১৪ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং বাড়িওয়ালা অকারণে ভাড়া বাড়ালে কী করবেন?
Mountain View

বাড়িওয়ালা অকারণে ভাড়া বাড়ালে কী করবেন?

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : রাজধানী ঢাকাসহ দেশের সব জায়গায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকছেন অনেকেই। এর মধ্যে নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সংখ্যাই বেশি। নির্দিষ্ট আয়ের এই মানুষগুলো তখনই বিপদে পড়েন, যখন বাড়িওয়ালা কিছু না বলে ভাড়া বাড়িয়ে দেন। এ অবস্থায় কোনো করণীয় খুঁজে না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েন তাঁরা। তবে আইনি প্রতিকার জানা থাকলে হঠাৎ ভাড়া বাড়ার খড়্গ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হতে পারে।

রাজধানী ঢাকায় নির্দিষ্ট আয়ের বাড়িভাড়া দিয়ে থাকেন অনেক পেশাজীবী। এই বিশাল জনগনের ভেতর আছেন নিম্ন মধ্যবিত্ত সব ধরণের মানুষ। এই মানুষগুলো তখনই বিপদে পড়েন যখন কোন বাড়িওয়ালা হঠাৎ বাড়িভাড়া বাড়িয়ে দেন। তবে আইনি প্রক্রিয়া জানা থাকলে এই সমস্যা থেকে সমাধান সম্ভব।

নিচে এই সমস্যার সমাধানকল্পে প্রণীত আইনি পরামর্শ তুলে ধরা হল।

* বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১ অনুযায়ী, প্রতি দুই বছর পর বাড়িওয়ালা বাড়ি ভাড়া বাড়াতে পারবেন। তবে তা-ও হতে হবে যুক্তিসংগত।

* বাড়িওয়ালা ভাড়া বাড়ানোর অজুহাতে উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন। এ জন্য ভাড়াটিয়াকে খেলাপি হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করা হয়। সে ক্ষেত্রে ভাড়াটিয়া আদালতে বাড়ি ভাড়ার টাকা জমা দেওয়ার মাধ্যমে খেলাপির দায় থেকে বাঁচতে পারেন।

*এ ছাড়া আইন অনুযায়ী বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ এবং সমস্যা সমাধানের জন্য ভাড়া নিয়ন্ত্রক রয়েছেন। বর্তমানে সিনিয়র সহকারী জজ আদালত ভাড়া নিয়ন্ত্রকের দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এ নিয়ন্ত্রক কোনো অভিযোগের ভিত্তিতে দরখাস্তের শুনানি করতে পারবেন।

* বাড়িওয়ালা কোনো কারণে ভাড়া গ্রহণে অস্বীকৃতি জানালে ভাড়াটিয়াকে চুক্তি অনুযায়ী সময়ের মধ্যে অথবা চুক্তি না থাকলে পরবর্তী মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে মানি অর্ডারযোগে বাড়িওয়ালার ঠিকানায় ভাড়া প্রেরণ করতে হবে। মানি অর্ডারযোগে প্রেরিত ভাড়ার টাকাও যদি বাড়িওয়ালা গ্রহণ না করেন, তাহলে ওই টাকা ফেরত আসার পরবর্তী ১৫ দিনের মধ্যে ভাড়াটিয়াকে ভাড়া নিয়ন্ত্রক, অর্থাৎ সিনিয়র সহকারী জজের বরাবর দরখাস্ত এবং একই সঙ্গে ভাড়ার টাকাও জমা দিতে হবে।

এ জন্য একজন আইনজীবীর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক বরাবর আবেদন করতে হবে। ভাড়া নিয়ন্ত্রক প্রাথমিকভাবে শুনানির পর যদি সন্তুষ্ট হন যে ভাড়া প্রদানের জন্য অনুমতি দেওয়া যাবে, সে ক্ষেত্রে ভাড়ার টাকা আদালতে জমা দেওয়া যাবে এবং তা প্রতি মাসেই আদালতে জমা দেওয়া যাবে।

আদালতে ভাড়ার টাকা জমা দিলে আইনতভাবে ভাড়াটিয়াকে ভাড়াখেলাপি হিসেবে বলার সুযোগ থাকবে না।

*বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় বাড়িওয়ালার সঙ্গে লিখিত চুক্তি করা যেতে পারে। এই চুক্তিতে কী কী শর্তে ভাড়া দেওয়া হলো এবং করণীয় কী, সেসব নির্দিষ্ট করে দিতে হবে।

* চুক্তিপত্রে ভাড়া কখন বাড়ানো যাবে এবং তা কোন হারে বাড়বে, অগ্রিম কত জমা দিতে হবে, কখন বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়াকে বাড়ি ছাড়তে বলতে পারেন, ভাড়াটিয়া কখন বাড়ি ছাড়বেন, তা অবশ্যই চুক্তিপত্রে উল্লেখ করতে হবে।

আর প্রতি মাসে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ভাড়ার লিখিত রসিদ সংগ্রহ করে রাখতে হবে।

নিউজবিডি৭১/আর/১২ জুলাই, ২০১৮

Comments are closed.