[english_date] মির্জাগঞ্জে নয়াগাঙ্গলী ও মালিবাড়ি খালটি অবৈধ দখলে
Mountain View

মির্জাগঞ্জে নয়াগাঙ্গলী ও মালিবাড়ি খালটি অবৈধ দখলে

0

নিউজবিডি৭১ডটকম
পটুয়াখালী করেসপন্ডেন্ট : পটুয়াখালী জেলা মির্জাগঞ্জ উপজেলার নয়াগাঙ্গলী দখল করে বাড়ি-ঘড় নির্মান করছেন প্রভাবশালীরা। এতে উপজেলার পূর্ব সুবিদখালী এলাকার প্রায় দুই হাজার একর দো’ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে এলাকার মানুষের ফসলের ব্যপক ক্ষতির আশংকা রয়েছে। সরেজমিনে এলাকাবাসির সাথে কথা বলে জানা জায়, উপজেলার সুবিদখালী গার্লস সংলগ্ন দক্ষিনে একটি বক্সকালর্ভাট দক্ষিন পাশে বাঁশের পিলার দিয়ে বালি ফেলে খালটি ভরাট করছে মোঃ মোসারফ হোসেন। তার পাশেই খালটির উপর বাঁধ দিয়ে ছোট একটি ডোবা কেটে দখলে নিয়েছে মোঃ সেরাজ আলী ও সানু হাওলাদার।

এলাকার জাহাঙ্গীর মৃধা জানান,সরকার যখন খাল বাঁচাও নদী বাঁচাও কর্মসূচি হাতে নিয়েছে ঠিক তখনই একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকারি খাল ভরাট করে নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে। এদিকে উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মালিবাড়ির খাল দখলের কবলে পড়ে বর্তমানে অস্তিত্ব হারাতে বসেছে। অবৈধ দখলদাররা যেভাবে পাকা-ঘরবাড়ি দোকান ঘর নির্মাণ করে নির্বিঘে বসবাস ও ব্যবসা করছেন, এতে মালিবাড়ির খাল আস্তে আস্তে বর্তমান রূপকথার গল্প হয়ে যাচ্ছে। ভূমি অফিসের একশ্রেণীর অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে উপজেলা কোর্ট মসজিদ থেকে গার্লস স্কুল পর্যন্ত যে যার মতো করে দখল করে পাকা, আধা-পাকা,টিনশেড বিল্ডিং তৈরি করে বসবাস করছেন। দেখে বোঝার উপায় নেই যে এটি মালিবাড়ির খাল ছিল। সরকারি জায়গা দখলের প্রবনতা দিন দিন বৃদ্ধি পেলেও তা রোধে কর্তৃপক্ষের কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এ খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ার ফলে উপজেলায় কৃষি কাজে শুরু হয়েছে ব্যাপক বিপর্যয়। শুকনো মৌসুমে দেখা দেয় সেচ সংকট আর বর্ষা মৌসুমে সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধাতা। এতে পচেঁ যায় লাখ লাখ টাকার ফসল। সেচ সংকটে রবিশস্যের আবাদেও বিপর্যয় নেমে আসে। সরকার বদল হলেও এসব দখলদার গায়ের জোরে খাল দখল করে বাধঁ দিয়ে বাড়ি ঘর বানাচ্ছে। অপরদিকে মালিবাড়ি খালের অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে জেলা ভূমি অফিস থেকে উচ্ছেদ অভিযানের জন্য তাদেরকে নোটিশ দেওয়া হলেও তাঁরা তাদের ঘর-বাড়ি সরিয়ে নিচ্ছে না। উপজেলা ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মচারীদের যোগসাজস থাকার কারনে উচ্ছেদ অভিযান থমকে আছে অজ্ঞাত কারনে। এব্যাপারে উপজেলা ভূমি অফিসের সারভেয়ার মোঃ আনিসুর রহমান জানান,অবৈধ দখলদারদের বাড়ির মালিকদের নোটিস দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারা অনেকেই সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন। আমি এই প্রথম শুনলাম সরকারি জমির বিরুদ্ধে আদালত মামলা নিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ভূমি সহকারি কমিশনার কর্মকর্তা(ভূমি) মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম বলেন, মালিবাড়ি খালটি দখলের ঘটনা আমি জানি না। তবে অবৈধ দখলদারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের নোটিস হয়ে থাকলে অবশ্যই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজবিডি৭১/আর কে/বাদল/১ এপ্রিল ২০১৫

Share.

Leave A Reply