১৮ই জুলাই, ২০১৮ ইং কোটা বিরোধী আন্দোলনে সাধারন শিক্ষার্থীদের সাড়া মিলছে না
Mountain View

কোটা বিরোধী আন্দোলনে সাধারন শিক্ষার্থীদের সাড়া মিলছে না

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
মানিক খানঃ সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা তুলে দিতে সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের ব্যানারে আন্দোলনের ডাক দিলে সাধারন শিক্ষার্থীদের সাড়া মিলছে না। ঈদের পর হাক ডাক ছেড়ে আন্দোলনকারী নেতারা মাঠে নামলেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল নেহাতই হাতে গোনা। গুটি কয়েক নেতা-
কর্মী পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়। গত কয়েক দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মসূচী পালনের চেষ্টা করা হলেও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল না। এর উপর ছাত্রলীগের মারমুখী অবস্থানের কারণে মাঠে দাঁড়াতেই পারেনি আন্দোলনকারীরা। অথচ মাত্র দেড় দু’মাস আগে কোটা বিরোধী আন্দোলনে ঢাবিসহ সারা দেশের শিক্ষা
প্রতিষ্ঠান অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।

কোটা বিরোধী আন্দোলনে সম্পৃক্ত কয়েক জনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, ঈদের পর বড় ধরণের আন্দোলনের পরিকল্পনা থাকলে সাধারন শিক্ষার্থীদের সাড়া না মেলায় তারা হতাশ। এর কারণ হিসেবে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া কয়েকজন নেতার প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকাকে দায়ী করছেন তারা। তাদের মতে, সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্টভাবে কোটা না রাখার পক্ষে ঘোষনা দিয়েছিলেন। তার ঘোষনার প্রতি আন্দোলনকারী নেতাদের আস্থা রাখা উচিত ছিল । কিন্তু তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থা না রেখে সরকারকে বিব্রত ও বেকায়দায় ফেলতে নানা অপকৌশলের আশ্রয় নেয়। তারা হটকারীতামূলত ও সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিভিন্ন কর্মসূচী ঘোষনা করে। নেতাদের ফেইসবুকের মাধ্যমে উস্কানিমূলক বিভিন্ন পোষ্ট দেয়া হয়। দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুটি কয়েক নেতার উস্কানিমুলক বক্তব্য প্রচারের কারণে আস্থা হারিয়ে ফেলে সাধারন শিক্ষার্থীরা। ফলে আন্দালনে আর জনসমর্থন মিলছে না।

আন্দোলনে সাধারন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ না করার পিছনে আরো কিছু কারণ খুঁজে পাওয়া যায়। সাধারন শিক্ষার্থীরা প্রধানমন্ত্রীর ঘোষনার প্রতি পরিপূর্ণ আস্থা রাখার কথা বলেছেন তারা।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া কিছু নেতার অতীত কর্মকান্ড প্রকাশ হওয়া, আন্দোলনের নামে সরকার বিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা, আন্দোলনকালীন সরকারকে বিপদে ফেলতে কৌশলে ফেইসবুকে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে উত্তেজনা ছড়ানো, ভিসির বাসভবনে ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা, ছাত্রলীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে রগ কাটার মত মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, শিবির-ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কৌশলে অংশগ্রহণ ও সহিংসতা সৃষ্টি এবং সরকার বিরোধীদের সঙ্গে নেত্রীবৃন্দের গোপন যোগাযোগ রেখে আন্দোলন পরিচালনার অভিযোগ।

এছাড়া কোটা বাতিল নিয়ে সরকার প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুনির্দিষ্ট ঘোষনা দিলেও তা আস্থায় না রেখে বিভিন্ন কর্মসূচী দেয়া হয়। যা সরকার বিরোধী কর্মসূচী বলে অনেকের ধারনা । বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বাঙালীর আবেগ ও স্পর্শকাতর একটি বিষয়। অথচ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আন্দোলনকারী নেতৃস্থানীয়দের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য এবং মূলত মুক্তিযোদ্ধা কোটা টার্গেট করে তা বাতিলে কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়। সরকার সকল কোটা তুলে দেয়ার কথা বললেও ভবিষ্যতে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য স্পেশাল কোন পরীক্ষার মাধ্যমে চাকরির ব্যবস্থা করা যাবে না মর্মে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যামে তার জোরালো দাবী জনসম্মুখে উপস্থাপন করার মাধ্যমে তাদের উদ্দেশ্য পরিস্কার হয়। এর ফলে আন্দোলনকারী নেতাদের কুটকৌশল বুঝতে কারো বাকী থাকে না।

নিজেরা বঞ্চনার শিকার হবেন এই আশংকায় চাকরিতে পিছিয়ে পড়া জেলার শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণে অনীহা দেখা দেয়। “কোটা বাতিল নিয়ে এখনই প্রজ্ঞাপন জারি” আন্দোলনকারী নেতাদের জোর জবরদস্তিমুলক এমন আচরন সাধারন কর্মীরা ভালভাবে গ্রহণ করেনি। সরকার বিরোধীদের সাথে আন্দোলনকারী নেতাদের গোপন সম্পৃক্ততাও ভাল চোখে নেয়নি শিক্ষার্থীরা। এসব কারণে সাধারন শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশগ্রহণে অনীহা প্রকাশ করতে দেখা যায়।

আন্দোলন সংগ্রামে সম্পৃক্ত ছিল এমন কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আস্থাশীল। তারা আশা প্রকাশ করেন, কোটা একেবারে বাতিল নয়, সংস্কারের মধ্যে গ্রহণযোগ্য একটা সমাধান করবেন সরকার।

নিউজবিডি৭১/আর/ ০৪ জুলাই, ২০১৮

Share.

Comments are closed.