১৬ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং অভিজিৎ, জুলহাজ-তনয় ও নাজিমুদ্দিন হত্যার চার্জশিট যেকোনও দিন
Mountain View

অভিজিৎ, জুলহাজ-তনয় ও নাজিমুদ্দিন হত্যার চার্জশিট যেকোনও দিন

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : গত কয়েক বছর ধরে ব্লগার ও মুক্তমনা লেখকসহ ভিন্ন মতাদর্শের ব্যক্তিদের লক্ষ্য স্থির করে হত্যা (টার্গেট কিলিং) করে আসছে জঙ্গিরা। এই টার্গেট কিলিংয়ের সর্বশেষ শিকার মুন্সিগঞ্জের প্রকাশক শাহজাহান বাচ্চু। এসব হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে অনেককে গ্রেফতার করা হলেও বেশিরভাগ মামলারই তদন্তে কোনও অগ্রগতি নেই। তবে ব্লগার ও মুক্তমনা লেখক অভিজিৎ রায়, জুলহাজ-তনয় ও নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি) সূত্রে জানা গেছে। পুলিশের তদন্তকারী এই সংস্থার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টেকনিক্যাল কিছু কারণে চার্জশিট দিতে দেরি হচ্ছে। তবে এ তিন মামলার চার্জশিট দেওয়া হতে পারে যেকোনও দিন।

অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ড

আদালত সূত্র জানায়, ব্লগার ও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের সর্বশেষ তারিখ ছিল গত ২৩ জুলাই। মামলাটির তদন্ত করছে সিটিটিসি। তবে ধার্য তারিখে তারা ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেনি। পরে এ আদালতের বিচারক গোলাম নবী তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেন আগামী ৫ সেপ্টেম্বর।

২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি একুশে বইমেলা থেকে বাসায় ফেরার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির কয়েক গজ দূরে দুর্বৃত্তরা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক অভিজিৎ রায় ও তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যার ওপর হামলা চালায়। নির্মমভাবে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে তাদের গুরুতর জখম করে দুর্বৃত্তরা। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় অভিজিৎ মারা যান। অভিজিতের স্ত্রী চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে আমেরিকায় চলে যান। অভিজিৎ হত্যার ঘটনায় তার বাবা অধ্যাপক ড. অজয় রায় শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে থানা পুলিশ ও পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তদন্ত করে। গত বছরের নভেম্বরে সিটিটিসিতে স্থানান্তর করা হয়।

সিটিটিসির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিভিন্ন সময় গ্রেফতার হওয়া জঙ্গিদের জিজ্ঞাসাবাদে এবং আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি থেকে জানা গেছে, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় নয়জন। তাদের মধ্যে তিনজন গ্রেফতার রয়েছে। বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে একজন। সন্দেহভাজন আরও দু’জনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তবে তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। বাকি তিনজনের সাংগঠনিক পরিচয় জানা যায়নি। ফলে তদন্ত শেষ করে আদালতে চার্জশিট দিতে সময় লাগছে।

জুলহাজ-তনয় হত্যাকাণ্ড

রাজধানীর কলাবাগানে জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু মাহবুব তনয় হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে দাখিলের সর্বশেষ দিন ধার্য ছিল গত ২৪ জুলাই। কিন্তু এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি তদন্ত কর্মকর্তা। পরে এ আদালতের বিচারক বেগম মাহমুদা আক্তার আগামী ৩ সেপ্টেম্বর এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করেন।

২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল রাজধানীর কলাবাগান লেক সার্কাস এলাকার বাসায় ঢুকে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস ও মার্কিন সাহায্য সংস্থা ইউএসএইড-এর কর্মী জুলহাজ মান্নান ও তার বন্ধু নাট্যকর্মী মাহবুব তনয়কে কুপিয়ে হত্যা করে জঙ্গিরা। ঘটনার পর অনুসন্ধান করে পুলিশ জানতে পারে, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের একটি স্লিপার সেল এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, যারা ২০১৩ সাল থেকে রাজধানী ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ব্লগার, লেখক, প্রকাশক ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের টার্গেট করে হত্যা করে আসছিল।

আলোচিত এ জোড়া হত্যাকাণ্ডের পর কলাবাগান থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দুটি প্রথমে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তদন্ত করলেও এ বছরের শুরু থেকে তা চলে গেছে সিটিটিসি’র কাছে। এ হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন পর্যায়ে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে তিনজন দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। আরও তিন-চারজনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যাকাণ্ড

২০১৬ সালের ৬ এপ্রিল রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর সূত্রাপুরের একরামপুর মোড়ে নাজিমুদ্দিন সামাদকে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয়। গুলিতে তার মাথার ডান দিকের খুলি উড়ে যায়। রাস্তায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে মাথার মগজ। নাজিমুদ্দিন সামাদ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সান্ধ্যকালীন কোর্সের এলএলএম-এর শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়া সিলেট জেলা বঙ্গবন্ধু জাতীয় যুব পরিষদের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক এবং গণজাগরণ মঞ্চেরও কর্মী ছিলেন তিনি। পরে এ ঘটনায় স্বজনরা মামলা করতে অনীহা প্রকাশ করায় সূত্রাপুর থানার এসআই নুরুল ইসলাম একটি মামলা দায়ের করেন। এ মামলাটিও প্রথমে তদন্ত করে ডিবি। পরে এ মামলার তদন্তের দায়িত্বও দেওয়া হয় সিটিটিসিকে।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানতে পারেন, নাজিমুদ্দিন সামাদ হত্যার ঘটনায়ও জড়িত ছিল জঙ্গিরা। ২০১৭ সালের অক্টোবরে রশিদুন নবী ভূঁইয়া ওরফে টিপু ওরফে রাসেল ওরফে রফিক ওরফে রায়হান নামের একজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত এই জঙ্গিকে আদালতে তোলা হলে বিচারককে সে বলে, ‘স্যার, আমার ভুল হয়ে গেছে। আমরা এই ঘটনা (হত্যাকাণ্ড ) ঘটিয়েছি; বুঝতে পারিনি। আমাদের ক্ষমা করে দেবেন।’এ মামলায় সিএম মোহাইমিনুল ইসলাম, মামুন রামীম ও মেহেদি হাসান অমি ওরফে রাফি নামে আরও তিন আসামি কারাগারে রয়েছে।

এসব হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে সিটিটিসির উপ কমিশনার মহিবুল ইসলাম খান বলেন,‘তদন্তের অনেক অগ্রগতি হয়েছে। চার্জশিট দেওয়ার প্রস্তুতিও রয়েছে আমাদের। আরও কিছু বিষয়ে নিশ্চিত হয়েই আমরা যেকোনও সময় এসব মামলার চার্জশিট দেবো আদালতে।’

নিউজবিডি৭১/এম কে/১৫ আগস্ট, ২০১৮

Share.

Comments are closed.