২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং ‘বাংলা বর্ষবরণ উৎসবে কর্পোরেট ছোঁয়া’
Mountain View

‘বাংলা বর্ষবরণ উৎসবে কর্পোরেট ছোঁয়া’

0
image_pdfimage_print

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : একটা সময় রমনা বটমূলে ছায়ানটের অনুষ্ঠানই ছিল ঢাকায় বর্ষবরণ উৎসবের কেন্দ্র বিন্দু।কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে পাল্টেছে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের ধরন। বেড়েছে আয়োজনের সংখ্যাও।

ইদানীং বৈশাখী উৎসবের নানা আয়োজনে লেগেছে কর্পোরেট ছোঁয়া।নানান আয়োজনে এগিয়ে আসছে বড় বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলো।

যেমন থাকছে প্রথাগত সংগীতের আয়োজন আবার একই সাথে আজকাল চলছে ব্যান্ড মিউজিকের কনসার্টও।ঢাকাবাসীদের অনেকেই বললেন এটি তাদের জন্য বাড়তি পাওয়া।

বর্ণ বাপ্পা নামের ঢাকার এক ছাত্র বলছিলেন, “আমি সব আয়োজনেই যাই। সকালের দিকে যাই মঙ্গল শোভা যাত্রায় আবার বিকেলে কনসার্টে। দুটোর আলাদা মজা”

বিভিন্ন আয়োজনে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্পন্সর হিসেবে যেমন কাজ করছে তেমনি আবার নিজেরাও আয়োজন করছে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান।

নিজেদের প্রচারে পহেলা বৈশাখের থেকে ভাল সময় কমই আছে।ঢাকায় আজ বড় এক কনসার্টের আয়োজক একটি খাবার ও বেভারেজ কোম্পানি।

এর এক কর্মকর্তা জামালুদ্দিন আহমেদ বলছিলেন, “ইদানীং পহেলা বৈশাখ নিয়ে মানুষের আগ্রহটা বদলেছে। মানুষ চাই বলেই আমরা বড় ব্যান্ড নিয়ে কনসার্ট করছি”

পহেলা বৈশাখের আয়োজনে সাজগোজের ধরনও বদলেছে।ফ্যাশন হাউসগুলো মেতে ওঠে বৈশাখী কালেকশন নিয়ে।সেসবের কেনাকাটা চলে ঈদ উৎসবের মতো।

কোম্পানিগুলোর নানান রঙিন ফেস্টুন ঝুলতে দেখা যায় আয়োজনকে ঘিরে। থাকে নানান অফার।
সঙ্গীত প্রতিষ্ঠান সুরের ধারার শিক্ষক হিমাদ্রি শেখর মনে করেন, আয়োজনে অর্থের যোগান হওয়াতে অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা বেশি ভাল হচ্ছে।

তিনি বলছিলেন, “এই আয়োজনের লক্ষ লক্ষ টাকা কোথা থেকে আসবে সেনিয়ে মাথায় সবসময় দুশ্চিন্তা কাজ করতো। সেই দুশ্চিন্তাটা মাথায় এখন আর থাকে না। তাই অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা ভাল হয়”
দর্শকরা এই সব আয়োজনকে বাড়তি পাওয়া মনে করলেও অনেকেই বৈশাখী আয়োজনে খুব বেশি কর্পোরেট ছোঁয়া সমর্থন করেন না কারণ স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের নামটাই বড়ে করে আসে।

ছায়ানটের শিক্ষক খায়রুল আনাম শাকিল বলছেন, “আমরা লক্ষ করি যারা অর্থ দিয়ে এইসব আয়োজনে সহায়তা করেন তাদের ইচ্ছে মতো অনুষ্ঠান সাজাতে হয়। যারা অর্থ নিচ্ছেন তাদের উচিত নিজস্বতা হারিয়ে না ফেলা”

নিজস্বতা আর ব্রান্ডিং এই দুইয়ের পক্ষে বিপক্ষে যুক্তি তর্ক চলছে তবে থেমে নেই মানুষের বৈশাখী উৎসব।
সূত্র:বিবিসি বাংলা

নিউজবিডি৭১/আর কে/১৪ এপ্রিল ২০১৫

Share.

Leave A Reply