[english_date] সাতক্ষীরা -৪ আসনে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে এমপি জগলুল হায়দার
Mountain View

সাতক্ষীরা -৪ আসনে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে এমপি জগলুল হায়দার

0

নিউজবিডি৭১ডটকম

নিজস্ব প্রতিনিধি:

সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ (আংশিক) উপজেলা এক সময় জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে বেশ সুপরিচিত ছিল। এছাড়া এলাকায় ভোটে ও মাঠে তাদের অবস্থান ছিল বেশ শক্ত। কিন্তু সেই ক্ষমতা জামায়াতের এখন আর নেই। এর কারণ হলো, স্থানীয় সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের দৃঢ় পদক্ষেপ এবং কঠোর মনোভাব। যার ফলে গত পাঁচ বছরে জামায়াতের সাংগঠনিক সক্ষমতা নড়বড়ে হয়ে গেছে। নাশকতার মামলায় জামায়াতের অনেক নেতাকর্মী আত্মগোপনে গেছে, আর কিছু জেলে রয়েছে। জগলুল হায়দারএমপি’র একক প্রচেষ্টায় তার নির্বাচনী এলাকার জনগণ জামায়াত ইসলামী থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সাতক্ষীরা-৪ আসন এখন নৌকার শক্ত ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।

গত পাঁচ বছরে শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, ব্রিজ, কালভার্ট, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মিনি স্টেডিয়াম, বিদ্যুৎসহ সর্বস্তরে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। দেশ স্বাধীনের পর এরকম উন্নয়নের আলো এই এলাকার মানুষ আগে কখনও দেখেনি। তার চিরচারিত স্বভাব সুলভ ব্যবহার, ধৈর্য সহকারে মানুষের সমস্যা শোনা ও সমধানের ব্যবস্থা, সবসময় মানুষের জন্য নিজের দরজা খোলা রাখার জন্য তিনি এলাকায় বেশ জনপ্রিয়।

নির্বাচনী এলাকার ২০টি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের স্থায়ি কার্যালয় নির্মাণ করেছেন তরুণ এই সংসদ সদস্য। তিনি প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডের স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন। দুই উপজেলার বিশটি ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ তৃণমূল নেতাকর্মী তার পাশে রয়েছে। যার কারণে অতীতের যে কোনও সময়ের চেয়ে তার এলাকার আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ।

জগলুল হায়দার পাঁচ বছর রাত-দিন নির্বাচনী এলাকার এক প্রান্ত হতে অপর প্রান্ত পর্যন্ত ছুঁটে বেড়িয়েছেন। সাধারন মানুষের দ্বারে দ্বারে গেছেন। তাদের সুখ-দুঃখ, সুবিধা-অসুবিধা জানার চেষ্টা করেছেন। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেছেন। ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে সাধারন গরিব-দুঃখী অসহায় মানুষের পাশে থাকায় তিনি নির্বাচনী এলাকার মানুষের কাছে ব্যাপকভাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি থাকাকালীন অবস্থায় ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জগলুল হায়দার। নির্বাচিত হয়ে এলাকার দায়িত্ব হাতে নিয়ে জামায়াত বিরোধী প্রচারণায় নামেন। জনগণকে সচেতন করতে পাড়া-মহল্লা, স্কুল-কলেজথেকে শুরু করে সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে জামায়াতের ধর্ম ব্যবসা, ধ্বংসাত্মক ও অপরাজনীতির চিত্র তুলে ধরেন। এজন্য দীর্ঘ সময় ধরেই তিনি এলাকায় অবস্থান করেন। এর পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস মানুষকে জানাতে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরেছেন। এছাড়া হাজার হাজার নেতাকর্মীকে জঙ্গীবাদ বিরোধী শপথ করিয়েছেন এবং মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

জগলুল হায়দার এলাকার দরিদ্র, অসুস্থ ও অসহায় মানুষদের পাশে সবসময় ছিলেন, তাদের নানাভাবে সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। তার সামাজিক কর্মকান্ড নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে একাধিকবার প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

২০১২ ও ২০১৩ সালে জামায়াতের নাশকতা ঠেকাতে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এবং  বর্তমান সংসদ সদস্য জগলুল হায়দারের নেতৃত্বে হাজার হাজার নেতাকর্মী মাঠে অবস্থান করে জামায়াতের নাশকতা করার অপচেষ্টা প্রতিহত করে। তার নেতৃত্বে স্থানীয় আওয়ামীলীগের শক্ত অবস্থানের কারণে জামায়াত-শিবিরের কোনও ষড়যন্ত্র সফল হয়নি। যার কারণে পুরস্কার হিসেবে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে নৌকার টিকেট দিয়ে জাতীয় সংসদের সদস্য হওয়ার সুযোগ করে দেন। সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর পরই বিএনপি এবং জামায়াত শিবিরকে ছাড় না দেয়ার ঘোষণা দেন। তার ঘোষণার পর থেকে এলাকায় জামায়াত শিবিরের কোনও নেতাকর্মীকে মাঠে নামতে দেখা যায়নি। এছাড়া জামায়াত শিবিরের পক্ষে কাউকে সুপারিশ না করার জন্য কড়া ভাবে নির্দেশ দেন।

ইতোমধ্যে তিনি গণসংযোগ, পথসভা, সমাবেশ এবং জনসভার মাধ্যমেআওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়নের কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরছেন। তার প্রতিটি পথসভা, জনসভা, গণসংযোগে জনতার ঢল নামে। তিনি তার এলাকার জনগনকে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার জন্য শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগকে আবারও ক্ষমতায় আনার আহ্বান জানান।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জগলুল হায়দারকে আবারো নৌকার মাঝি হিসেবে চায় শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের সাধারন জনগণ। তারা মনে করে তিনি যদি আবারো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান তাহলে এ এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে, মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারবে।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী আওয়ামী লীগ হতে মনোনয়ন চাইতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আতাউল হক দোলন, আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আযম লেলিন, আনিছুজ্জামান আনিছ, কালিগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক সাইদ মেহেদী প্রমুখ।

নিউজবিডি৭১/বিসি/নভেম্বর ১০, ২০১৮

Share.

Comments are closed.