[english_date] সাতক্ষীরা-৪: মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন নৌকার, জগলুলে আস্থা আ.লীগের
Mountain View

সাতক্ষীরা-৪: মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন নৌকার, জগলুলে আস্থা আ.লীগের

0

নিউজবিডিডটকম

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাতক্ষীরা-৪ আসনে লড়বে আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এ আসনে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ প্রার্থী হচ্ছেন না। তিনি রংপুর, ঢাকা এবং নারায়নগঞ্জ থেকে একটি করে আসনে লড়বেন। জাপার বহিস্কৃত সাবেক নেতা সদ্য বিকল্পধারায় যোগদানকারী গোলাম রেজা মহাজোট হতে প্রার্থী হওয়ার যে চেষ্টা করছিলেন তাতে আপত্তি জানিয়েছে এরশাদ। জাপা ও বিকল্পধারার প্রার্থী এবং দলের কোন ভোট ও জনপ্রিয়তা এ আসনে নেই। সব জরিপে বিজয়ের জন্য আওয়ামী লীগের নিশ্চিত আসন হওয়ায় এ আসনটি ছাড়বে না ক্ষমতাসীন দল। যে কারণে রেজা মহাজোট থেকে প্রার্থী হতে পারছেন না তা এখন নিশ্চিত। আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কয়েক জন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগ পর আসনটি আওয়ামী লীগের দখলে আসার পর জামায়াত ইসলামী কে হটিয়ে নৌকার দূর্গ হিসেবে গড়ে ওঠে। দল ও বিভিন্ন সংস্থার সব জরিপে আসনটি আওয়ামী লীগের বিজয়ী হওয়ার জন্য নিশ্চিত আসন হিসেবে উঠে এসেছে। এ আসনে ব্যতিক্রমী ও জনবান্ধব নানা কর্মসূচী পরিচালনা করে মাটি ও মানুষের নেতা সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। যে কারণে আসনটি হাতছাড়া করবে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, এরশাদের দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত পিএস ও সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম রেজা কর্তৃক এরশাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বেহাত করা, প্রতারণার আশ্রয় নেয়াসহ বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।  এসব কর্মকান্ডের কারণে তার প্রতি চরমভাবে ক্ষুদ্ধ এরশাদ। রেজা বিকল্প ধারায় যোগ দিয়ে মহাজোটের প্রার্থী হচ্ছেন এ আশংকা থেকেই এরশাদ নিজেই প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন।

জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানায়, মূলত এরশাদের আপত্তির কারণে ৮ নভেম্বর শ্যামনগরে গোলাম রেজার ডাকা জনসভায় যোগ দেয়ার জন্য বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিমানবন্দরে গেলেও তার হেলিকপ্টার উড়তে দেয়া হয়নি। তবে সেই সভায় তেমন জনসমাগম হয়নি।

দলের সাবেক এই নেতাকে কোন ভাবেই মহাজোট হতে প্রার্থী করা যাবে না তা নিশ্চিত হয়েই সাতক্ষীরা-৪ আসন আওয়ামী লীগের জন্য ছেড়ে দিয়েছেন এরশাদ । এ আসনে রেজা ছাড়া নৌকার কোন প্রার্থী নির্বাচন করলে তার কোন আপত্তি নেই। তবে রেজাকে কোন ভাবেই মহাজোটের প্রার্থী করা যাবে না এটাই এরশাদের সাফ কথা।

সূত্রে আরো জানা যায়, জাতীয় পার্টির সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম রেজা দলীয় প্রধান হুসাইন মুহাম্মাদ এরশাদের কাছের মানুষ হওয়ায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে এক প্রকার জোর জবরদস্তি করে আসনটি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে তাকে প্রার্থী করা হয়। জনজোয়ারের সেই নির্বাচনে নৌকার ভোট নিয়ে জাতীয় পার্টি বিজয়ী হয়। কিন্তু নির্বাচিত হওয়ার সাড়ে তিন বছর পর তার সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করায় তিনি রেজাকে কোন ভাবেই ক্ষমা করবেন না।

এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সর্বশ্রেণির মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় দশম জাতীয় সংসদের সদস্য জগলুল হায়দার এর পক্ষে জরিপে বিজয়ী হওয়ার জন্য নিশ্চিত আসন হিসেবে উঠে আসা, এরশাদের প্রার্থী না হওয়া এবং তার আপত্তিতে মহাজোট হতে গোলাম রেজা’র প্রার্থীতা আটকে দেয়ায় সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের মধ্যে আনান্দের বন্যা বইছে। নেতাকর্মীরা বর্তমান সংসদ সদস্যনৌকার প্রার্থী হিসেবে আবারো নিশ্চিত মনোনয়ন পাচ্ছেন ধরে নিয়েই বরণ করার অপেক্ষায় ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেছেন।

সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও দলেরনিজস্ব জরিপ প্রতিবেদনে বিজয়ী হয়ে আসার জন্য আসনটি আওয়ামীলীগের নিশ্চিত হওয়ায় কোন ভাবেই দল ছাড় দিতে রাজী নয়। তবে মহাজোটের প্রধান শরিক দলের চেয়ারম্যান যদি নিজেই নির্বাচন করেন সেক্ষেত্রে হয়ত ছাড় দিতে বাধ্য হতেন। বিষয়টি জাপা প্রধান এরশাদের ব্যক্তিগত হওয়ায় দুর্দিনের এই মিত্রকে তারা গুরুত্ব সহকারে দেখেন। যে কারণে কোনভাবেই রেজা মহাজোটের প্রার্থী হতে পারছেন না তা নিশ্চিত।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা জানায়, গোলাম রেজা সাংসদ থাকাকালীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অংগ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে কোন্দল ও বিভেদ সৃষ্টি করা হয়। যে কারণে নেতা কর্মীরা তার প্রতি চরমভাবে ক্ষুদ্ধ।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ইতিহাসে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এ আসনে মহাজোট হতে আওয়ামী লীগ এবং জোট হতে জামায়াত ইসলামী নির্বাচন করবে এটা নিশ্চিত। এ দুই দলের বাইরে অন্য কোন দলের কোন ভোট নেই।দীর্ঘ এক যুগ পর নৌকার প্রার্থী এস এম জগলুল হায়দার সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি আওয়ামী লীগের দূর্গ হিসেবে গড়ে তোলেন। মনোনয়নের ক্ষেত্রে জনপ্রিয়তার দৌড়ে এবং বিভিন্ন সংস্থার জরিপে জগলুল হায়দারকে এগিয়ে রাখা হয়েছে। যে কারণে সহজেই নৌকা নিশ্চিত বিজয়ী হবে বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা।

সরেজমিনে শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জগলুল হায়দারের শক্ত অবস্থানের কারণে এ আসনে জামায়াত ইসলামীর সাংগঠনিক অবস্থা হ-য-ব-র-ল। নাশকতা, জ্বালাও পোড়াওসহ বিভিন্ন মামলায় আসামী হয়ে তারা এলাকা ছাড়া।গত পাঁচ বছর তারা মাঠে নামতে পারেনি। নির্বাচনী তফশিল ঘোষনা হলেও তারা মাঠে নামতে পারছেন না। ইতিমধ্যে শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক এ্যাডভোকেট জহুরুল হায়দার দলীয় সভা করে ঘোষনা দিয়েছেন, জামায়াত ইসলামী মাঠে নামলেই প্রতিহত করা হবে।

ব্যতিক্রমী নানা কল্যাণমূলক কাজ, ব্যাপক উন্নয়ন এবং তৃণমূল মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে অসহায় মানষেরসাহায্য সহযোগিতার কারণে তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয় আওয়ামী লীগের এই সংসদ সদস্যের বহুমূখী চেষ্টার ফলে আসনটি আওয়ামী লীগের শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।নির্বাচনী এলাকা শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের ২০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক একাট্টা হয়ে জগলুল হায়দারকে আওয়ামীলীগ হতে পুনরায় মনোনয়ন দেয়ার জন্য দলীয় সভানেত্রীর কাছে জোর দাবি জানিয়েছে।

এ আসনে জামায়াতের বিশাল ভোট ব্যাংক থাকলেও গত পাঁচ বছর মাঠে অনুপস্থিত থাকার কারণে আওয়ামী লীগ সে স্থান দখল করেছে। জামায়াত মুক্ত শ্যামনগর-কালিগঞ্জ গড়ার বহুমুখী উদ্যোগ ও চেষ্টার ফলে ভোট ব্যাংকে ধস নেমেছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা জানান, অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে আওয়ামী লীগ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এখানে জগলুল হায়দার নৌকার মাঝি হলে আবারো নৌকা বিজয়ী হতে পারবে। দলের ভোট ব্যাংকের পাশাপাশি তার রয়েছে ব্যক্তিইমেজ ও পারিবারিক বিশাল ভোট ব্যাংক।ঐতিহ্যবাহী আওয়ামী পরিবারের এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে নির্বাচনী মাঠে তিনি বিশেষ সুবিধা পাবেন। তার নানা হাজী কোরবান আলী সরদার ছিলেন থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

জগলুল হায়দারের প্রতি তৃণমূল নেতাকর্মীর আস্থার মূল কারণ ব্যাপক উন্নয়ন, সাধারন মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ও অসহায় মানুষদের সাহায্য সহযোগিতা। এছাড়া ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে গ্রেফতার করা হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে জগলুল হায়দারের ভূমিকার কথা দলীয় নেতা কর্মীরা ভুলে যায়নি। যে কারণে সে সময়ের সরকারের রোষানলে পড়েন তিনি। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলায় ২০০১-২০০৭ সাল পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দিয়ে হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়। এই সময়ে তিনি একটি দিনের জন্যও বাড়ীতে ঘুমাতে পারেননি।

২০১২, ২০১৩ ও ২০১৪ সালে জামায়াতের সহিংসতার বিরুদ্ধে হাজার হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন জগলুল হায়দার। তিনি গত পাঁচ বছর জামায়াত-শিবিরকে মাঠে নামতে দেননি। তাদের এলাকা ছাড়া করেছেন, সংগঠনকে তছনছ করেছেন। যে কারণে নির্বাচনী এলাকার ২০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জগলুল হায়দারকে পুনরায় নৌকা প্রতিক দেয়ার জন্য সভানেত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

জগলুল হায়দারের বহুমূখী কৌশলের কারণে নির্বাচনী এলাকার জনগন জামায়াত ইসলামী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সাংগঠনিক অবস্থা এতটাই নড়বড়ে যে স্বাধীনতা পরবর্তী আর কোন সময়ে এতো অসহায় অবস্থা জামায়াত ইসলামীর দেখা যায়নি।

ব্যতিক্রমী কর্মকান্ড, ব্যাপক উন্নয়ন, অসহায় মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা এবং স্বভাব সুলভ ব্যবহারের কারণে সাধারণ শ্রেণির মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় জগলুল হায়দার। যে কারণে দলীয় নেতা কর্মীরা তাকে আবারো নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চায়।

নিউজবিডি৭১/বিসি/নভেম্বর ১৮, ২০১৮

Share.

Comments are closed.