[english_date] সাতক্ষীরা-৪: মহাজোটের শরিক দল মনোনয়ন পেলে নিশ্চিত ভরাডুবি
Mountain View

সাতক্ষীরা-৪: মহাজোটের শরিক দল মনোনয়ন পেলে নিশ্চিত ভরাডুবি

0

নিউজবিডি৭১ডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা-৪ আসনে নির্বাচনী সমীকরণ সবসময় জটিল। এ আসনে আওয়ামী লীগের বিপুল জনসমর্থন থাকলেও স্বাধীনতা পরবর্তী কয়েকটি নির্বাচনে কৌশলগত ভূলের কারণে জয়লাভ করতে পারেনি দলটি। এই আসনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত ইসলামীর বাইরে অন্য কোন দলের ভোট নেই। মহাজোটের শরিক কোন দল থেকে প্রার্থী করা হলে আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা তাকে বিজয়ী করার জন্য সেভাবে মাঠে নামবে না।তাছাড়া আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী বর্তমান সাংসদ জগলুল হায়দারের মতো ব্যক্তি ইমেজ, পারিবারিক ঐতিহ্য ও ভোট ব্যাংক অন্য কোন দলের প্রার্থীর নেই। যে কারণে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া মহাজোটের অন্য কোন শরিক দলকেআসনটি ছেড়ে দেওয়া হলে নির্বাচনে তার নিশ্চিত ভরাডুবি ঘটবে।

গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনেজাতীয় পার্টির প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনেওজাপাজয়লাভ তো দূরের কথা প্রার্থী দেয়ার মতো কাউকে খুঁজে পায়নি।আর বিকল্পধারার কোন অস্তিত্ব এ আসনে নেই।

মহাজোটের শরিক এই দুই দলের কোন এক দলের কাছে আসনটি ছেড়ে দেয়া হলে নিশ্চিত ভরাডুবি ঘটবে। আবারো স্বাধীনতা বিরোধী দল জামায়াত ইসলামী এ আসনে ঘাঁটি গেড়ে বসবে, ক্ষতিগ্রস্থ হবে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর নেতা কর্মী।

ভোটের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০০১ সালে এ আসনে জাতীয় পার্টি ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সঙ্গে জোট করে মাত্র ১২,৮৪৯ ভোট পায়।এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি ভোট শাসনতন্ত্র আন্দোলনের। এই দুই দল জোট করেও জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম রেজারজামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তিনি ভোট পান ৮.৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পান ৫৬,৫৫৪ ভোট। যা প্রাপ্ত ভোটের ৩৬.৬৭ শতাংশ। সে নির্বাচনে জামায়াত ইসলামী পায় ৮৪,৬১৩ ভোট অর্থাৎ ৫৪.৮৬ শতাংশ। তবে বিকল্পধারা গঠনের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে কুলা প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোট পায় মাত্র ৪৯৯টি। যা প্রাপ্ত ভোটের ০.১৫ শতাংশ। তবে বর্তমানে এ আসনে জাতীয় পার্টিএখন কাগজে কলমে। আর বিকল্পধারার কোন নেতা ও অফিস খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিকল্পধারা হতে মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম রেজার বিরুদ্ধে যত ক্ষোভ:

২০০৮ সালের নির্বাচনে আসনটিিএক প্রকার জোর জবরদস্তি করে আওয়ামী লীগের কাছ থেকে নিয়ে গোলাম রেজাকে প্রার্থী করে জাপা প্রধান এরশাদ। দলের কোন ভোট না থাকলেও জনজোয়ারের সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভোটে নির্বাচিত হন তিনি। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের সঙ্গে কথা জানা যায়, বিকল্প ধারা হতে মহাজোটের মনোনয়ন প্রত্যাশী গোলাম রেজা জাপার এমপি থাকাকালীন (২০০৮-২০১৩) আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অংগ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে কোন্দল ও বিভেদ সৃষ্টি করা হয়।

তারা জানান, সাংসদের নির্দেশে সে সময়ে শ্যামনগরের গাবুরায় একটি মিথ্যা খুনের মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র দুই নেতাকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা করা হলে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েছিল। ব্যাপক বিক্ষোভ, অগ্নিসংযোগ ও আন্দোলনের ফলে সাংসদ রেজা পিছু হটতে বাধ্য হয়। সে সময়ে তাকে শ্যামনগর আওয়ামী লীগ অবাঞ্চিত ঘোষনা করে।কালিগঞ্জে উপজেলায়ও আওয়ামী লীগেরঅসংখ্য নেতা কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে সাংসদের বিরুদ্ধে বিশাল ঝাড়ু মিছিল করে সেখানে তাকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করা হয়।

এই আসনের বিশটি ইউনিয়নের কোনটিতে জাপা অথবা বিকল্পধারার কোনো চেয়ারম্যান এমনকি ইউপি সদস্য নেই। দু’একটি জায়গায় জাপা নির্বাচন করলেও কোন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেনি।যে কারণে নেতা কর্মীরা তার প্রতি চরমভাবে ক্ষুদ্ধ।তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে। নেতাকর্মীদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হতে পারে তাকে।

স্থানীয় নেতা কর্মীরা জানান, এ আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে মহাজোটের প্রধান দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি জোট শরিক জামায়াত ইসলামীর মধ্যে।তবে মহাজোটের অন্য কোন শরিক দলকে আসনটি ছেড়ে দেয়া হলে তাদের জনবিচ্ছিন্ন নেতাদের দিয়ে আসনটি কখনো পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে না, নেতা কর্মীরাও তাকে মেনে নেবে না।

তবে গত পাঁচ বছরে এই আসনে আওয়ামী লীগের বর্তমান সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের ব্যতিক্রমী কর্মকান্ড এবং গরিব দুঃখী ও অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করার মাধ্যমেসাধারন মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় তিনি। তিনিসাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর এক সময় জামায়াতের দূর্গ হিসেবে পরিচিত এই এলাকাকে নৌকার ঘাঁটিতে পরিণত করেছেন।

এছাড়া তার কঠোর অবস্থানের কারণে গত পাঁচ বছর জামায়াত-শিবির মাঠে নামতে পারেনি।তিনি নির্বাচনী এলাকায় জামায়াতের সংগঠনকে তছনছ করেছেন। নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলায় আসামী হয়ে তাদের অনেক নেতা কর্মী কারাগারে এবং বেশিরভাগই এলাকাছাড়া। সাংসদের জামায়াত বিরোধী বিরামহীন প্রচারণার কারণে সাধারন মানুষ এখন তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তাদের সাংগঠনিক অবস্থাও নড়বড়ে। নির্বাচনী তফশিল ঘোষনার পরও তারা মাঠে নামতে সাহস পাচ্ছে না।স্বাধীনতা পরবর্তী আর কোন সময়ে তাদের এতো অসহায়অবস্থার মধ্যে পড়তে হয়নি। সাংসদ জগলুল হায়দারের বহুমূখী প্রচেষ্টার ফলে এই আসন এখন নৌকার দূর্গ হিসেবে গড়ে উঠেছে।

স্থানীয় নেতা কর্মীরা জানান, এ আসনে আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী।  এখানে জগলুল হায়দারকে যদি পুনরায় মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে নৌকা প্রতীককে আবারো বিজয়ী করা সম্ভব হবে। দলের ভোট ব্যাংকের পাশাপাশি, ব্যক্তিগত ইমেজ, পারিবারিক ভোট ব্যাংক এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সন্তান হওয়ায় অনায়াসেই জগলুল হায়দার নৌকাকে বিজয়ী করে আনতে পারবেন।

দল ও বিভিন্ন সংস্থার জরিপে সাতক্ষীরা-৪ আসনটি আওয়ামী লীগের জিতে আসার জন্য নিশ্চিত আসনহওয়ায় অন্য কোন দলের প্রার্থীকে মেনে নেবে না তৃণমূল আওয়ামীলীগ।এতে তারা কোন রকম ছাড় দিতে চান না।

এছাড়া আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা কর্মীরা জগলুলের পিছনে একাট্টা। দলের ২০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক তাকে সমর্থন জানিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা তাকে সমর্থন জানিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তান হওয়ায় সকল ‍মুক্তিযোদ্ধাতার পক্ষে মাঠে রয়েছে। অতীতে এভাবে তৃণমুল আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামেনি। যে কারণে আওয়ামী লীগ এ আসন থেকে সহজেই বিজয়ী হবে বলে মনে করেন তারা।

এ বিষয়ে শ্যামনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দেবী রঞ্জন মন্ডল নিউজবিডি৭১ডটকমকে বলেন, বর্তমান সাংসদ সবশ্রেণির মানুষের কাছে অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য। তার কারণে শ্যামনগর-কালিগঞ্জে জামায়াত ইসলামীকে হটিয়ে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগ এখন শক্ত অবস্থানে। তাকে মনোনয়ন দেয়া হলে আওয়ামী লীগ নিশ্চিত বিজয়ী হয়ে আসবে। আওয়ামী লীগ ব্যতিত মহাজোটের শরিক অন্য কোন দলকে এ আসনে প্রার্থী করা হলে নিশ্চিত তার ভরাডুবি ঘটবে।দলের নেতা কর্মীরা কোন ভাবেই জাপা অথবা বিকল্পধারার প্রার্থীকে মেনে নেবে না। তিনি আরো বলেন, এবারের নির্বাচন অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে। এ কারণে জনবিচ্ছিন্ন নেতা নয়, জনপ্রিয় নেতাদের মনোনয়ন দিতে হবে এবং তা অবশ্যই আওয়ামী লীগ থেকে।

ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক নানা কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন সফলতা প্রচারে প্রায় তিনশত উঠান বৈঠক করেছেন এই সাংসদ।তার প্রতিটি উঠান বৈঠকে নারীদের উপস্থিতি ছিল নজর কাড়ার মতো। খুলনা বেতারের এক সময়ের নিয়মিত গীতিকার জগলুল হায়দারের গণসংযোগ, পথসভা ও জনসভায় জনতার ঢল নামে। তার অসাধারন বক্তৃতা জনতাকে আন্দোলিত করে।

এছাড়া জগলুলের প্রতি নেতা কর্মীদের আস্থার কারণ ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে গ্রেফতার করা হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে জগলুল হায়দার শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। যে কারণে সে সময়ের সরকারের রোষানলে পড়েন তিনি।

এছাড়া ২০০২-২০০৭ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবেও বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ কারণেও তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়, নির্যাতন করা হয়। ২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাড়ীতে ঘুমাতে পারেননি।

২০১২ ও ২০১৩ সালেও জামায়াতের সহিংসতার বিরুদ্ধে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জগলুল হায়দার ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তার দৃঢ় অবস্থানের কারণে সে সময়ে শ্যামনগরে জামায়াত তান্ডব ঘটাতে পারেনি। যে কারণে নির্বাচনী এলাকার ২০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জগলুল হায়দারকে পুনরায় নৌকা প্রতিক দেয়ার জন্য সভানেত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।তারা মনে করেন এ আসনে জগলুল হায়দারকে নৌকা প্রতীক দেয়া হলে সহজেই বিজয়ী হয়ে আসতে পারবে।

নিউজবিডি৭১/বিসি/নভেম্বর ২১, ২০১৮

Share.

Comments are closed.