২১শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি!
Mountain View

হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি!

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : হজযাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বিমান ভাড়া আদায় করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে বিমান ভাড়া না বাড়লেও প্রতিবছরই হাজিদের বিমান ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে অবিচার ও অযৌক্তিক বলছে হজ্জ এজেন্সিগুলো।
ধর্মমন্ত্রণালয়ও বিষয়টিকে অস্বাভাবিক মনে করলেও এ নিয়ে কথা বলতেই রাজি নয় বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

একজন সাধারণ যাত্রী বছরের যে কোনও সময় সৌদি আবর যেতে বাংলাদেশ বিমানসহ অন্যান্য এয়ারলাইন্সে ফিরতি টিকেটসহ সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা বিমান ভাড়া দেন। কিন্তু, হজযাত্রীদের কাছ থেকে একই বিমানের ভাড়া আদায় করা হয় কয়েকগুণ। এবছর হাজিদের বিমান ভাড়া নির্ধারণ করা হয় এক লাখ ৩৮ হাজার ১৯১ টাকা। যা গত বছরের চেয়ে ১৪ হাজার টাকা বেশি।

আলী এয়ার ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরসের স্বত্ত্বাধিকারী হোসাইন আহম্মেদ মজুমদার বলেন, পৃথিবীর কোনও দেশে বিমান ভাড়া বাড়েনি, অথচ আমাদের দেশে বাড়ানো হচ্ছে। সাধারণ একটা সিট ৩৮ হাজার টাকায় নেয়া হয়। কিন্তু হজের জন্য সেটা এক লাখ ৩৮ হাজার হয়ে যাচ্ছে।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের পাশের দেশ ভারত থেকেও ৮৫০ ডলারে হাজিরা সৌদি যাচ্ছেন। আর আমাদের দেশে ১৫৭৫ ডলারে হাজি নেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দেশ হওয়া সত্ত্বে দ্বিগুণ ব্যবধান।

ইমদাদ এয়ার ট্র্যাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস এর স্বত্ত্বাধিকারী মো. ইমদাদুল্লাই সাঈদ বলেন, উমরা যাত্রী পাঠানোর সময় ৪০ হাজার টাকা করে বিমান ভাড়া নেয়া হয়, বিমানের বক্তব্য অনুযায়ী ফ্লাইটটা খালি আসে। সেটা হলেও ভাড়া আসে ৮০ হাজার টাকা।

হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ‘হাব’ বলছে, বাংলাদেশ বিমান ও সৌদি এয়ারলাইন্স কোনও কারণ ছাড়াই সেচ্ছাচারীভাবে হাজিদের কাছ থেকে অযৌক্তিক ভাড়া আদায় করে।

হাবের মহাসচিব শাহাদাত হোসাইন তসলিম বলেন, হজযাত্রীদের দুটি এয়ারলাইন্সে যাওয়া বাধ্য করা, সবচেয়ে বেশি মূল্য দিয়ে টিকিট কেনাসহ এ জাতীয় বিষয়গুলোতে বাধ্য করা মানেই উনাদের অধিকার ক্ষুন্ণ করা। ভারত, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার দিকে তাকালেও দেখা যায়, তারা এ প্রক্রিয়ায় হজযাত্রী প্রেরণ করে না।

হজ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনিছুর রহমান বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ভাড়ার বিষয়টি অন্য মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ারে থাকায় তাদের কিছু করার নেই।

তিনি বলেন, বিমান ভাড়ার সঙ্গে ধর্ম মন্ত্রণালয় কোনোভাবেই সম্পৃক্ত না। বিমান মন্ত্রণালয় যেটা দেয়, আমরা শুধু সেটা বাস্তবায়ন করি। তবে ভাড়া অতিরিক্ত নেয়া হয় সেটা স্বীকার করি।

এ বিষয়ে বিমান মন্ত্রণালয়ের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনও বক্তব্য দিতে রাজি হয়নি।
হাজিদের বিমান ভাড়া যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগের পাশাপাশি সরকারকে আরও বেশি আন্তরিক হওয়ার আহবান সংশ্লিষ্টদের।

নিউজবিডি৭১/আ/আগস্ট ১৪ ,২০১৮

Share.

Comments are closed.