১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সভা- ভারতে বিদ্যুৎ রফতানি করতে চায় বাংলাদেশ
Mountain View

যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সভা- ভারতে বিদ্যুৎ রফতানি করতে চায় বাংলাদেশ

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম 
ঢাকা : বেশ আগে থেকেই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। এখন বাংলাদেশই বিদ্যুৎ রফতানি করতে চায় ভারতে। কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশকে ঘিরে রয়েছে ভারতের সাতটি রাজ্য। এ রাজ্যগুলোর বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে পিছিয়ে আছে। তাদের অনেক ঘাটতিও আছে। বাংলাদেশ ওই রাজ্যগুলোতে বিদ্যুৎ রফতানি করতে চায়।

বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত বাংলাদেশ-ভারত যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির পঞ্চদশ সভায় বিদ্যুৎ রফতানির বিষয়ে ভারতকে প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ।

মঙ্গলবার সিলেটের স্থানীয় একটি হোটেলে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস এবং ভারতের পক্ষে দেশটির বিদ্যুৎ সচিব অজয় কুমার ভাল্লা আলোচনায় নেতৃত্ব দেন।

ভারত বাংলাদেশের বিদ্যুৎ রফতানির প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউস।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। বর্তমানে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা ২০ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে উৎপাদন ক্ষমতা হবে ৪০ হাজার মেগাওয়াট। তাই ভবিষ্যতে আমদানির পাশাপাশি বিদ্যুৎ রফতানির কথা ভাবছে বাংলাদেশ। বিদ্যুৎ আমদানি ও রফতানি পাশাপাশি চলতে পারে। এটা আর্থিকভাবে উভয় দেশের জন্য লাভজনক বলে মনে করেন কর্মকর্তারা। আগামীতে নেপাল-ভটুান থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি করতে চায় বাংলাদেশ। কারণ ওই দু’দেশের জলবিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কম। বাংলাদেশে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি। এজন্য সেখান থেকে আমদানি করলে কম দামে বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।

আহমদ কায়কাউস সমকালকে বলেন, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ রফতানির বিষয়ে চিন্তাভাবনা হচ্ছে। বিশেষ করে শীতকালে চাহিদা অনেক কমে যায়। এ সময় আমাদের বিদ্যুৎ উদ্বৃত্ত থাকে। এ সময় রফতানি করা যেতেই পারে। ভারতকে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারা ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে।

বাংলাদেশ কীভাবে বিদ্যুৎ রফতানি করবে জানতে চাইলে স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ খাতের মাস্টারপ্ল্যান এমনভাবে করা হয়েছে, ভবিষ্যতে চাহিদার চেয়ে উৎপাদন সক্ষমতা সব সময় বেশি থাকবে। ফলে পার্শ্ববর্তী কোনো দেশ চাইলে আমরা রফতানি করতে পারব।

তিনি বলেন, গ্রীষ্মকালে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ চাহিদা যখন বেশি থাকে তখন বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। শীতকালে চাহিদা কম থাকে, তখন রফতানি করা হবে।

শীতকালে তো ভারতেও চাহিদা কম থাকবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারতের সব প্রদেশের চাহিদা একই থাকে না। ঋতু অনুসারে পরিবর্তিত হয়। ফলে কোথাও না কোথাও রফতানি সম্ভব হবে। এ ছাড়া বাংলাদেশে যখন গ্রীষ্মকাল তখন নেপাল ও ভুটানে প্রচুর জলবিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়। সে সময় আমদানি করা যাবে। শীতকালে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়, কিন্তু তাদের ব্যবহার বাড়ে। সে সময় রফতানি করা যাবে।

সভায় ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে সব ধরনের কর থেকে অব্যাহতি প্রদান, রাজনৈতিক কারণে বা ভারতীয় আইন পরিবর্তনজনিত আর্থিক সংশ্লেষের উদ্ভব হলে তা থেকে ছাড়ের বিষয়ে আলোচনা হয়।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সচিব জানান, তারা (ভারতীয় প্রতিনিধি দল) বলেছে, কর নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তির কথা ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে। শিগগিরই সমস্যার ইতিবাচক সমাধান হবে।

আন্তঃসীমান্ত বিদ্যুৎ বাণিজ্যে ভারতের যে আইনি বাধা রয়েছে, তা দূর করার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সচিব কায়কাউস এ বিষয়ে বলেন, ভারতীয় প্রতিনিধি দল জানিয়েছে, ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে অন্য দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে যেসব শর্ত রয়েছে তা পুনর্বিবেচনা করে নতুন করে নীতিমালা করা হচ্ছে। তারা এরই মধ্যে একটি খসড়া প্রস্তুত করেছে। বাংলাদেশ একটি কপি চেয়েছে। তা হাতে পেলে এ সম্পর্কে মতামত জানানো হবে। এটি চূড়ান্ত হলেই নেপাল ও ভুটান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি ও সেসব দেশে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগের বাধা দূর হবে।

সভা সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো হলো- ভারতের জিএমআর কোম্পানির নেপালে উৎপাদিত জলবিদ্যুৎ ভারতের এনভিভিএনের মাধ্যমে বাংলাদেশে আমদানি, ভুটানের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশ-ভারত ও ভুটানের যৌথ বিনিয়োগ ও এই প্রকল্প থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বাংলাদেশে আমদানির বিষয়টি।

সচিব জানান, ভারতের অরুণাচলের বিদ্যুৎ বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বিহারে নিতে সঞ্চালন লাইন নির্মাণের বিষয়ে কারিগরি ও আর্থিক সমীক্ষা চলছে। এসব প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সভায় ভেড়ামারা-বহরপুর আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানির বর্তমান অবস্থা, সূর্যমনি-কুমিল্লা আন্তঃসংযোগ দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে আরও ৩৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি, প্রস্তাবিত কাটিহার-পার্বতীপুর-বড়পুকুরিয়া-বরানগর ৭৬৫ কেভি গ্রিড সঞ্চালন লাইনের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া ভারতীয় শিল্পগ্রুপ আদানি ও রিলায়েন্সের বাংলাদেশে বিনিয়োগ, বাংলাদেশ-ভারত যৌথ উদ্যোগে ভারতে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। সভায় রামপালে বাস্তবায়নাধীন মৈত্রী সুপার থারমাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজের অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের সহযোগিতার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মাহবুবুল আলম, ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের জয়েন্ট সেক্রেটারি মিজ ভারতী, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান খালিদ মাহমুদ, পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুম আল বেরুনী, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন প্রতিনিধি প্রমুখ।

এর আগে গত সোমবার বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতা-সংক্রান্ত বাংলাদেশ-ভারত জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৫তম সভা একই স্থানে অনুষ্ঠিত হয়।

নিউজবিডি৭১/বিসি/সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮

Share.

Comments are closed.