[english_date] সাতক্ষীরা-৪: আকাশচুম্বী জনপ্রিয় সাংসদ জগলুল
Mountain View

সাতক্ষীরা-৪: আকাশচুম্বী জনপ্রিয় সাংসদ জগলুল

0

নিউজবিডি৭১ডটকম

স্পেশাল করসপনডেন্স : সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার। প্রথম বারের মতো জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হয়ে সাধারন মানুষের মন জয় করে নিয়েছেন।তার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নানা শ্যামনগর থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ব্যতিক্রমী মানবিক কর্মকান্ড, ব্যাপক উন্নয়ন, স্বভাব সুলভ ব্যবহার, অসহায় মানুষের সাহায্য সহযোগিতা এবং মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে খোঁজ খবর নেয়ার মাধ্যমে সাধারন মানুষের প্রিয়জন হয়ে উঠেছেন। যে কারণে নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে এই সাংসদের জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী ।

সাধারন মানুষের হৃদয় জয় করা এই জনপ্রতিনিধি এখন সারা দেশের মানুষের কাছে অত্যন্ত পরিচিত একটি নাম। সংসদ সদস্যের নাগাল পেতে যেখানে এলাকার সাধারন মানুষকে বেগ পেতে হয় সেখানে গত পাঁচ বছর এই সংসদ সদস্যের বেলায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। ঢাকায় সংসদ অধিবেশন ও জরুরি কাজ ছাড়া সার্বক্ষণিক এলাকায় অবস্থান করে মানুষের কাছাকাছি থাকেন। প্রতিদিন জনগনের সুঃখ দুঃখের খোঁজ খবর নিতে বিভিন্ন গ্রামে, পাড়া- মহল্লায় ছুঁটে যান। যাপরনাই এলাকার গরিব দু:খী সাধারন মানুষ তার উপর খুশি।

তার সবচেয়ে বড় গুণ অসহায় মানষের কথা শুনলেই ছুঁটে যান তার বাড়িতে। সাহায্য সহযোগিতা করেন সাধ্যমতো। অতি সাধারন এ মানুষটি হতদরিদ্রের জীর্ণ কুটিরে বসে তাদের সঙ্গে খাবার খান। গভীর রাতে অভুক্তের বাড়ীতে বাজার নিয়ে সদাই হাজির হন।

ভ্যান চালক, দিনমুজুর, কৃষক, শ্রমিক, বৃদ্ধ, সাধারন মানুষ সবার সঙ্গে অতি সহজেই মিশে যান। তাদেরকে কাছে পেলেই বুকে জড়িয়ে ধরেন। তাদের সঙ্গে খোশগল্প আর আড্ডায় মেতে ওঠেন। এলাকার মানুষের কাছে মেজ ভাই হিসেবে পরিচিত তিনি। এ নামেই তিনি থাকতে পছন্দ করেন। স্যার বললে তার সোজাসাপটা উত্তর আমি কারো শিক্ষক নই, আমি আপনাদের ভাই আপনাদেরই সন্তান। তার সেই চিরাচরিত স্বভাব সুলভ ব্যবহার সাধারন মানুষকে মুগ্ধ করে। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে পারছেন না এমন মানুষের খোঁজ পেলে আর্থিক সহযোগিতা করেন।

অতি সহজেই সাধারন মানুষকে আপন করে নেয়ার মতো অসাধারন ক্ষমতা রয়েছে সাংসদ জগলুল হায়দারের মধ্যে। শ্রমিকদের কাজে উৎসাহ যোগাতে গায়ে গেঞ্জি, লুঙ্গি গিট মেরে মাথায় গামছা বেঁধে তাঁদের সঙ্গে কাজে নেমে পড়েন। নিজেই মাথায় মাটির ঝুঁড়ি নিয়ে বাঁধে মাটি ফেলেন। কৃষকের সঙ্গে মাঠে লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করেন। জমিতে শ্রমিকেরসঙ্গে বসে তদের আনা মরিচ-পিঁয়াজ দিয়ে পান্তা ভাত খান। গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানোর সময় প্রায়ই সময় কোন না কোন গরির দু:খীর বাড়ীতে ঢুকে সেই বেলার খাবার সেরে নেন। সেসব পরিবারের সবাইকে সঙ্গেনিয়েখাবার খান।

রোজার সময় ভিক্ষুকের বাড়ীতে ইফতার নিয়ে হাজির হন জগলুল হায়দার। পাগল, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধদের মুখে নিজ হাতে খাবার তুলে দেন। তাদের চিকিৎসা, বাসস্থান ও খাবারের ব্যবস্থা করেন। একজন মুমূর্ষ রোগীকে বাঁচাতে রক্তদাতা যোগাড়ের জন্য গভীর রাতে জনহিতৈষী সংস্থার একজনের স্বেচ্ছাসেবকের ফোন পেয়ে নিজেই হাসপাতালে গিয়ে রক্ত দিয়েছিলেন। শতবর্ষী এক বৃদ্ধা বিছানায় শয্যাশয়ী, অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসক-ওষুধ নিয়ে  সেই রাতেই হাজির হয়েছিলেন তার বাড়ীতে।

ঈদ ও পূজার সময় উপহার সামগ্রী নিয়ে রাতের আঁধারে নিজেই অস্বচ্ছল মানুষদের বাড়ী বাড়ী যান। রাত দুপুরে বাড়ীর সামনে গিয়ে চাচা, ভাই অথবা চাচী-ভাবী ইত্যাদি নামে ডাক দিয়ে বলেন,তোমাদের জগলুল এসেছে। বেরোও, একটু দেখা করো, তোমাদের জন্য উপহার সামগ্রী নিয়ে এসেছি।

মাদকের থাবা থেকে তরুণ সমাজ কে বাঁচাতে তিনি অত্যন্ত কঠোর। মাদকাসক্তের খোঁজ পেলে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছেন। নির্বাচনী এলাকার হাজার হাজার মানুষকে নিয়ে মাদক ও জঙ্গীবাদ বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ পাঠ করিয়েছেন। এছাড়া সচেতামুলক কার্যক্রম গ্রহণের পাশাপাশি স্কুল কলেজে গিয়ে শিক্ষার্থীদের এর ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে বুঝিয়েছেন। শিক্ষর্থীরা ঠিকমতো লেখাপড়া করছে না তা দেখতে রাতে ছাত্রাবাস ও মেসে যান। হাসপাতালে চিকিৎসক সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কিনা তা সরেজমিন দেখতে গভীর রাতে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান।

ঝড়ো বিপদ সংকেতের মধ্যেওমানুষের খোঁজ খবর নিতে গভীর রাত অবধি উপকূলীয় এলাকার গ্রাম গুলিতে সাইরেন বাজিয়ে ঘুরে ঘুরে তাদের সাহস যুগিয়েছেন। যে কোন প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার, প্রশাসন এবং তার নিজের  প্রস্তুতির কথা জানান। বিপদগ্রস্ত জনগনের যোগাযোগের জন্য সারারাত তার মোবাইল ফোন খোলা রেখে নিজেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।  যে কারণে জনগনের কাছে ঝড়ো রাতে জগলুলনিজেই কন্ট্রোল রুম হিসেবে পরিচিত।

জগলুল হায়দার সামাজিক কর্মকান্ডমূলক এমন কোন কাজ নেই যা তিনি করেননি। তিনি অধিকাংশ সময় নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করে মানুষের সেবা করেন। গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানোর সময় এই সংসদ সদস্যকে বিভিন্ন মোড়ে অথবা চায়ের দোকানে দিনমুজুর, কৃষক, শ্রমিক, ভ্যানচালক, হতদরিদ্র মানুষকে সঙ্গে নিয়ে চা-ডাব অথবা তরমুজ খাওয়া এবং খোশগল্প-আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা গেছে।

সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই স্থানীয় পর্যায়ে দল শক্তিশালী করার উদ্যোগ গ্রহণ করেনজগলুল হায়দার। গত পাঁচ বছরে তিনি তৃণমূল নেতা নেতা কর্মীদের আগলে রেখেছেন।তার উদ্যোগে দুই উপজেলার ২০টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের স্থায়ী অফিস নির্মাণ করা হয়েছে। যা জেলার আর কোন সংসদীয় এলাকাতে নেই। তিনি নিয়মিতভাবে উপজেলা থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের খোঁজ খবর রাখেন। তাদেরকে বিভিন্নভাবে সুযোগ-সুবিধা দেয়ার পাশাপাশি সুখ দু:খের খোঁজ খবর নিয়েছেন। যে কারণে নির্বাচনী এলাকার ২০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি এখন তার সঙ্গে রয়েছে। তার প্রতিটি পথসভা, গণসংযোগ, জনসভা সব জায়গাতেই জনতার ঢল নামে।

সাংসদের উদ্যোগে নির্বাচনী এলাকায় গরিব-দুস্থদের সহায়তা কার্ডে বাধ্যতামূলকভাবে বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি শোভা পাচ্ছে। উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উদ্ভোধনী ফলকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম কৃতজ্ঞতা স্বীকারে লেখা হয়। তার উদ্যোগেই প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ীতে নেমপ্লেট স্থাপন করা হয়েছে। দুই উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণকরা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি রক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হচ্ছে।

জগলুল হায়দার মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে ভ্যানে চেপে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়িয়েছেন। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শুনিয়েছেন,জামায়াত ইসলামীর ধর্মব্যবসা ও অপরাজনীতির বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়ে জনগনকে সচেতন করেছেন। প্রচার করেছেন মুক্তিযুদ্ধকালে তাদের দেশ বিরোধী ভূমিকা। গত পাঁচ বছরে জামায়াতকে আশ্রয় প্রশ্রয় দেয়া তো দূরের কথা, তার বাড়ীতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধার এই সন্তান।

উঠান বৈঠকের কারিগর বলা হয় জগলুল হায়দারকে। দলীয় সভানেত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারের উন্নয়ন ও সফলতা প্রচারে প্রায় তিনশ উঠান বৈঠক করেছেন। প্রতিটি উঠান বৈঠক নারী পুরুষ নির্বিশেষে জনতার ঢল নামে। সাধারন মানুষের সঙ্গে খড়-কুটা অথবা পাটিতে বসে সরকারের সরকারের উন্নয়ন-সফলতার কথা শোনান। শেখ হাসিনাকে আবারো দেশের প্রধানমন্ত্রী করতে নৌকায় ভোট চান।

জগলুল হায়দার শুধু ব্যতিক্রমধর্মী ও মানবতামূলক কাজ করেই থেমে থাকেননি। নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে (আংশিক) ব্যাপক উন্নয়ন ঘটিয়েছেন। যা স্বাধীনতা পরবর্তী আর কোন সময়ে এতো উন্নয়ন হয়নি। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, ব্রিজ, কালভার্ট, বাজার, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য, মসজিদ, মন্দির, কারিগরি প্রতিষ্ঠান, মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্্র ইত্যাদি এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে উন্নয়ন হয়নি। অতীতে এতো উন্নয়ন এই এলাকার মানুষ চোখে দেখেনি। গত পাঁচ বছরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অবহেলিত এই দুই উপজেলার চিত্র এখন পাল্টে গেছে। উন্নয়ন নিয়ে মানুষ সন্তুষ্ট।

প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলায় ৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছেন। প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই উপজেলায় দুটি সরকারি মডেল টেকনিক্যাল স্কুলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। খেলাধুলার জন্য দুটি মিনি স্টেডিয়াম এবং কারিগরি শিক্ষায় প্রশিক্ষিত দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে শ্যামনগরে ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) নির্মাণের কাজ এই অর্থ বছরে শুরু হবে।

শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের অধিকাংশ গ্রামের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পেঁছে গেছে। দুই উপজেলায় প্রায় ৭০০ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন বসানো হয়েছে। দূর্গম প্রান্ত পর্যন্ত পিচঢালা রাস্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাইক্লোন সেন্টারসহ অনেক অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। শ্যামনগর সরকারি কলেজে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক পাঁচ তলা দুটি আবাসিক হল নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে।

হামলা-মামলা করে সাধারন মানুষকে হয়রানির অভিযোগ নেই জগলুল হায়দারের বিরুদ্ধে। তিনি জামায়াত-শিবিরের বিরুদ্ধে ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। তার অনমনীয় অবস্থানের কারণে গত পাঁচ বছরে জামায়াত-শিবির মাঠেনামতে পারেনি।  যে কারণে জামায়াত-শিবিরের নাশকতাকারীঅনেকেই জেলে অথবা আত্মগোপনে, আবার অনেকে এলাকাছাড়া।নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি নির্বাচনী এলাকায় প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছিলেন। তিনি জামায়াত ইসলামীর দূর্গ তছনছ করেছেন। সাংগঠনিক দূর্বলতার কারণে পাঁচ বছরেএকদিনও মাঠে নামার সাহস পায়নি। নির্বাচনী তফশিল ঘোষণা করা হলেও এখনো মাঠে নামতে পারেনি স্বাধীনতা বিরোধী এ দলটি।

জগলুল হায়দারসংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা এবং সম্পদ রক্ষার প্রতি বিশেষভাবে নজর রেখেছিলেন। তাদের জন্য মন্দির নির্মাণ, সংস্কার অথবা আধুনিকায়ন এবং উৎসব পালনে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা করেছেন। যে কারণে এই সম্প্রদায়ের নেতা-কর্মীরা নির্বিঘ্নে শান্তিতে বসবাস করতে পেরেছে। তারা সাংসদের নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।

সাধারন মানুষের জন্য জগলুল হায়দারের বাড়ীর দরজা সবসময় খোলা থাকে। কেউ বাড়ীতে গেলে তাকে মিষ্টি মুখ করান। পাঁচ বছর ধরেই এটা অব্যাহত রয়েছে। ধৈর্য্য সহকারে জনগনের কথা শোনা, সাধারন মানুষের ফোন রিসিভ করা, স্বভাব সুলভ ব্যবহার এবং সমস্যা সমাধানের চেষ্টার কারণে সাধারন মানুষ তার প্রতি খুশি।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এ আসনে আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। যদি জগলুল হায়দারকে পুনরায় মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে নৌকা প্রতীক আবারো বিজয়ী করা সম্ভব হবে। দলের ভোট ব্যাংকের পাশাপাশি তার রয়েছে ব্যক্তিগত ইমেজ ও পারিবারিক ভোট ব্যাংক। ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান হওয়ায় অনায়াসেই জগলুল হায়দার নৌকাকে বিজয়ী করে আনতে পারবেনবলে মনে করেন তারা।

তারা জানান, দল ও বিভিন্ন সংস্থার জরিপে সাতক্ষীরা-৪ আসনটি আওয়ামী লীগের বিজয়ী হয়ে আসার জন্য নিশ্চিত আসনহওয়ায় মহাজোটের শরিক অন্য কোন দলের প্রার্থীকে কোনভাবেই মেনে নেবে না তৃণমূল আওয়ামীলীগ। দুই উপজেলার ২০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ। অতীতে তৃণমূল আওয়ামী লীগের মধ্যে এভাবে ঐক্য ছিল না। যে কারণে এবার তারা কোন রকম ছাড় দিতে চান না।

এছাড়া জগলুলের প্রতি নেতা কর্মীদের আস্থার আরো কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে গ্রেফতার করা হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে জগলুল হায়দার শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। যে কারণে সে সময়ের সরকারের রোষানলে পড়েন তিনি।

২০০২-২০০৭ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেনতিনি। এ কারণেও তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়। ২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত একটি দিনের জন্যও তিনি বাড়ীতে ঘুমাতে পারেননি।

২০১২ ও ২০১৩ সালেও জামায়াতের সহিংসতার বিরুদ্ধে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জগলুল হায়দার ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তার দৃঢ় অবস্থানের কারণে সে সময়ে শ্যামনগরে জামায়াত তান্ডব ঘটাতে পারেনি। যে কারণে নির্বাচনী এলাকার ২০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জগলুল হায়দারকে পুনরায় নৌকা প্রতিক দেয়ার জন্য সভানেত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।তারা মনে করেন এ আসনে জগলুল হায়দারকে নৌকা প্রতীক দেয়া হলে সহজেই বিজয়ী হয়ে আসতে পারবে।

প্রথমবারের মতো ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য হয়ে জগলুল হায়দার দেখিয়েছেন কিভাবে গরিব-দুঃখী-অসহায়ের মানুষের পাশে থেকে তাঁদের প্রিয় মানুষ হওয়া যায়। আর এ কারণেই তিনি যেখানে যান তাঁর পিছনে জনতার ঢল নামে। নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি মানুষের মুখে মুখে এখন তার জয়গান। সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের সাধারন জনগণের কাছে জগলুল হায়দারের জনপ্রিয়তা এখন আকাশচুম্বী।

নিউজবিডি৭১/বিসি/নভেম্বর ২৩, ২০১৮

Share.

Comments are closed.