১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং সাতক্ষীরা-৪: জনপ্রিয়তায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী এমপি জগলুল
Mountain View

সাতক্ষীরা-৪: জনপ্রিয়তায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী এমপি জগলুল

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম

মানিক খান

ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড,ব্যাপক উন্নয়ন এবং গরিব দুঃখী ও অসহায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে সাহায্য সহযোগিতা করার মাধ্যমে সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয় সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার। জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড ও সাধারণ জীবনযাপনের কারণে দলমত নির্বিশেষে সর্বস্তরের মানুষের প্রিয় হয়ে উঠেছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের আওয়ামী লীগের তরুণ এইসাংসদ।

সম্ভ্রান্ত পরিবারের জন্ম গ্রহণকারী জগলুল হায়দার এর পিতা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, পেশায় চিকিৎসক। অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন। তার নানা শ্যামনগর থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে সারা দেশে সাড়া ফেলে দেন। নির্বাচনী এলাকায় ব্যতিক্রমধর্মী সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ ও ব্যাপক উন্নয়ন করে সাধারণ মানুষের মন জয় করে নেন।তিনি লুঙ্গি পরে সাধারণ বেশে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ান। গভীর রাতেও তার দেখা মেলে গরিব দুঃখী অসহায় মানুষের বাড়ীতে। রাত নেই, দিন নেই সারা বছর গরিবের বাড়ীতে বাড়ীতে গিয়ে তাদের সুখ দুঃখের খোঁজ খবর নেন। তাদের সঙ্গে কখনো দুপুরে কিংবা রাতে একসঙ্গে বসে খাবার খান। অসহায় মানুষের খোঁজ পেলে সাধ্যমতো সাহায্য-সহযোগিতা করেন। এসব কারণে এখন সবার মুখে মুখে জগলুল হায়দারের গুনগান।

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা যায়,জগলুল হায়দার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর এক সময় জামায়াতের দূর্গ হিসেবে পরিচিত এই এলাকাকে নৌকার ঘাঁটিতে পরিণত করেছেন। তিনি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে সংগঠনকে তছনছ করেছেন। তার এ অবস্থানের কারণে গত পাঁচ বছরে জামায়াত-শিবির মাঠে নামতে পারেনি। তিনি সারা বছর নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান করেসাধারন মানুষের সাহায্য সহযোগিতা করেছেন। প্রতিটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের স্থায়ী অফিস করেছেন। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন সাধনের পাশাপাশি সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন। তৃণমুল নেতা-কর্মীদের সহায়তা করেছেন। যে কারণে জগলুল হায়দারকে আবারো নৌকার মাঝি হিসেবে দেখতে চায় সাধারণ মানুষ।

সংসদ সদস্যের নাগাল পেতে যেখানে এলাকার সাধারণ মানুষকে তার পেছনে ছুঁটতে হয়,সেখানে জগলুল হায়দারের বেলায় দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। সংসদ অধিবেশন ও জরুরি কাজ ছাড়া তিনি সার্বক্ষণিক এলাকায় থেকে মানুষের সেবা করেন। তিনি সাধারণ মানুষের খোঁজ-খবর নিতে প্রতিদিন কোনো না কোনো এলাকায় যান।

গরিব দুঃখী ও অসহায় মানুষজনের সঙ্গে সহজেই মিশে যাওয়ার মতো অসাধারণ ক্ষমতা রয়েছে জগলুল হায়দারের মধ্যে। নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে বেড়ানোর সময় এই সাংসদ বিভিন্ন মোড়ে অথবা চায়ের দোকানে দিনমুজুর,কৃষক, শ্রমিক, ভ্যানচালক, হতদরিদ্র ও সাধারণ মানুষজনকে সঙ্গে নিয়ে খোশগল্প-আড্ডায় মেতে ওঠেন। তার চিরাচরিত স্বভাবসুলভ ব্যবহার সাধারণ মানুষকে মুগ্ধ করে।

এলাকার মানুষের কাছে ‘মেজো ভাই’হিসেবে পরিচিত এই সাংসদ নানা কর্মকান্ডের কারণে নিজের এলাকায় তাঁকে ব্যাপক জনপ্রিয় করে তুলেছে। তিনি গরীব-দুঃখী ও অসহায় মানুষের বন্ধু হিসেবে পরিচিত। তিনি শ্রমিকদের কাজে উৎসাহ জোগাতে লুঙ্গি গিঁট মেরে মাথায় গামছা বেঁধে তাদের সঙ্গে কাজে নেমে পড়েন। নিজেই মাথায় মাটির ঝুঁড়ি নিয়ে নদীর বাঁধে শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করেন। কৃষকের সঙ্গে লাঙ্গল দিয়ে জমি চাষ করেন। মাঠে বসেই কৃষকদের আনা মরিচ-পিঁয়াজ দিয়ে পান্তা ভাত খান। হতদরিদ্রের বাড়িতে ঢুকে তাদের রান্না করা খাবার খান। গভীর রাতে অভুক্তের বাড়িতে বাজার নিয়ে সদাই হাজির হন। রমজান মাসে ভিক্ষুকের বাড়িতে ইফতার নিয়ে তাদের সঙ্গে ইফতার করেন। মানসিকভাবে অসুস্থ, শারীরিক প্রতিবন্ধী ওবৃদ্ধদের মুখে খাবার তুলে দেন নিজের হাতে। তাদের আশ্রয়, চিকিৎসা ও খাবারের ব্যবস্থা করেন।

এ ছাড়া শ্যামনগর ও কালিগঞ্জকে মাদক ও জঙ্গিমুক্ত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচার চালিয়েছেন। হাজার হাজার মানুষকে শপথবাক্য পাঠ করানোর পাশাপাশি সচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় তিনি। গভীর রাতে ছাত্রাবাস ও মেসে হাজির হয়ে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার খোঁজ খবর নেন। হাসপাতালে চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন কিনা তা সরেজমিন প্রত্যক্ষ করতে গভীর রাতে হাসপাতাল পরিদর্শনে যান। ঝড়ের বিপদ সংকেতের মধ্যেও প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করে গভীর রাত অবধি উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে তাদের সহাস যোগান। সারারাত মোবাইল খোলা রেখে মানুষের খোঁজ খবর নেন। যে কারণে সাধারন মানুষ বলেন জগলুলের কন্ট্রোল রুম।

জগলুল হায়দার নির্বাচনী এলাকায় প্রায় ৩০০উঠান বৈঠক করে জনসাধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে তার উঠান বৈঠকে ঢল নামে। এসব বৈঠকে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচার করেন তিনি।

উন্নয়নে পিছিয়ে পড়া দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ (আংশিক) উপজেলায় ব্যাপক উন্নয়ন করেছেন তিনি। তার অবদানের কথা এখন মানুষের মুখে মুখে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে এতো উন্নয়ন আর কোন সময়ে হয়নি। তিনি রাস্তাঘাট,বাজার,স্কুল-কলেজ,ব্রিজ,কালভার্ট,বিদ্যুৎ,স্বাস্থ্য, মসজিদ,মন্দির,কারিগরি প্রতিষ্ঠান,মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ইত্যাদি এমন কোন সেক্টর ও গ্রাম নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তার আমলেই অবহেলিত এই দুই উপজেলার চিত্র পাল্টে গেছে।

নির্বাচনী এলাকার দুই উপজেলায় দু’টি স্কুল ও দু’টি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। দু’টি সরকারি মডেল টেকনিক্যাল স্কুলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। খেলাধুলার জন্য দুই উপজেলায় দু’টি মিনি স্টেডিয়ামের নির্মাণ কাজ এই অর্থ বছরেই শুরু হবে। প্রশিক্ষিত দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) স্থাপনের কাজও এই অর্থবছরে শুরু হবে।

শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের অধিকাংশ ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেছে। প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা বিদ্যুতের আওতায় চলে এসেছে। দুই উপজেলায় ৭০০ কিলোমিটারেরও বেশি বিদ্যুৎ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ৭৫০ কিলোমিটার মতো পাকা রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। ১১৯ টি প্রাইমারি স্কুল, সাইক্লোন সেন্টার ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। শ্যামনগর সরকারি কলেজে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক পৃথক দু’টি পাঁচ তলা আবাসিক হলের কাজ শুরু হয়েছে। উপজেলা কমপ্লেক্স ভবনের কাজ শুরু হয়েছে। অস্বচ্ছল ৩১জন মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের জন্য পাকা ভবন করে দিয়েছেন। নির্বাচনী এলাকায় প্রায় হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন করেছেন।

সরকারের শেষ সময়ে যেখানে সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ ঘটাতে দেখা যায় সেখানে এই সাংসদের বেলায় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। তার প্রতিটি পথসভা,গণসংযোগ ও জনসভা সবখানেই জনতার ঢল নামে। প্রতিটি সভায় নৌকায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারো দেশের প্রধানমন্ত্রী করার জন্য আবেদন জানাচ্ছেন।

জগলুল হায়দারের এসব ব্যতিক্রমী কর্মকাণ্ড এলাকা ছাড়িয়ে সারা দেশেই ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তার দেখা দেখি অনেক জনপ্রতিনিধি কাজ শুরু করেছেন। তাঁর এমন কর্মকাণ্ডে সামগ্রিকভাবে দলের সুনাম বৃদ্ধি পেয়েছে। তাকে নিয়ে আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা করতে দেখা গেছে।

জগলুল হায়দার বলেন,আমি গ্রামের ছেলে। গ্রামেই বড় হয়েছি। তাই সংসদ সদস্য হয়ে চেষ্টা করেছি মাটি ও মানুষের কাছে থাকতে। সবসময় গরীব-দুঃখী ও অসহায়মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করি। আমি আমার নির্বাচনী এলাকাকে এমনভাবে গড়ে তুলতে চাই যেন আমার মৃত্যুর পরেও যেন তারা বলে আমার ভাই জগলুল তাদের জন্য কিছু করে গেছেন। তারা আমার জন্য দোয়া করবে। আমি এসব অসহায় গরিব দুঃখী মানুষের ভালোবাসা নিয়ে বাঁচতে চাই।

নিউজবিডি৭১/বিসি/নভেম্বর ০৯, ২০১৮

Comments are closed.