২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং হাতে আঘাত পেয়েও কেনো মাঠে নামলেন তামিম?
Mountain View

হাতে আঘাত পেয়েও কেনো মাঠে নামলেন তামিম?

0
image_pdfimage_print

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : দেশে থাকতে এশিয়া কাপের ক্যাম্পেইন চলার সময় ফিল্ডিং করতে গিয়ে ডান হাতের আঙুলে চিড় ধরে তামিম ইকবালের। শঙ্কার আগুনে জল ঢেলে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই মাঠে নামেন। তবে বিধি বাম! ম্যাচের দ্বিতীয় ওভারে লাকমলের বাউন্সারে পুল করতে গিয়ে ফের আহত হলেন। এবার ইনজুরি বাম হাতে।

ব্যথার তীব্রতা এতই ছিল যে, প্রথম ওভারেই দুই উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে অথৈ জলে ফেলে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে এক্স-রে করা হয়। রিপোর্ট দেখে ভয়াবহ সংবাদ দেন চিকিৎসক। শুধু ওই ম্যাচেই নয়, ছয় থেকে আট সপ্তাহ মাঠে নামতে পারবেন না দেশসেরা ওপেনার।

৪৭তম ওভারে মোস্তাফিজ সাজঘরে ফিরে যাওয়ার পর ইনিংসের শেষ বলই ধরে নিয়েছিলেন অনেকে। হতেও পারতো সেটা। কিন্তু এরপরে যা ঘটল তা তো রীতিমতো অবিশ্বাস্য! গ্যালারি কিংবা টিভি সেটের সামনে বসা কারোরই যেন বিশ্বাস হতে চায় না। দুই হাতে চোখ ঘঁষে পরিষ্কার করে ফের তাকাতে হয়েছে টিভি পর্দায়। হ্যাঁ, ভাঙা হাত নিয়েই তামিম নামছেন।

যার ইনজুরিতে সমর্থকদের আশায় ভাঙন ধরেছিল, তিনিই শেখালেন প্রকৃত যোদ্ধার চরিত্র। কিন্তু তামিমের এভাবে ভাঙা হাতে মাঠে নেমে আসার পেছনের গল্পটা আসলে কী?

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিমের নামার সিদ্ধান্ত নিয়ে অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য খুব বেশি কিছু বললেন না। কেবল তামিমকে মনে রাখতে বললেন আর বাকিটা শুনতে বললেন তামিমের কাছ থেকেই।

কিন্তু ওই সময় ড্রেসিংরুমের পরিস্থিতি অবশ্য পরে জানা গেছে।

বিশেষ পরিস্থিতিতে তামিমকে ব্যাটে পাঠানোর সিদ্ধান্তটা আসলে নিয়েছিলেন মাশরাফিই। অষ্টম উইকেট পড়ে যাওয়ার পর সিদ্ধান্ত হয় আরেক উইকেট পড়লে, মুশফিক যদি স্ট্রাইকে থাকেন, তবেই তামিমকে নামানো হবে।

৪৭তম ওভারে মোস্তাফিজ রান আউট হয়ে গেলে নন-স্ট্রাইকে ছিলেন মুশফিক। ওভার শেষ হতে বাকি ছিল আরও এক বল। অধিনায়কের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তখন আর মাঠে নামার কথা নয় তামিমের। দলের পরিকল্পনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম। ২২৯ রানে লঙ্কানদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামার কথা টাইগার বোলারদের। তাৎক্ষণিকভাবে সাহসী সিদ্ধান্ত নিলেন তামিম। নিজ থেকেই বলেন, ‘আমি গিয়ে এক বল খেলব, আমি যাব।’

জানা গেছে, তামিমের হাতের একাধিক জায়গায় ফ্র্যাকচার। হাড় আলগাও হয়ে গেছে। দুই আঙুলে ব্যান্ডেজ থাকায় তাই হাতে গ্লাভস পরাও সম্ভব হচ্ছিল না। তামিমের সিদ্ধান্তের পর অধিনায়ক নিজে গ্লাভস কেটে হাতে সেট করে দেন।

এক হাতে লাকমলের শেষ বলটা কোনোমতে ঠেকিয়ে মুশফিককে সুযোগ করে দিলেন। পরে আর স্ট্রাইকে যেতে হয়নি। সুযোগের শতভাগ কাজে লাগিয়ে আরো ৩২ রান তোলেন মুশফিক। তামিম অপরাজিত থাকে ৪ বলে ২ রানে। বাংলাদেশ পায় ২৬১ রানের পূঁজি।

বোলাররাও এদিন জ্বলে উঠেছেন তামিমের উৎসাহে। লঙ্কানদের গুঁড়িয়ে দেন মাত্র ১২৪ রানে। এশিয়া কাপ শুরু হয় ১৩৭ রানের বিশাল জয়ে।

নিউজবিডি৭১/আ/সেপ্টেম্বর ১৬, ২০১৮

Share.

Comments are closed.