১৮ই জুলাই, ২০১৮ ইং মিঠা পানির কুমিরের বিলুপ্তি ঠেকাতে কৃত্রিম উপায়ে ইনকিউবেটরে ২২টি ডিম
Mountain View

মিঠা পানির কুমিরের বিলুপ্তি ঠেকাতে কৃত্রিম উপায়ে ইনকিউবেটরে ২২টি ডিম

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
বাগেরহাট করেসপন্ডেন্ট : বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহঃ) মাজারের দীঘির মিঠা পানির কুমিরের বিলুপ্তি ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে। কৃত্রিম উপায়ে কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটাতে ইনকিউবেটরে বসানো হয়েছে মিঠা পানির কুমিরের ২২ টি ডিম। তবে এই ডিম দিয়ে বাচ্চা ফুটবে কিনা সেজন্য আগামী ৪৫ দিন অপেক্ষায় থাকতে হবে।

গত ২০/২৫ দিন আগে মাজারের দীঘির দক্ষিণ পাড়ে একটি কুমির প্রায় ৫৫টি ডিম পাড়ে। খবর পেয়ে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের একটি বিশেষজ্ঞ দল সেখানে গিয়ে ২২ ডিম সংগ্রহ করে। এই ডিম থেকে কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফুটাতে ডিমগুলো ইনকিউবেটরে বসানো হয়। কুমির বিশেষজ্ঞরা সার্বক্ষণিক নজর রয়েছেন ইনকিউবেটরের দিকে। বাচ্চা ফুটলে তাদের নেয়া এই উদ্যোগ সফল হবে বলে মনে করছেন ওই কর্মকর্তারা।

খানজাহান আলী ( রহঃ) শাসনামলে তার হাতে ছাড়া সর্বশেষ বংশধর কালাপাহাড় ও ধলাপাহাড় বেঁচে থাকতে মিঠা পানির কুমিরের বিলুপ্তি ঠেকাতে ২০০৫ সালে ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক থেকে ৬টি কুমির এনে এই মাজারের দীঘিতে ছাড়া হয়। মাদ্রাজ থেকে এনে ছাড়া ওই কুমিরের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় সংঘর্ষে কালাপাহাড় গুরুতর আহত হয়। এর কিছুদিন পর কালাপাহাড় মারা যায়। এরপর খানজাহানের হাতে ছাড়া অবশিষ্ট থাকে ধলাপাহাড়। সেটিও চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারী মারা যায়।

২০০৫ সালের ভারতের মাদ্রাজ ক্রোকোডাইল ব্যাঙ্ক থেকে এনে ছাড়া মিঠা পানির কুমির গত কয়েক বছর ধরে ডিম দিলেও তাতে নতুন করে কোন বাচ্চা ফুটছে না। ফলে এই দীঘিতে মিঠা পানির কুমির রক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টরা। তাই এখন মিঠা পানির কুমিরের ডিম সংগ্রহ করে তা দিয়ে কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফোটানোর উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

খুলনা বিভাগীয় প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ডাঃ মোঃ নূরুল আমীন জানান, বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ:) ঐতিহাসিক দিঘির শতবর্ষী কুমির মারা যাওয়ার পর আমরা কৃত্রিম উপায়ে বাচ্চা ফুটানোর উদ্যোগ নেই। খানহাজান আলী (রহ:) দিঘির কুমিরের পাড়া ডিম থেকে প্রথমে ২২ ডিম সংগ্রহ করা হয়েছে। তা ইনকিউটিবরে বসানো হয়েছে। এই ডিম থেকে বাচ্চা ফুটলে বিলুপ্ত প্রায় মিঠাপানির কুমির রক্ষা হবে। ৬০-৭০ দিনের মধ্যে কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে বলে তিনি দাবী করেন।

বাগেরহাটে জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাংগীর আলম জানান, ঐতিহাসিক হযরত খানজাহানের (রহ.) স্মৃতিকে রক্ষা করতে কৃত্রিম উপায়ে ডিম থেকে বাচ্চা ফুটানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই উপায়ে যদি বাচ্চা ফুটানো সম্ভব হয় তাহলে বাংলাদেশের মিঠাপানির কুমির বংশ বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

নিউজবিডি৭১/আর কে/ সামছুর রহমান/৮ এপ্রিল ২০১৫

Share.

Leave A Reply