৯ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে নৌকার পক্ষে ভোট ভিক্ষা চাইলেন এমপি জগলুল হায়দার
Mountain View

জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে নৌকার পক্ষে ভোট ভিক্ষা চাইলেন এমপি জগলুল হায়দার

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম 
বিশেষ প্রতিবেদন : যত দিন শেখ হাসিনাকে আল্লাহ বাঁচিয়ে রেখেছে ততদিন এই বাংলার মসনদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি ছাড়া আর কারো বসার সুযোগ নেই। শুধু বাংলা নয় গোটা বিশ্বে শেখ হাসিনার সমতুল্য কেউ নেই। শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী করতে আমি সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করতে রাজী আছি।

গতকাল (শনিবার) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ধলবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ আয়োজিত ধুলিয়র স্কুল মাঠে গণসংবর্ধনা ও সংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার এ কথা বলেন।

গণসংবর্ধনায় অনুষ্ঠানে ৫০ হাজারেরও অধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর অযথা কারো বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়নি, কাউকে হয়রানি করিনি, কারোর চোখের পানি ঝরায়নি। জনতার উদ্দেশে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, কেউ কি বলতে পারবেন কাউকে হয়রানি করা হয়েছে কি-না? উপস্থিত জনতা না না বলে ধ্বনি দিলে এবার তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি নৌকার মাঝি বানাইয়ে আমাকে পাঠাইয়ে দেয় তাহলে আবারো আপনাদের খেদমতে আসব। আর যদি অন্য কাউকে মনোয়ন দেন তাহলে বিসমিল্লাহ বলে তল্পি তল্পা ঘাড়ে নিয়ে তার পিছে পিছে হাঁটব। নৌকার পক্ষে ভোট ভিক্ষা করব।

নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে জগলুল হায়দার বলেন, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে এতো উন্নয়ন হয়েছে তা স্বাধীনতা পরবর্তী আর কোন সময়ে হয়নি। শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে দু’ই উপজেলায় দুটি স্কুল ও দুটি কলেজ সরকারিকরণ করা হয়েছে। প্রায় ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে দু্ইটি সরকারি কারিগরি স্কুল নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। চলতি অর্থ বছরে  দুটি মিনি স্টেডিয়াম এবং শ্যামনগর উপজেলায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের কাজও শুরু হবে।

সংসদ সদস্য বলেন, নির্বাচনী এলাকার শতশত কিলোমিটার পাকা রাস্তা, ব্রিজ-কালভার্ট, স্কুল-কলেজ, সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা হয়েছে। শ্যামনগর সরকারি কলেজে দু’টি পাঁচ তলা আবাসিক হল নির্মানের কাজ শুরু করা হয়েছে। শ্যামনগর ও কালিগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল কমপ্লেক্সের কাজও দ্রুত শুরু হবে।

তিনি বলেন, শ্যামনগর ও কালিগঞ্জের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হয়েছে। যাদের বাড়ীতে এখনও বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি কিন্তু অস্বচ্ছল ও দরিদ্র তাদেরকে সোলার প্যানেল দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার অসুস্থ ও অসহায় মানুষের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়েছে। এমন কোন সেক্টর নেই যেখানে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

জগলুল হায়দার বলেন, সাধারন মানুষের পাশে থাকতে গ্রামে গ্রামে ঘুরে তাদের খোঁজ খবর নিয়েছি, যথাসাধ্য সাহায্য সহযোগিতা করেছি। রাত নেই দিন নেই যে যেখানে ডেকেছে ছুঁটে গিয়েছি। ঝড়ের রাতে যখন ৬/৭ নম্বর বিপদ সংকেত সে সময়েও উপকূলীয় এলাকার গ্রামে গ্রামে ঘুরে তাদের সাহস যুগিয়েছি, তাদের পাশে থেকেছি।

নৌকা প্রতিকে ভোট প্রার্থনা করে এই সংসদ সদস্য বলেন, শেখ হাসিনাকে পুনরায় রাষ্ট্র ক্ষমতায় আনতে না পারলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা থেমে যাবে। তিনি প্রধানমন্ত্রী বলেই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্বশেষ এই দুই উপজেলায় এতো উন্নয়ন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, বিদায় বেলায় বলে যেতে চাই, দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে তোমরা কোন দিন ভুলো না। তোমাদের হৃদয়ের মাঝে দিও মোরে ঠাই, জীবিত অবস্থায় আমাকে যদি মূল্যায়ন করতে না পারো, জীবনের গীত যদি জ্বালাতে নাহি পারো সমাধি, পরে মোর জ্বেলে দিও, জেলে দিও।

আবেগঘন বক্তৃতায় জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের কবিতার কয়েকটি লাইন উদ্ধৃত করে অভিমান করে দূরে থাকা দলীয় নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে জগলুল হায়দার বলেন, শুণ্য এ হৃদয় পাষাণি মোর আয়, ফিরে আয়, ফিরে আয়, ফিরে আয়। দেশরত্ন শেখ হাসিনার মুখের দিকে তাকিয়ে সবাইকে ফিরে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।

সাংসদের জন্য গণসংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হলেও তা জনসমুদ্রে পরিনত হয়। ধুলিয়র বিশাল স্কুল মাঠে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। মানুষ তার বক্তব্য শোনার জন্য অধীর আগ্রহে রাত ১০ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তিনি বক্তব্য শুরু করে দীর্ঘ ৪০ মিনিট বক্তব্য দেন। তার বক্তব্যে ছিল গত পাঁচ বছরের উন্নয়ন ও সাফল্যের কথা, সরকারে সাফল্যোর কথা। ধলবাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি বাবু সজল মুখার্জীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দুই উপজেলার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, ২০ টি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারন সম্পাদকসহ সহযোগী অংগ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠান শেষে মনোঙ্গ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন হয়।

নিউজবিডি৭১/বিসিপি/২১ অক্টোবর, ২০১৮

Share.

Comments are closed.