১৯শে ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং আফগানদের কাছে বাংলাদেশের হার
Mountain View

আফগানদের কাছে বাংলাদেশের হার

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : টপ অর্ডারদের ব্যর্থতায় এশিয়া কাপের দ্বিতীয় ম্যাচে হার সঙ্গী হয়েছে বাংলাদেশের। ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় আফগানিস্তানের কাছে বাংলাদেশ হেরেছে ১৩৬ রানে। আফগান বোলিংয়ে ৪২.১ ওভারে ১১৯ রানেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ।

২৫৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ইনিংস। দ্রুত দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় শুরুতে। সেই ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই বিপদ আরও বাড়িয়ে যান মুমিনুল হক। খানিক পর তার দেখানো পথে হাঁটেন মিঠুন। মাত্র ২ রান করে গুলবাদিন নাইবের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি।

প্রায় তিন বছর পর ওয়ানডে দলে সুযোগ পেয়েছেন মুমিনুল। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে নিজের সামর্থ্য দেখানোর সুযোগটা এসেছে মুশফিকুর রহিমকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বিশ্রামে রাখায়। যদিও সুযোগটা মোটেও কাজে লাগাতে পারলেন না বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। মাত্র ৯ রান করে প্যাভিলিয়নে ফিরে গেছেন মুমিনুল। গুলবাদিন নাইবের বলে উইকেটরক্ষক মোহাম্মদ শাহজাদের গ্ল্যাভসবন্দী হন তিনি।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। যদিও অভিষেকটা রঙিন করতে পারলেন না এই ব্যাটসম্যান। আরেক ওপেনার লিটন দাসও ব্যর্থ। দুই ওপেনারকে হারিয়ে শুরুতেই বিপদে পড়ে বাংলাদেশ।

তামিম ইকবালের ইনজুরিতে একাদশে সুযোগ পেয়েছেন শান্ত। ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ খেলার সুযোগটা নিশ্চিতভাবেই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু হলো না। ওপেনিংয়ে নেমে মাত্র ৭ রান করে ফিরে গেছেন তিনি প্যাভিলিয়নে। মুজিব উর রহমানের বলে বিগ শট খেলতে গিয়ে পয়েন্টে ধরা পড়েন তিনি আফতাব আলমের হাতে।

ওই ধাক্কা কাটার আগেই আবারও উইকেট হারায় বাংলাদেশ। শান্তর ক্যাচ ধরা আফতাব এবার উইকেট শিকারির ভূমিকায়। লিটনকে এলবিডাব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে প্যাভিলিয়নে ফেরত পাঠান আফগান এই পেসার। ফিল্ড আম্পায়ার আউট দিলেও রিভিউ নিয়েছিলেন লিটন। তাতে অবশ্য কাজ হয়নি, রিভিউ হারের সঙ্গে ৬ রানে আউট হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর চেষ্টায় ছিলেন সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কিন্তু রশিদ খানের ঘূর্ণিতে বিদায় নিয়েছেন দুজনেই। পরে মেহেদী হাসান মিরাজ নামলেও ফিরেছেন ৪ রানে। মাশরাফির বিদায়ের পর ৩৬.১ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ১১০ রান।

রশিদের ঘূর্ণিতে এলবিডাব্লিউতে বিদায় নেন সাকিব। ফিরে গেছেন ৩২ রানে। পরে বোল্ড হয়ে ২৭ রানে ফিরেছেন মাহমুদউল্লাহ। ৫৫ বলে ৩২ রান করেন সাকিব আর ৫৪ বলে ২৭ রান করেন রিয়াদ। রশিদ খানের স্পিন সামাল দিতে পারেননি তিনি। খেই হারিয়ে বোল্ড হয়ে ফেরেন। বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়া বাংলাদেশের পরিণতি আরও এগিয়ে নেন মিরাজ। ৩৩.১ ওভারে রহমাত শাহর বলে তালুবন্দী হন।

এর আগে ২১.৫ ওভারে রশিদ খানের বোলিংয়ে লেগ বিফোরের ফাঁদে পা দিয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ। অন ফিল্ড আম্পায়ার শুরুতে নট আউট দিলেও আফগানিস্তান রিভিউ নেয় তারপর। কিন্তু আম্পায়ারস কল হওয়ায় সেই রিভিউ আর টেকেনি।

সাকিব-মাহমুদউল্লাহর আগেই আসা যাওয়ার মিছিল ছিলো ইনিংসে। বিদায় নেন মোহাম্মদ মিঠুন। আগের ম্যাচে চমৎকার ব্যাটিংয়ে মুগ্ধতা ছড়ালেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ব্যর্থ ছিলেন। তার বিদায়ে ৪৩ রান তুলতেই টাইগাররা হারায় ৪ উইকেট।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা আফগানিস্তান রশিদ খানের ঝড়ো হাফসেঞ্চুরির সঙ্গে গুলবাদিন নাইবের চমৎকার ব্যাটিংয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে স্কোরে জমা করে ২৫৫ রান।

নিউজবিডি৭১/এম কে/ ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

Share.

Comments are closed.