[english_date] শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় কারো বিচার দাবী করা কি অযৌক্তিক !
Mountain View

শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় কারো বিচার দাবী করা কি অযৌক্তিক !

0

চালকের বিচার দাবী করা যদি অন্যায় না হয়, শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনায় কারো বিচার দাবী করা কেন অযৌক্তিক/ অন্যায় হবে!

চালকের অসতর্কতা, খামখেয়ালীপনা অথবা বেপরোয়া ড্রাইভিং যে কারনেই হোক না কেন যে ডাক্তার মারা গেছে তা সত্যিই দু:খজনক। এর জন্য দায়ী চালকের কঠোর শাস্তি দাবী জানাচ্ছি।

খবরে প্রকাশ, খুব বেশী দিন হয়নি চট্টগ্রামে রাইফা নামের এক শিশু ভুল চিকিতসায় মারা যাওয়ার ঘটনায় আলোচনা সমালোচনা চলছে সর্বত্র।

ঘটনাটি বলার উদ্দেশ্য, দুটি মৃত্যুই মর্মান্তিক, দু:খজনক। একটি ঘটনায় চালকের বিচার দাবী করি বাট আর একটি ঘটনায় কারো বিচার দাবী করা যেন একেবারেই অযৌক্তিক, অন্যায়!

না হলে উক্ত ঘটনায় শিশুটির অভিভাবক ভুল চিকিতসায় তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে দাবী করে আইনের দ্বারস্থ হলে প্রথমেই বিপত্তি ঘটে। চিকিতসা সেবা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকির মুখে পড়ে প্রশাসন।

থানার অফিসার ইনচার্জের ভাষ্যমতে সেদিন ডাক্তার নেতাদের মুখের ভাষা বা আচরণ ছিল যথেষ্ট দৃষ্টি কটূ।

তারপর এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। সেই কমিটি হাসপাতালের কিছু ত্রুটি সহ চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পায় তদন্ত কমিটি।

কিছুদিন পর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক বিতর্কিত সেই হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা আদায়ের কারনে উক্ত ঘটনায় সাংবাদিকদের উপর দোষ চাপিয়ে এটাকে “সাংবাদিকদের নগ্ন হামলা” আখ্যা দিয়ে চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘটে যায় প্রাইভেট হাসপাতালগুলো। (যদিও সমালোচনার মুখে তা ২৪ ঘন্টা স্থায়ী হয়)

এড় পরও রাইফার বাবা তার সহকর্মীদের নিয়ে রাস্তায় নামেনি। গাড়ি আটকায়নি। কোন ধরনের জনভোগান্তি হবে এমন কোন কাজও করেন নি।

বাট গতকাল সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ডাক্তারকে গাড়ি চাপা দেওয়া চালকের বিচার দাবী করে গাজীপুরের টংগী এলাকার একটি প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীদের দাবী আদায়ের অবরোধে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগকে অমানবিক উল্লেখ করে ভিডিও সহ একটি পোষ্ট দেওয়ার পর থেকে এই পেশার কিছু সদস্যের আচরণ দেখে অবাক হয়েছি।

যাদের মুখের ভাষা এমন তাদের কাছে জাতি কি সেবা পাবে ভাববার বিষয়!

শিশু রাইফা এবং একজন ডাক্তার, দুটি মৃত্যুই কারো না কারো ভুলে অথবা অবহেলায় হয়েছে। অথচ দাবী আদায়ের বেলায় এক পক্ষ গতকাল যা করল শিশু রাইফার বেলায় সেটা না করেও কি তার বিচার দাবী করা যায়নি !!!

সেই শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে কি প্রশাসনের টনক নড়েনি!!!

সাধারণ মানুষের সিম্পেথি পায়নি!

সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করে বা জিম্মি করে আজ পর্যন্ত কেউ সাধারণ মানুষের সিম্পেথি পেয়েছে?

আমার মনে হয় কখনোই না। দিন দিন মানুষের চিন্তা, চেতনা, বিবেকবোধ এবং রুচীর পরিবর্তন হচ্ছে। সেই রুচীবোধ এবং চেতনার সাথে যদি কেউ আপডেট না থাকতে পারে, সেই আগের দিনের চিন্তা চেতনা এবং রুচীবোধ নিয়ে পড়ে থাকে, তাদের মানুষ সব সময় ঘৃনার চোখেই দেখবে।

আর সেবা ভিত্তিক পেশার সদস্যদের মনোভাব এবং আচরণ হওয়া উচিৎ অনেক বেশী মার্জিত, ধৈর্য্যশীল। সব পেশার সাথে উগ্রতা, অভদ্রতা মানায় না। বিনয়ী হওয়া মানে ছোট হওয়া নয়, বিনয়ী হওয়া মানে নিজেকে আরেক জনের মনে সম্মানের জায়গা তৈরি করা।

আমাদের মধ্যে কি তবে বিনয় জিনিসটা হারিয়ে যাচ্ছে? নাকি আমাদের গুরুজনরা এ বিষয়ে আমাদের অজ্ঞ করে রাখছে ? নাকি জোর করে বা ক্ষমতা প্রদর্শন করে মানুষের কাছে হিরো সাজবার অথবা আলোচনায় আসার অথবা দাবী আদায়ের সস্তা পদ্ধতিকে অনুপ্রাণিত করছে?

লেখকঃ সালেহ ইমরান, এস আই পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা জেলা

 

                                বিঃদ্রঃ- এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজেস্ব, তার জন্য র্কতৃপক্ষ দায়ী নয়।

এ এল/জুলাই ১৫,২০১৮

Share.

Comments are closed.