২৩শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং জীবন যুদ্ধে জয়ী ডঃ সাবরীনার মূলমন্ত্র ছিল আত্মবিশ্বাস

জীবন যুদ্ধে জয়ী ডঃ সাবরীনার মূলমন্ত্র ছিল আত্মবিশ্বাস

0

নিউজবিডি৭১ডটকম
তুলে ধরা হলো একজন সাহসী এবং উদ্ধমী নারী ডঃ সাবরীনা এ চৌধুরীর জীবনী। একজন নারী হয়েও পড়াশোনা করেছেন কার্ডিয়াক সার্জারির উপর যে খানে আমাদের দেশের মেয়েদের অংশগ্রহন নেই বললেই চলে। ডঃ সাবরীনা এ চৌধুরীর বাবা সৈয়দ মোশাররফ হোসেন এবং মা ইশোয়ার জেসমিন। দুই বোনের মধ্যে বড় সাবরীনা এ চৌধুরী। বর্তমানে তিনি জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিউট কার্ডিয়াক সার্জন হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। কথা বললাম সাবরীনা এ চৌধুরীর সাথে।

উপমাঃ কেমন আছেন?

ডঃ সাবরীনাঃ ভাল আছি। আপনারা কেমন আছেন?

উপমা: জ্বী আমরা ভাল আছি। আপনাকে ধন্যবাদ। কেন ডাক্তার হওয়াকে পেশা হিসেবে নিলেন কিছু বলেন?

ডঃ সাবরীনাঃ ডাক্তার হলে মানুষের কাছাকাছি যাওয়া যায়। মানুষের শরীরের আর মনের কথা জানা যায় আর বোঝা যায়। তাই এই ইচ্ছা জাগা।

উপমাঃ কেন কার্ডিয়াক সার্জারি নিয়ে পড়াশোনা করলেন?

ডঃ সাবরীনাঃ আমার ভাই নেই। তাই বাবা মায়ের ইচ্ছা ছিল আমরা দুই বোন ছেলেদের মত করে বড় হব। হটাৎ একবার খোঁজ নিয়ে দেখলাম বাংলাদেশে কোন মহিলা কার্ডিয়াক সার্জন নেই। তাই হয়ে দেখানোর ইচ্ছা জাগলো মনে।

জীবন যুদ্ধে জয়ী ডঃ সাবরীনার মূলমন্ত্র ছিল আত্মবিশ্বাস

জীবন যুদ্ধে জয়ী ডঃ সাবরীনার মূলমন্ত্র ছিল আত্মবিশ্বাস

উপমাঃ আপনার পরিবারে কেউ চিকিৎসক পেশায় নিয়োজিত আছেন কি?

ডঃ সাবরীনাঃ না। তবে আমার নানা শহীদ বুদ্ধিজীবি ফজলে রাব্বী আর নানী জাহানারা আলী দুজনেই ডাক্তার ছিলেন।

উপমাঃ আপনার অনুপ্রেরণা কে ছিল?

ডঃ সাবরীনাঃ  স্যারেরা। প্রফেসর অসিত বরণ অধিকারী, প্রফেসর বুলবুল, প্রফেসর আফতাবুদ্দিন, প্রফেসর  কামরুল হাসান মিলন আমার এ কাজে আমাকে অনুপ্রেরনা যুগিয়েছে।

উপমাঃ এমন ঝুকিপূর্ণ অপারেশনের সময় কিভাবে মানষিক ভাবে স্থিতিশীল থাকেন পরিবার ও কর্মজীবনে সময় দেয়ার পরেও?

ডঃ সাবরীনাঃ যখন কর্মজীবনে যাই তখন আমি পৃথিবী  থেকে আলাদা হয়ে যাই। বিচ্ছিন্ন হয়ে যাই। রোগীকে OT TABLE এ তোলা থেকে আইসিইউতে  stable করা পর্যন্ত  ৬-৮ ঘন্টা সময় আমি কারো সাথে  যোগাযোগ করি না। অন্য দিকে মনোযোগ দেই না। সমস্ত মনযোগ  রোগীর দিকে থাকে। না হয় তো অপারেশন করা যাবে না।

উপমাঃ  প্রথম অপারেশনের অনুভুতি কি ছিল?

ডঃ সাবরীনাঃ অনেক বেশী এক্সাইটেড ছিলাম। ভয় করছিলো। ভুল হয়ে গেলো নাকি বার বার এমনি চিন্তা আসছিল মনে ।

উপমাঃ বাংলাদেশে ২য় নারী কার্ডিয়াক সার্জন হিসেবে আপনার অনুভুতি কি ছিল?

ডঃ সাবরীনাঃ বাংলাদেশের প্রথম মহিলা কার্ডিওলজিস্টদেশে নেই। আমি যেহেতু একমাত্র এটা অনেক বেশী খুশির ব্যাপার ছিল। কাজ শিখেছি যদি ভাল কিছু না করতে পারি তাহলে কিসের স্বার্থকতা। মানুষের জন্য কিছু করে দেখাতে চাই।

উপমাঃ কর্মজীবন আর পারিবারিক জীবনে কিভাবে সামঞ্জস্য বজায় রাখেন?

ডঃ সাবরীনাঃ কর্মজীবনই আমার জীবন। বিয়ে করেছি ৮ মাস আগে। আমার স্বামী আরিফ চোধুরি। সে আমাকে অনেক অনুপ্রেরণা দেয়।

উপমাঃ কার্ডিয়াক সার্জন হিসেবে বাংলাদেশে বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারীদের অবস্থান কিভাবে দেখেন?

ডঃ সাবরীনাঃ নারীরা এখনো এ সেক্টরে আসা শুরু করেনি আমি মনে করি তারা আমার মত বেশ কিছু সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। নারীদের সংখ্যা বাড়লে আশা করি ভবিষ্যতে তেমন সমস্যার সম্মুক্ষিন হতে হবে না। মেয়েরা এখানে খুব ভাল করবে বলে আমি আশাবাদী।

উপমাঃ আপনি কি ধরনের সমস্যার সম্মুক্ষীন হয়েছেন?

ডঃ সাবরীনাঃ  পড়াশোনার সময় আমি দেখেছি মেয়েদের জন্য আলাদা ক্লাস রুম, ওয়াশরুম কোন কিছু নেই। আর কোন কিছু করতে গেলেই শুনতে হয় আরে সে তো মেয়ে পারবে তো। এমন ধরনের কথার কারনে অনেক সময় উৎসাহ হারিয়ে ফেলতাম। কিন্তু মনে ছিল আমাকে পারতেই হবে তাই হয়তো আজ এখানে আমি ড. সাবরীনা এ চৌধুরী।

উপমাঃ অবসর সময়ে কি করেন?

ডঃ সাবরীনাঃ  গাড়ি চালাই আর গান শুনি। মাঝে মাঝে বই পড়ি। তবে গাড়ী চালাতেই বেশি ভালবাসি।।

উপমাঃ বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা সম্পর্কে কিছু বলুন?

ডঃ সাবরীনাঃ আমি মনে করি বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশের চিকিৎসাব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। সরকারী হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে এন্টিবায়োটিক, ভাল্ব, অক্সিজেনেটর বরাদ্দ করা আছে। আর এই তিনটি সার্ভিস সম্পূর্ণ ফ্রি। সারা বিশ্বের চেয়ে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম খরচে কার্ডিয়াক সার্জারি করানো হয়। খরচ মাত্র ৩০০০০ টাকা পরে।

উপমাঃ আপনার ভবিষ্যত পরিকল্পনা কি?

ডঃ সাবরীনাঃ  খুব ভালো সার্জন হতে চাই। যেসব বাবা মায়েদের ছেলে নেই বলে সূক্ষ্ম দুঃখবোধ আছে তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হতে চাই।

উপমাঃ নিউজবিডি৭১ এর পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

ডঃ সাবরীনাঃ  নিউজবিডি৭১ এর সকল পাঠকদের আমার পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। একটাই মন্তব্য মেয়েরা চাইলে যেকোন কিছু করতে পারে। এগিয়ে আসো মেয়েরা তাহলেই সকল সমস্যা দূর হবে।

নিউজবিডি৭১/ আর কে/উপমা/মারুফ(ফটো)/ ১ সেপ্টেম্বর ২০১৫

image_print
Share.

Leave A Reply