১৫ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং দুই খণ্ডে ভূমিষ্ঠ হলো নবজাতক!
Mountain View

দুই খণ্ডে ভূমিষ্ঠ হলো নবজাতক!

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই দুই খণ্ড করে প্রাণ নেওয়া হলো নবজাতকের। মাতৃগর্ভ থেকে তার হাত-পা টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনা হলো। আর মাথা থেকে গেল ভেতরে। একদিন পর মাথার খণ্ডটি অস্ত্রোপচার করে বের করা হলো। সে ভূমিষ্ঠ হলো বটে, কিন্তু প্রাণহীন দুই খণ্ডে। কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকের অবহেলা এবং নার্স ও আয়ার খামখেয়ালিতে পৃথিবীর আলো দেখা হলো না তার। প্রসূতি ফাতেমা বেগমের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

দেবিদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের রিকশাচালক সেলিম মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য শনিবার বিকেলে ডা. নীলা পারভীনের তত্ত্বাবধানে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। রাতে তার প্রসব বেদনা ওঠে। সেলিম মিয়া ও তার স্বজনরা অভিযোগ করেন, প্রচণ্ড ব্যথায় ছটফট করলেও সন্তান প্রসব করানোর কোনো ব্যবস্থা করেননি চিকিৎসকরা। এ অবস্থায় রাত ১১টার দিকে হাসপাতালের নার্স আছিয়া ও ঝর্না এবং আয়া জেসমিন মিলে ফাতেমার গর্ভের সন্তানের হাত-পা ধরে টানাটানি শুরু করে। তখন হাত-পাসহ শরীরের কিছু অংশ ছিঁড়ে বের হয়ে আসে।

ফামেতার স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, ছিঁড়ে আসা হাত-পা ডাস্টবিনে লুকানোর সময় নার্স ও আয়া তাদের কাছে ধরা পড়ে যায়। ওই অবস্থায় ফাতেমার অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়লে গর্ভে সন্তানের মাথার অংশ রেখেই তড়িঘড়ি করে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পরদিন রোববার কুমেক হাসপাতালের চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করে ফাতেমার গর্ভ থেকে সন্তানের মাথার অংশ বের করেন। ফাতেমার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপের দায়িত্বশীল মেডিক্যাল অফিসার ডা. আহসানুল হক ও ডা. নীলা পারভীনের পক্ষে সাফাই গাইছেন উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবির। তিনি দাবি করেন, তারা দু’জন কিছুই জানতেন না। তবে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ফাতেমার স্বামী সেলিম মিয়া অভিযোগ করেন, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার নীলা পারভীন একটি প্রাইভেটে হাসপাতালে তার স্ত্রীকে পরীক্ষা করেন। টাকা দিতে পারব না- এই ধারণা থেকে তাদের পাঠিয়ে দেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। ডা. নীলার কথামতো তিনি সরকারি হাসপাতালে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে তার স্ত্রীর ব্যাপারে একবারও খোঁজ নেননি তিনি।

সেলিম মিয়ার অভিযোগ, চিকিৎসক ও নার্সের অবহেলাতে ভূমিষ্ঠ হওয়ার আগেই তাদের সন্তান মারা গেছে। এখন তার স্ত্রীও মরতে বসেছে।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আহমেদ কবির অবশ্য স্বীকার করেছেন, ডা. আহসানুল ও ডা. নীলাকে না জানিয়ে রাতে নার্স আছিয়া, ঝর্না ও আয়া জেসমিন মিলে প্রসূতির ডেলিভারির চেষ্টা করে। এ সময় সন্তানের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. মুজিবুর রহমান জানান, দেবিদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি নবজাতকের মৃত্যুর তথ্য এসেছে। খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজবিডি৭১/আ/সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

Share.

Comments are closed.