[english_date] সাতক্ষীরা-৪ঃ ভোট নেই লাঙ্গল-কুলা-ধানের শীষের, জামায়াত ছন্নছাড়া, শক্ত অবস্থানে নৌকা
Mountain View

সাতক্ষীরা-৪ঃ ভোট নেই লাঙ্গল-কুলা-ধানের শীষের, জামায়াত ছন্নছাড়া, শক্ত অবস্থানে নৌকা

0

নিউজবিডিডটকম
নিজস্ব প্রতিবেদক : আগামী ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সব দল নির্বাচনে আসার ঘোষণায় এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। আসন ভাগাভাগি নিয়ে জোট-মহাজোট নিয়ে বেসামাল অবস্থায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি। আলোচনায় সাতক্ষীরা-৪ আসন। আগামী নির্বাচনে এ আসনে মহাজোট থেকে কে মনোনয়ন পাবেন তা নিয়ে প্রকার ধোঁয়াশার মধ্যে রয়েছে এলাকার জনগন। বিশেষ করে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পর আসনটি আওয়ামী লীগ পুনরুদ্ধারের পর নৌকার দূর্গ হিসেবে গড়ে উঠেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস এম জগলুল হায়দার সংসদ সদস্য হিসেবে বিজয়ী হয়ে জামায়াতের দুর্গ তছনছ করেন। তার শক্ত অবস্থানের কারণে গত পাঁচ বছর জামায়াত ইসলামী মাঠে নামতে পারেনি। সাংগঠনিক অবস্থাও নড়বড়ে। ব্যাপক উন্নয়ন আর সাধারন মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ততার কারণে তৃণমূলে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়আওয়ামীলীগের তরুণ এই সাংসদ। যে কারণে আসনটি হাতছাড়া করতে চায় না আওয়ামী লীগ।

এ দিকে মহাজোটের অন্য কোন শরিক দল থেকে যেন প্রার্থী হতে না পারে তা ঠেকাতেনির্বাচনী এলাকা শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের ২০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক একাট্টা হয়ে জগলুল হায়দারকে আওয়ামীলীগ হতে পুনরায় মনোনয়ন দেয়ার জন্য দলীয় সভানেত্রীর কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন।

২০০১ সালে এ আসনে জাতীয় পার্টি ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের সঙ্গে জোট করে মাত্র ১২,৮৪৯ ভোট পান। সে নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী গোলাম রেজারজামানত বাজেয়াপ্ত হয়। তিনি ভোট পান ৮.৩৩ শতাংশ। অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পান ৫৬,৫৫৪ ভোট। যা প্রাপ্ত ভোটের ৩৬.৬৭ শতাংশ। সে নির্বাচনে জামায়াত ইসলামী পায় ৮৪,৬১৩ ভোট অর্থাৎ ৫৪.৮৬ শতাংশ। তবে বিকল্পধারা গঠনের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে কুলা প্রতীকের প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোট পায় মাত্র ৪৯৯টি। যা প্রাপ্ত ভোটের ০.১৫ শতাংশ। তবে জাতীয় পার্টির সেই সামান্য ভোটও (০.১৫%) আর নেই। উপজেলা কমিটি রয়েছে কাগজে কলমে। আর বিকল্পধারা বলে কোন দলের অস্তিত্ব এ আসনে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জানা যায়, জাতীয় পার্টির তৎকালীন প্রেসিডিয়াম সদস্য গোলাম রেজা পার্টি প্রধান হুসাইন মুহাম্মাদ এরশাদের কাছের মানুষ হওয়ায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে এক প্রকার জোর জবদস্তি করে আসনটি আওয়ামী লীগের কাছ থেকে নিয়ে তাকে প্রার্থী করা হয়। সে নির্বাচনে মাত্র ০.১৫ শতাংশ ভোট ব্যাংক নিয়ে নৌকার ঘাড়ে চেপে গোলাম রেজা জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা দেয়ায় দীর্ঘ পাঁচ বছর নিরব থাকার পর মহাজোট হতে মনোনয়ন লাভের আশায়বিশ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টি (জাফর) হতে বিকল্পধারায় যোগ দেন গোলাম রেজা। বিকল্পধারার প্রার্থী (২০০৮ সালে প্রাপ্ত ভোট ৪৯৯টি) হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট থেকে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য আবারো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় পার্টির বহিস্কৃত এ নেতা । কিন্তু হুসাইন মুহাম্মাদ এরশাদ তাকে কোনভাবেই ছাড় দিতে নারাজ। জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্রে জানা যায়, মূলত এরশাদের আপত্তির কারণে ৮ নভেম্বর শ্যামনগরে গোলাম রেজার ডাকা জনসভায় যোগ দেয়ার জন্য বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী বিমানবন্দরে গেলেও তার হেলিকপ্টার উড়তে দেয়া হয়নি।

এদিকে গোলাম রেজা বিকল্পধারায় যোগ দিয়ে মহাজোটের প্রার্থী হতে পারেন এমন সংবাদে তাকে ঠেকাতে এ আসনে এরশাদ নিজেইনির্বাচন করার ঘোষনা দেন। তবে জাতীয় পার্টির একাধিক সূত্রে জানা যায়, এ আসনে এরশাদের কোন ভোট ব্যাংক না থাকায় তিনি নিজে প্রার্থী হতে আগ্রহী নন। শুধুমাত্র গোলাম রেজাকে ঠেকাতে তিনি এ কৌশল নিয়েছেন। রেজা যেন কোন ভাবেই মহাজোটের শরিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে না পারেন তা নিশ্চিত হতে চান তিনি। কারণ দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত পিএস এবং সাবেক প্রেসিডিয়াম সদস্যগোলাম রেজার বিরুদ্ধে এরশাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি বেহাত করা এবং প্রতারণার আশ্রয় নেয়ার অভিযোগে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হয়।
সূত্র আরো জানায়, এ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী নির্বাচন করলে তাদের কোন আপত্তি নেই। তবে রেজাকে কোন ভাবেই মহাজোটের প্রার্থী করা যাবে না এটাই এরশাদের সাফ কথা।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারনী পর্যায়ের একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বিকল্পধারা মহাজোটে আসলেও এ আসনে কোন ভাবেই মাহাজোট থেকেরেজাকে প্রার্থী করবে না আওয়ামী লীগ। কারণ তার নিজের কোন ভোট ব্যাংক নেই,পারিবারিক ঐতিহ্যও নেই। দলের কোন অস্তিত্বও এ আসনে খুঁজে পাওয়া যায় না। এছাড়া জাপা প্রধান এরশাদের ব্যক্তিগত বিষয় হওয়ায় দুর্দিনের এই মিত্রকে তারা গুরুত্ব সহকারে দেখেন। যে কারণে কোনভাবেই রেজা মহাজোটের প্রার্থী হতে পারবেন না।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা যায়, গোলাম রেজা এমপি থাকাকালীন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী অংগ সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হয়। উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মধ্যে কোন্দল ও বিভেদ সৃষ্টি করা হয়। যে কারণে নেতা কর্মীরা তার প্রতি চরমভাবে ক্ষুদ্ধ।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় আওয়ামী লীগের অনেক নেতা কর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আওয়ামী লীগ অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। এখানে জগলুল হায়দারকে যদি পুনরায় মনোনয়ন দেয়া হয় তাহলে নৌকা প্রতীককে আবারো বিজয়ী করা সম্ভব হবে। দলের ভোট ব্যাংকের পাশাপাশি, ব্যক্তিগত ইমেজ, পারিবারিক ভোট ব্যাংক ও ঐতিহ্যবাহী পরিবারের সদস্য হওয়ার কারণে অনায়াসেই জগলুল হায়দার নৌক কে বিজয়ী করে আনতে পারবেন।

সাতক্ষীরা-৪ আসনটি আওয়ামী লীগের জিতে আসার জন্য নিশ্চিত আসন হওয়ায় অন্য কোন দলের প্রার্থীকে মেনে নিবেন না তৃণমূল আওয়ামীলীগ।এতে তারা কোন রকম ছাড় দিতে চান না। বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী এস এম জগলুল হায়দারের ব্যাপক উন্নয়ন, জামায়াত বিরোধী কঠোর অবস্থান ও ব্যতিক্রমী কর্মকান্ড পরিচালনার কারণে দল অনেক শক্তিশালী অবস্থানে।

এছাড়া ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীকে গ্রেফতার করা হলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে জগলুল হায়দার শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনে ব্যাপক ভূমিকা রাখেন। যে কারণে সে সময়ের সরকারের রোষানলে পড়েন তিনি। এছাড়া ২০০২-২০০৭ সাল পর্যন্ত উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলেন। এ কারণেও তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়, নির্যাতন করা হয়। ২০০১-২০০৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাড়ীতে ঘুমাতে পারেননি।

২০১২ ও ২০১৩ সালে জামায়াতের সহিংসতার বিরুদ্ধে হাজার হাজার নেতা-কর্মী নিয়ে জগলুল হায়দার ব্যাপক প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তিনি গত পাঁচ বছর জামায়াত-শিবিরকে মাঠে নামতে দেননি। তাদের এলাকা ছাড়া করেছেন, সংগঠনকে তছনছ করেছেন। যে কারণে নির্বাচনী এলাকার ২০টি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ জগলুল হায়দারকে পুনরায় নৌকা প্রতিক দেয়ার জন্য সভানেত্রীর কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

তার বহুমূখী কৌশলের কারণে নির্বাচনী এলাকার জনগন জামায়াত ইসলামী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। তার কারণে জামায়াতের সাংগঠনিক অবস্থা নড়বড়ে। স্বাধীনতা পরবর্তী অন্য কোন সময়ে এতো অসহায় অবস্থা জামায়াত ইসলামীর দেখা যায়নি।

জগলুল হায়দারের ব্যতিক্রমী কর্মকান্ড, ব্যাপক উন্নয়ন, অসহায় মানুষের সাহায্য-সহযোগিতা ও স্বভাব সুলভ ব্যবহারের কারণে সাধারণ শ্রেণির মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয়। যে কারণে দলীয় নেতা কর্মীরা তাকে আবারো আওয়ামীলীগের মনোনয়ন দেয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।

নিউজবিডি৭১/বিসি/নভেম্বর ১৩, ২০১৮

Share.

Comments are closed.