১৭ই আগস্ট, ২০১৮ ইং গত পঁচিশ বছর ধরে উড়ন্ত পেঁচার মূর্তির খোঁজ করছেন গুপ্তধন সন্ধানীরা!
Mountain View

গত পঁচিশ বছর ধরে উড়ন্ত পেঁচার মূর্তির খোঁজ করছেন গুপ্তধন সন্ধানীরা!

0
image_pdfimage_print

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : গত পঁচিশ বছর ধরে ফ্রান্সে লুকিয়ে রাখা ব্রোঞ্জের তৈরি একটি উড়ন্ত পেঁচার মূর্তির খোঁজ করছেন গুপ্তধন সন্ধানীরা। যিনি এই মূর্তিকে খুঁজে বের করতে পারবেন, তিনি সোনা ও রূপা দিয়ে তৈরি পেঁচার আসল ভাস্কর্যটি উপহার হিসেবে পাবেন।

১৯৯৩ সালে এই গুপ্তধনের বিষয়ে প্রথম একটি বই প্রকাশিত হয়। ‘সোনালি পেঁচার খোঁজে’ নামের ওই বইতে গুপ্তধনের বিষয়ে কিছু সূত্র দেওয়া হয়েছে। এর কিছুদিন আগে বইটির লেখক ম্যাক্স ভ্যালেন্টিন ওই সোনার ভাস্কর্যটি ফ্রান্সের কোনো এক স্থানে লুকিয়ে রাখেন।

সেই সময় ব্রিটেনের সবচেয়ে বিক্রি হওয়া বই ছিল ‘ম্যাসকিউরেড’ যেখানে একটি সোনার খরগোশ খুঁজে বের করার বেশ কিছু জটিল ধাঁধা তৈরি করেছিলেন শিল্পী কিট উইলিয়ামস। কিন্তু এ ধরনের সব ধাঁধার শেষপর্যন্ত রহস্য উদঘাটিত হয়েছে।

কিন্তু ফরাসি পেঁচার রহস্য এখনো বের হয়নি। পঁচিশ বছর পরেও শত শত মানুষ সেই গুপ্তধন খুঁজে বেড়াচ্ছে। এখন সেসব রহস্য নিয়ে ইন্টারনেটে বিশেষ ফোরাম তৈরি হয়েছে, যারা নিয়মিত আলোচনার বাইরেও প্রতিবছর বিশেষ সভায় মিলিত হন।

এমনকি ফ্রান্সের আদালতে গুপ্তধন অনুসন্ধানকারীদের স্বার্থ দেখভাল করার জন্য একটি সমিতিও তৈরি হয়েছে। এটুকো নামের ওই সমিতির একজন প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পিয়েরে ব্লোউচ বলছেন, ‘১৯৯৩ সালের অাগস্ট মাস থেকে আমি এই গুপ্তধন খুঁজছি।’

অন্যদের মতো এই গুপ্তধনের বিষয়ে পিয়েরে ব্লোউচের নিজস্ব কিছু মতামত আছে। সেই ধারণা অনুযায়ী বোর্গেস শহরের আশপাশের অনেক জায়গায় তিনি খোঁড়াখুঁড়িও করেছেন। অবসরপ্রাপ্ত এই প্রকৌশলী এখন অনলাইন সাহিত্য নিয়ে সময় কাটান।

পিয়েরে ব্লোউচ আশা করছেন, গুপ্তধন উদ্ধারে খুব তাড়াতাড়ি নতুন কোনো ধারণা খুঁজে পাবেন। তবে এই ধাঁধার রহস্য বের করতে হলে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান, কল্পনাশক্তি আর কিছু সংকেত জানতে হবে।

বইয়ের ১১টি ধাঁধার ভেতর গুপ্তধনের আসল সন্ধান রয়েছে বলে মনে করা হয়। এই ধাঁধা অনুসরণ করে প্রথমে ফ্রান্সের একটি শহর সনাক্ত করতে হবে। আরও ১২টি ধাঁধার রহস্য উদ্ধার করে সেই শহরের ভেতর লুকানো গুপ্তধনটির স্থান সনাক্ত করা যাবে।

ইন্টারনেটে এ নিয়ে অনেক ধাঁধা এবং তার সম্ভাব্য সমাধান রয়েছে। সেগুলো নিয়ে অনেক তর্কবিতর্ক হচ্ছে, কিন্তু এখনো আসল গুপ্তধনের খোঁজ মেলেনি।

বইটি লেখার পর ভ্যালেন্টিন বেশ কিছুদিন একটি চ্যাট লাইন চালাতেন, যেখানে গুপ্তধন অনুসন্ধানকারীরা তাকে প্রশ্ন করতে পারতেন। এখন তার সেইসব উত্তর একত্রে ইন্টারনেটে পাওয়া যাচ্ছে এবং সেগুলোকে এই গুপ্তধন খোঁজার একটি তথ্যাগার বলে মনে করা হচ্ছে।

পেঁচাটি কি কখনো খুঁজে পাওয়া যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য বেঁচে নেই ম্যাক্স ভ্যালেন্টিন। ৯ বছর আগে তিনি মারা যান। তবে তার গুপ্তধনের রহস্য একটি চিঠিতে লিখে মুখবন্ধ খামের ভেতর রেখে গেছেন, যা এখন তার পরিবারের হেফাজতে রয়েছে।

এই রহস্যের আরেকজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হচ্ছেন শিল্পী মিচেল বেকার। যিনি বইয়ের ভেতরের অঙ্কন এবং পেঁচাটির ভাস্কর্য তৈরি করেছেন। সোনা ও রূপা দিয়ে তৈরি আসল পেঁচাটিও মিচেল বেকারের সংগ্রহে রয়েছে।

চার বছর আগে তিনি সেটি বিক্রি করার চেষ্টা করলে গুপ্তধন অনুসন্ধানকারীদের বাধার মুখে পড়েন। আদালত সেই বিক্রি নিষিদ্ধ করে আদেশ দেন, তিনি এটি বিক্রি করতে পারবেন না, কারণ এটি ভবিষ্যতের গুপ্তধন বিজয়ীর প্রাপ্য।

যদিও বইটি লেখা ও সাজাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন মিচেল বেকার। কিন্তু তিনি নিজেও জানেন না, ব্রোঞ্জের পেঁচাটি কোথায় লুকানো রয়েছে। সুতরাং এখন জীবিত এমন কেউ নেই, যিনি জানেন কোথায় রয়েছে সেই ব্রোঞ্জের তৈরী উড়ন্ত পেঁচা।

অনেকে আশঙ্কা করতে শুরু করেছেন, এই গুপ্তধনের সন্ধান আর কখনোই পাওয়া যাবে না। কারণ ওই স্থানটির ওপর হয়তো কোনো কিছু তৈরি হয়েছে। অথবা এসব সূত্র সমাধানের যোগ্য নয়। হয়তো প্রথম থেকেই এটি একটি মজা ছিল।

তবে সত্যিকারের অনুসন্ধানকারীরা ভ্যালেন্টিনের কাছ থেকে এখনো আসল প্রেরণা গ্রহণ করেন। কারণ তিনি বলেছিলেন, ‘যদি সকল অনুসন্ধানকারী তাদের সব জ্ঞান একত্র করেন, তাহলে পেঁচাটিকে দুই ঘণ্টার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যাবে।’

নিউজবিডি৭১/আ/আগস্ট ১৩ ,২০১৮

Share.

Comments are closed.