২৩শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং কেউ বলতে পারেন কবে এই রাষ্ট্রের বোধোদয় হবে?
Mountain View

কেউ বলতে পারেন কবে এই রাষ্ট্রের বোধোদয় হবে?

0
image_pdfimage_print

শরিফুল ইসলাম

চাঁদাবাজির অভিযোগ। এই অভিযোগে মামলা নিলো পুলিশ। আসামি গ্রেপ্তার হলো। রিমান্ড হলো। আসামীকে কারাগারেও পাঠানো হলো। অথচ মামলা যিনি করেছেন তিনি বলছেন আসামীকেই চেনেন না তিনি। তাকে মিথ্যা বলে মামলায় স্বাক্ষর করানো হয়েছে। এমনকি মামলার ঘটনায় বাদীর স্ত্রীও আসামির কাছে ক্ষমা চাইতে আগ্রহী। ঘটনা শুনে এই দেশের নাগরিক হিসেবে আমার খুব লজ্জা হচ্ছে। আমার প্রিয় বাংলাদেশের কি এমন পথে চলার কথা?

মিথ্যা মামলায় যিনি এখন কারাগারে, সেই আসামি যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী কে সাংবাদিকতার সূত্রেই আমি চিনতাম। বহু বার কথা হয়েছে। বেশ কিছুদিন যোগাযোগ নেই। দেশের সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে বলতেন তিনি। বলতেন বিশৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। গতকাল খবরে দেখলাম, সেই মোজাম্মেল চৌধুরী এখন এক পরিবহন শ্রমিকের চাঁদাবাজির মামলায় কারাগারে। আরও বিষ্মিত হলাম জেনে যে পরিবহন শ্রমিক মামলা করেছেন সেই বাদী মোজাম্মেল চৌধুরীকে চেনেন না। কখনো দেখা হয়নি। পরিবহন মালিক শ্রমিক নেতারা নতুন পরিবহন কোম্পানি খোলার কথা বলে তার কাছ থেকে একটা কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে গেছেন। আর সেটাই এখন চাঁদাবাজির মামলা।

মামলায় বলা হয়েছে, দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছেন মোজাম্মেল। দশ হাজার টাকা পরিশোধও করেছেন দুলাল। অদ্ভুত সেই মামলায় মোজাম্মেল চৌধুরীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলো। আদালত তাকে জেলে পাঠালো। একদিনের রিমান্ডও দিলো। আমি আসলেই বিষ্মিত। আসল ঘটনা তাকে নাকি এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন না করতে বলা হয়।

মাঝে মধ্যে ভাবি এমন অদ্ভুত ঘটনা ঘটিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আমাদের আদালত, বিচার ব্যবস্থা সব কিছুকে হেয় করে লাভটা কার হয়? এসবে কি দেশের ভাবমূর্তি বাড়ে না কমে? এই ঘটনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সরকার, পুলিশ, বিচারব্যবস্থা কারও ভাবমূতি বেড়েছে বলে আমার মনে হয় না। সত্যি কথা, আজকাল প্রতিবাদ করতে ভয় লাগে। তারপরেও করি বিবেকবোধ থেকে। আর আমি মনে করি এমন অন্যায়ের প্রতিবাদ করাটার নামই দেশপ্রেম। আর সে কারণেই প্রতিবাদ। রাষ্ট্রকে বলবো, দ্রুত মোজাম্মেল চৌধুরীকে মুক্তি দিন।

জর্তিময় বড়ুয়া দা, আমি দেখেছিিআপনি আদালতে বলেছেন, রিমান্ড এখন সস্তা হয়ে গেছে। তবে এতো কিছুর পরেও আমি মানুষের উপর, এই দেশের উপর পুরোপুরি আস্থা হারাই না। কারণ কী শুনবেন? যে দুলালের স্বাক্ষরে মামলা হয়েছে সেই দুলালের মেয়ে আর স্ত্রী ঘটনা শুনে কাঁদছেন। দুলালের স্ত্রী হাসিনা বেগম কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন,
“আমি আমার স্বামীরে বলছি তুমি এইটা কী করছে? যার বিরুদ্ধে মামলা করছো ওই লোকরে পাইলে আমি মাফ চাইতাম”।

আমি জানি না, পড়াশোনা না জানা দুলালের স্ত্রীর যে বিবেকবোধ, সেই বিবেকবোধ কেন আমাদের সবার হয় না? বিশেষ করে এই রাষ্ট্রের? সবাই একটু ভেবে দেখেন । স্বাধীনতার ৪৭ বছর হলো। মহান মুক্তিযুদ্ধ, ত্রিশ লাখ শহীদ, বঙ্গবন্ধুর এতো সংগ্রামের বিনিময়ে এই রাষ্ট্র? আমায় কেউ বলতে পারেন আর কবে এই রাষ্ট্রের বোধোদয় হবে?
ফ্রিল্যান্স লেখক।  (ফেইসবুক থেকে সংগৃহীত)

নিউজবিডি৭১/এম কে/সেপ্টেম্বর ৭, ২০১৮

Share.

Comments are closed.