১৮ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং “যাকে তাকে নৌকা দিলে তার পক্ষে কাজ করবেন না আওয়ামীলীগ নেতা শফিউল আযম লেলিন”
Mountain View

“যাকে তাকে নৌকা দিলে তার পক্ষে কাজ করবেন না আওয়ামীলীগ নেতা শফিউল আযম লেলিন”

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম

স্টাফ করসপনডেন্টঃ “একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসনে যাকে তাকে নৌকা দিলে তার পক্ষে কাজ করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শফিউল আযম লেলিন”। এ ঘোষনার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ তথা দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার নির্দেশনাকে প্রকাশ্যে বিরোধিতা করলেন তিনি।

https://web.facebook.com/rezwanul.a.nipun/videos/10217583525887868/?t=11

শফিউল আযম লেলিন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে।

গতকাল উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নের গ্যারেজ বাজারে বাংলাদেশ আওয়ামী স্বাধীনতা প্রজন্মলীগ শ্যামনগর উপজেলা শাখা আয়োজিত সরকারের সাফল্য ও উন্নয়নের প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি এ ঘোষনা দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শফিউল আযম লেলিন বলেন, “ভাইয়েরা আমার, আমার পূর্ববর্তী প্রত্যেকটি বক্তা বলেছে, যাকে নৌকা দেবে ওনারা সবাই সম্মিলিতভাবে তার পক্ষে কাজ করবে। কিন্তু আমি কিন্তু নই। যাকে তাকে মনোনয়ন দিলে আমি তার পক্ষে কাজ করব, আমি কিন্তু তা করব না।”

অনুষ্ঠানে সরকারের সাফল্য ও উন্নয়ন প্রচারের চেয়ে দলীয় সাংসদের সমালোচনা করে বেশি বক্তব্য রাখা হয়।  লেলিনের বক্তব্যের অধিকাংশ জুড়ে ছিল সাংসদ বিরোধী সমালোচনা। কেন্দ্রীয়ভাবে কোন ব্যক্তির পক্ষে প্রচার না চালিয়ে সরকারের উন্নয়ন ও সাফল্য প্রচারের জন্য দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তা মানছেন না এই নেতা। হঠাৎ তার এ ঘোষনায় উপস্থিত নেতা কর্মীরা হতবাক হয়ে যান। দল থেকে এখনো নৌকার মাঝি হিসেবে কারো নাম ঘোষনা না এলেও বর্তমান সাংসদ জগলুল হায়দার আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন পাচ্ছেন এ ধরণের আশংকা থেকেই তিনি এ বক্তব্য রাখেন। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বর্তমান সাংসদের সমালোচনা করে লেলিনের এ ধরণের বক্তব্যে দলীয় নেতা কর্মীদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শ্যামনগর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা কর্মী জানান, জেলা আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল পদে থেকে শেখ হাসিনার নির্দেশের বিপক্ষে এ ধরনের বক্তব্য তারা মেনে নেবেন না। এ ধরণের বক্তব্য প্রচারের ফলে সরকার বিরোধীরাই লাভবান হচ্ছে। সরকারের উন্নয়নের ফষল মানুষের কাছে পৌঁছানো যাচ্ছে না। ফলে দল চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাংসদের বিরোধিতা করতে যেয়ে প্রকান্তরে আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিশ্চিত আসন হাতছাড়া হতে পারে।

উপজেলা আওয়ামীলীগের একাধিক নেতা আরো জানান, এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই গত পাঁচ বছরে বর্তমান সাংসদ জগলুল হায়দার এর নেতৃত্বে শ্যামনগরে যে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে তা স্বাধীনতা পরবর্তী আর কোন সময়ে হয়নি। শেখ হাসিনার নির্দেশ অমান্য করে যারা এ ধরণের ওদ্ধত্যপূর্ণ এবং দল বিরোধী বক্তব্য রাখছেন তাদের বিরুদ্ধে দলের পক্ষ থেকে এখনই ব্যবস্থা নেয়া উচিত। আওয়ামী লীগে বঙ্গবন্ধু কন্যার কথাই শেষ কথা বলে মনে করেন তারা। এ ধরণের নেতার কারণে দলেরই বেশি ক্ষতি হচ্ছে।

তারা জানান, শফিউল আযম লেলিন ইতিপূর্বে দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিপক্ষে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সেই নির্বাচনে তার শুধু ভরাডুবি নয়, জামানতও বাজেয়াপ্ত হয়। এছাড়া এর আগের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চালান। এই নির্বাচনেও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন তিনি। নির্বাচনে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী বিপুল ভোটে পরাজিত হয়। এছাড়া গত বছর গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তার আপন ভাই আলী আযম টিটোর অকাল মৃত্যুতে সেখানে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নির্বাচনে তার পছন্দের প্রার্থী দলীয় টিকেট না পাওয়ায় তিনি নৌকার বিরোধিতা করেন। যে কারণে তার নিজ কেন্দ্রে নৌকার প্রার্থী মাত্র ২৭ ভোট পায় এবং আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজয় ঘটে। তার কারণে গত ২টি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ তথা নৌকার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভরাডুবি ঘটে এবং জামায়াত প্রার্থী জয় লাভ করে। নেতা-কর্মীরা জানান, গত পাঁচ বছরে এই নেতাকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তিনি ঢাকাতে বসবাস করছিলেন।

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বাধীনতা প্রজন্মলীগ শ্যামনগর শাখার সভাপতি  জি এম ইমাম হোসেনের সভাপতিত্বে এবং মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়ন সভাপতি জাকির হোসেন এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন সংগঠনের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান, আঞ্জুমান সরকার হ্যাপি, ডালিম কুমার হ্যাপি, গৌতম কুমার মন্ডল প্রমুখ।

নিউজবিডি৭১/বিসিপি/১৫ অক্টোবর, ২০১৮

Share.

Comments are closed.