২১শে আগস্ট, ২০১৭ ইং পিরামিড আর সোনালী আঁশকে এক সুঁতোয় বেধেছেন যিনি

পিরামিড আর সোনালী আঁশকে এক সুঁতোয় বেধেছেন যিনি

0

মধ্যপ্রাচ্যের দেশ মিশর। ঐতিহ্যমন্ডিত ইতিহাস এবং পিরামিডের জন্য সুপরিচিত এবং জনপ্রিয়ও বটে। অন্যদিকে বাংলাদেশের অবস্থান এশিয়ার দক্ষিনাঞ্চলে। দুই দেশের মাঝে দূরত্ব সাত সমুদ্র তের নদী, কিংবা তার চেয়েও বেশি। তথাপি, দুই দেশের মাঝে বোঝাপড়াটা অতি চমৎকার এবং সম্পর্কটাও বন্ধুপ্রিয়। আর যে ব্যক্তিটি এ অসাধ্য সাধন করে পিরামিডের দেশ মিশর এবং সোনালী আঁশের দেশ বাংলাদেশের মাঝে এ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করতে সফল হয়েছেন তিনি আর কেউ নন, বাংলাদেশে মিশরের রাষ্ট্রদূত জনাব মাহমুদ ইজ্জাত

DSC_0511

নিউজবিডি৭১ডটকমের সাথে এক চা-আলাপে তিনি ব্যক্ত করেছেন তার কিছু না বলা কথা এবং দিয়েছেন কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তরও। নিউজবিডি৭১ পরিবারের পক্ষ থেকে সেই চা-আলাপে অংশ নিয়েছেন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট উপমা এবং  ফটো সাংবাদিক আলমগীর হোসেন

চলুন জেনে নিই কি ছিলো জনাব মাহমুদ ইজ্জাতের সেই না বলা কথাঃ

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ শুভ অপরাহ্ন স্যার! কেমন আছেন?
মাহমুদ ইজ্জাতঃ আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহ ভালো রেখেছেন। আপনাদেরও শুভ অপরাহ্ন!

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ বাংলাদেশে মিশরের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কতদিন যাবত আছেন?
মাহমুদ ইজ্জাতঃ দায়িত্ব চেয়ার পর থেকে চার বছর ধরে আছি বাংলাদেশে। সাধারণত আমাদের কর্মজীবনের মেয়াদ চার বছরই হয়ে থাকে। তবে, আমাকে আরেকটু বেশী সময় থাকার অনুমতি দিয়েছে।

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ এতো খুশির খবর, অভিনন্দন আপনাকে!
মাহমুদ ইজ্জাতঃ ধন্যবাদ! বাংলাদেশের মানুষদের পাশে আরও কিছুদিন থাকার সুযোগ পেয়ে আমিও অনেক খুশি।

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ আপনার কাছে বাংলাদেশ কেমন লাগছে?
মাহমুদ ইজ্জাতঃ প্রথম দিন যখন বাংলাদেশ এসেছি মনে হয়েছে আমি আমার বাড়িতে এসেছি। কর্মচারীদের অভ্যর্থনায় মনে হয়েছে এরা আমার পরিবারের সদস্য। এ দেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য সম্পর্কে আমার খুব একটা ভালো জানা ছিলো না। জানার পর আমি এটার প্রতি মুগ্ধ হয়েছি। তাই, দুই দেশের মাঝে সম্পর্কের উন্নয়নে আমি আন্তরিকভাবে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ মিশর এবং বাংলাদেশের আন্তঃসম্পর্ক কেমন?
মাহমুদ ইজ্জাতঃ অনেক ভালো। আব্দুল ফাত্তাহ এল সিসি রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের খুব ভালো বন্ধু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসার পরে দুই দেশের আন্তঃসম্পর্কের উন্নয়ন হয়েছে। বাংলাদেশী ছাত্র ছাত্রীদের জন্য ১৫টি বৃত্তি ব্যবস্থাপনা করা হয়েছে মিশরের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে। বাংলাদেশএর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মিশরে অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের শিশুদের জন্য অনেক রকম কাজ করা হয়। অনেক রকম প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। ইজিপ্ট ইন আইস অফ চিল্ড্রেন নামের বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রত্যেক বছর ৩-৫জন করে বাংলাদেশী শিশুরা জয়ী হয়ে আসছে। আমি এটা তাদের সাথে আনন্দের সাথে উদযাপন করি। আমি দুই দেশের আন্তঃসম্পর্ক উন্নয়নের ব্যাপক চেষ্টা করছি। দুই দেশের ব্যবসায়ীদের অনুপ্রাণিত করছি। নানা রকম সুযোগ সুবিধা দিচ্ছি। যার ফলে এখন বাংলাদেশ আর মিশরের কম্পিটিটরদের মাঝে কমার্শিয়াল ব্যালেন্স হলো ১০০মিলিয়ন ডলার।

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ মিশরে আনুমানিক কতজন বাংলাদেশী আছে। আর কোন পেশায় সবচেয়ে বেশী অগ্রাধিকার দেয়া হয়?
মাহমুদ ইজ্জাতঃ মিশরে ২৫০০বাংলাদেশী আছে। বস্ত্র, কন্সট্রাকশন, ট্যুরিজম খাতে বাংলাদেশী কর্মীদের ব্যাপক সুনাম রয়েছে। তবে বস্ত্রখাতে বেশী প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ মিশরে অধ্যয়ণরত বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের কি ধরণের সুবিধা দেয়া হচ্ছে?
মাহমুদ ইজ্জাতঃ প্রতি বছরই বাংলাদেশী ছাত্রছাত্রীদের জন্য ১৫টি স্কলারশীপ/শিক্ষাবৃত্তির ব্যবস্থা রয়েছে আল আজহার, কায়রো আর আলেকজান্ডার/আলেকজান্দ্রা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এর বাইরে কেউ যদি পড়াশোনা করে তাহলে তাকে নিজ খরচে পড়াশোনা করতে হবে।

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ বাংলাদেশ আর মিশরের সম্প্রতি কোন চুক্তি সাক্ষর হয়েছে কি? হয়ে থাকলে তার ব্যাপারে কিছু বলুন।
মাহমুদ ইজ্জাতঃ গত বছরে আমি বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির উন্নয়নে মিশরের হয়ে প্রতিনিধি হিসেবে একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছি মিশর এবং বাংলাদেশের মাঝে। দুই দেশের বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির উন্নয়নে আর বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির সম্পর্কের উন্নয়নে কো -অপারেট করার জন্য এই চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। বাংলাদেশের প্রশিক্ষিত ছেলেমমেয়েরা মিশরে প্রফেসর এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ পাবে। মিশরের ছেলেমেয়েরাও একই ক্ষেত্রে বাংলাদেশে কাজ করার সুযোগ পাবে।

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ বাংলাদেশ থেকে আসা শ্রমিকদের আপনার সরকার কি ধরণের সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে?
মাহমুদ ইজ্জাতঃ বাংলাদেশি শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে কিছু ক্ষেত্রে থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। বাংলাদেশের শ্রমিকেরা অনেক ডেডিকেটেড সৎ এবং খুবই পরিশ্রমী।

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ আপনি এর আগে বলেছিলেন ট্যুরিজমে বাংলাদেশী শ্রমিকের ভূমিকা ব্যাপক।এর ব্যাপারে কিছু বলেন?
মাহমুদ ইজ্জাতঃ তারা অনেক পরিশ্রমী। স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করে। তাদের অগ্রাধিকার দেয়ার চেষ্টা করছি। তাদেরকে মিশর আর বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস আর ঐতিহ্য সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করি। মিশরীয়দের বাংলাদেশে আর বাংলাদেশীদের মিশরে যাওয়ার জন্য অনুপ্রাণিত করি। মিশরীয়রা বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস, ঐতিহ্য, কুটির শিল্প অনেক পছন্দ করেছে।

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ বাংলাদেশ থেকে গড়ে কত জন মিশরে যাচ্ছে ট্যুরিস্ট হিসেবে।আর মিশরীয়রা কি বাংলাদেশে আসছে?
মাহমুদ ইজ্জাতঃ প্রতি মাসে গড়ে ১০০জন করে বাংলাদেশীরা  যাচ্ছে পর্যটক হিসেবে। আর প্রতি মাসে ২০-২৫ জন মিশরীয়রা বাংলাদেশে পর্যটক হিসেবে ভ্রমণে আসছে। আশা রাখি ভবিষ্যতে এর সংখ্যা আরো বাড়বে।

DSC_0529

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ আমরা অন্য দেশের তুলনায় মিশর থেকে কম খরচে ফল আমদানি করতে পারি তা কেন করা হচ্ছে না?
মাহমুদ ইজ্জাতঃ অবশ্যই পারি। কিন্তু কিছু প্রতিবন্ধকতা থাকায় এটা করা যাচ্ছে না। মিশর আর বাংলাদেশের মাঝে সরাসরি যোগাযোগের কোন উপায় নেই। যাত্রীদের আসা যাওয়া, মালামাল আদান প্রদান করার ক্ষেত্রে রুট হলো কাতারের দোহা, কুয়েত এবং দুবাই এয়ারপোর্ট। যা একটি লং জার্নির মত। আর তাতে অনেক বেশী খরচ পরে যায়। শিপিং এর ক্ষেত্রে একই অবস্থা। এজন্যই ব্যবসায়ীরা আগ্রহী হলেও অতিরিক্ত খরচ আর আমদানি রপ্তানির সহজ সুবিধা না পাওয়ার জন্য নিরুতসাহিত হচ্ছে।

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ বাংলাদেশ আর মিশরের মাঝে রপ্তানী সংক্রান্ত ঘাটতি লক্ষ্যনীয়। এটা কেন?
মাহমুদ ইজ্জাতঃ মালামাল বহনের অতিরিত খরচ আর ডিরেক্ট আসার কোন রুট নেই। তাই ব্যবসায়ীরা অনুপ্রাণিত হয়েও নিরুতসাহিত হয়।

নিউজবিডি৭১ডটকমঃ নিউজবিডি৭১ডটকমের পাঠকদের উদ্দেশ্যে অনুসরণীয় কিছু বলুন।
মাহমুদ ইজ্জাতঃ  সাধারণ কিছু বলবো না। নিউজবিডি৭১ডটকমের সকল কলাকুশলীদের অসংখ্য ধন্যবাদ আমাকে হটসীটে আমন্ত্রণ জানিয়ে আমার না বলা কথা শেয়ার করার সুযোগ প্রদানের জন্য। নিউজবিডি৭১ডটকম অনলাইন বাংলা খবরে একটি অসাধারণ পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে। যা আমি নিজেই দেখেছি। আর ইংরেজী ভার্সনও অনেকটা এগিয়েছে। করবো অদূর ভবিষ্যতে নিউজবিডি৭১ডটকম বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ নিউজ পোর্টালের একটা হবে বলে আমার বিশ্বাস। আমি সবসময় নিউজবিডি৭১ পরিবারের সদস্য হয়ে থাকতে চাই।

নিউজবিডি৭১/ আর কে/উপমা/ফটো- আলমগীর/২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৫

image_print
Share.

Leave A Reply