক্টর ম্যালেটের লেখা এ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক মাস আগে হাসিনা আহমেদের স্বামী বিএনপির সিনিয়র নেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদকে চোখ বেঁধে সাদা পোশাকের সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা উত্তর ঢাকার তার এক বন্ধুর বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

সালাহ উদ্দিন আহমেদের স্ত্রী হাসিনা আহমেদ বলেন, ‘আমি শুধু আমার স্বামীকে ফেরত চাই, আর কিছুই না।’

গুলশানের একটি অ্যাপার্টমেন্টে বসে হাসিনা আহমেদ কথা বলার সময় তার এক সন্তান পাশে ছিল। ‘তারা কেন তাকে আদালতে হাজির করে না? এভাবে তুলে নেওয়ার কোনো অধিকার তাদের নেই। আমার চারটি সন্তান আছে।’ বলেন তিনি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাইরে থেকে দেখলে ঢাকার ব্যস্ত ও আধুনিক সড়ক অন্যান্য উন্নয়নশীল দেশের মতই, এর অর্থনীতিও দ্রুত বিকাশমান। ১৯৯০ সালে সামরিক শাসন শেষ হওয়ার পর থেকেই প্রধানত মুসলিম অধ্যুষিত প্রায় ১৬ কোটি মানুষের এই দেশটিতে প্রাণবন্ত গণতন্ত্র লক্ষ্ করা গেছে, যদিও মাঝে মধ্যে সহিংসতা এবং অকার্যকর গণতন্ত্রও ছিল।

তবে বাংলাদেশিরা এখন বলছেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদের নিখোঁজ হওয়াটা হলো গত ২৫ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রাজনৈতিক সহিংসতা, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন এবং আইনশৃঙ্খলাহীনতার মধ্যে নিপতিত হওয়ার সর্বশেষ লক্ষণ।

স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা অধিকারের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত র‌্যাবের হাতে ২০২ জন গুম হয়েছে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন মাত্রা ফুটে ওঠেছে সাম্প্রতিক গোলযোগে।

প্রধান দলগুলোর মধ্যে এ গোলযোগের ফলে ইসলামী চরমপন্থীদের বিপজ্জনক উত্থানের বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, মিডিয়াও সরকারের প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছে, সাংবাদিকরা গ্রেফতার হচ্ছেন, টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করা হচ্ছে, ভাইবার, টাঙ্গোর মতো মোবাইল ম্যাসেজিং অ্যাপসে বিঘ্ন সৃষ্টি করা হচ্ছে। এর ফলে একসময় বাংলাদেশিরা সাংবাদিকদের সঙ্গে অবাধে কথা বললেও এখন নাভার্স হচ্ছে।

অল্প কয়েকটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং কয়েকজন রাজনীতিবিদের কথা বাদ দিলে, বহির্বিশ্ব বাংলাদেশ সঙ্কট থেকে মোটামুটিভাবে দূরেই রয়েছে। পাশ্চাত্যের সরকারগুলো প্রকাশ্যে বিড়বিড় করে কিছু বলেই শেষ করছে। আর হিন্দু-সংখ্যাগরিষ্ঠ ভারত বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

বিশিষ্ট বাংলাদেশিরা এখন শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার মধ্যকার ক্রমবর্ধমান তিক্ত বিরোধে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

প্রথমত তারা শঙ্কিত যে শেখ হাসিনার শাসন এখন এতোটাই নিপীড়নমূলক যে ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে তিনি যে প্রতিহিংসার শিকার হবেন সে কারণে তিনি সরকার পরিবর্তনের কথা ভাবতেই পারছেন না।

সর্বশেষ বিক্ষোভ শুরু হয় গত ৫ জানুয়ারি। যেদিন নির্বাচনের প্রথম বার্ষিকীতে যেটি বিএনপি বর্জন করে এবং আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসেন।

এ সময় শতাধিক লোক নিহত হয়েছেন। এ সময় বাংলাদেশের বৃহত্তম শিল্প তৈরি পোশাকের রপ্তানিকারকদের ট্রাকবহর করে অথবা বিমানে করে চট্টগ্রামে পোশাক পৌঁছাতে হয়েছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, প্রচণ্ড দুর্নীতি ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশকে কেনিয়ার সাথে তুলনা করেন এবং হাসিনা-খালেদার মধ্যে সাম্প্রতিক দ্বন্দ্ব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ‘তারা দু’জনেই বর্তমান অবস্থাটাকে শেষ যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করছেন। আমার চিন্তা হচ্ছে আমরা আরো কম-বেশি চাপা সহিংসতার দিকে যাচ্ছি। অস্থির অগ্ন্যুৎপাতের একটি উচ্চ পর্যায়ের ‘নতুন স্বাভাবিকতার’ মধ্যে চলছি যেখানে রাজনীতির স্থান খুবই সামান্য।’

বাংলাদেশ পলিসি রিসার্চ ইনিস্টিটিটের চেয়ারম্যান জায়েদি সাত্তার বলেন, ‘রাজনীতির কাছে পণবন্দি থাকার কারণে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সম্ভাব্যতার নিচে রয়ে গেছে।’

নিউজবিডি৭১/আর কে/১৪ এপ্রিল ২০১৫

Share.

Leave A Reply