১০ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং সামাজিক সুবিচারে শালিশ বিচারের বিকল্প গ্রাম আদালত
Mountain View

সামাজিক সুবিচারে শালিশ বিচারের বিকল্প গ্রাম আদালত

0
image_pdfimage_print

গ্রাম আদালত :
ইউনিয়ন পযায়ে গ্রামাঞ্চলের ছোট ছোট দেওয়ানী ও ফৌজদারী মামলা নিষ্পত্তির জন্য ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় যে আদালত গঠিত হয় সে আদালত হলো গ্রাম আদালত। গ্রাম আদালতের এখতিয়ার সম্পূর্ন মামলা অন্য কোন আদালত গ্রহণ করতে পারে না। গ্রাম আদালতে মামলা করলে কোন আইনজীবির প্রয়োজন হয় না। মামলা দায়েরের ১২০ দিনের মধ্যে বিচারকার্য সম্পন্ন করতে হয়, যার কারনে মামলা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার কোন সুযোগ নেই। ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এই বিচার অনুষ্ঠিত হয় বলে এখানে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার কোন সুযোগ থাকে না। গ্রাম আদালত গ্রামাঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত অনুগ্রসর জনগোষ্ঠীর সুবিচার পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। গ্রামের দরিদ্র মানুষ যাতে সহজে ও নামমাত্র খরচে তাদের এই অধিকার রক্ষা বা প্রতিষ্ঠা করতে পারে, সেজন্যেই গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ আদালতে গ্রামের ছোটখাটো বিরোধ বড় আকার ধারণ করার আগেই সহজে নিষ্পত্তি করা সম্ভব । আইনগত দিক থেকে গ্রাম আদালত একটি পূর্ণাঙ্গ আদালত।

গ্রাম আদালত প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে :
(১) কম সময়ে ও নামমাত্র খরচে ন্যায্য বিচার পাওয়া; (২) এ আদালতে উকিল নিয়োগের সুযোগ নেই বলে বিচার প্রক্রিয়ায় গরিব লোকেরা সহজে প্রবেশ করতে পারে; (৩) গ্রাম আদালতের বিচার পদ্ধতি আনুষ্ঠানিক হলেও মীমাংসা বন্ধুসুলভ হয়; (৪) গ্রাম আদালত আইনি পদ্ধতি হলেও বিবাদমান পক্ষসমূহ এটিকে সামাজিক সংগঠন মনে করে এবং গ্রাম আদালতের রায়কে সামাজিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করে; (৫) গ্রাম আদালতের রায়ের পরও বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের মধ্যে সামাজিক বন্ধন অটুট থাকে যা ম্যাজিস্ট্রেট বা উচ্চ আদালতে মামলা চলাকালীন বা রায়ের পর বিদ্যমান থাকে না; (৬) গ্রাম আদালতের বিচারকগণ স্থানীয় হওয়ায় রায় বাস্তবায়ন করা সহজ হয়।

গ্রাম আদালত গঠন :
বিচার ব্যবস্থায় দেশের দরিদ্র মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত ও সহজ করতেই গঠন করা হয়েছে গ্রাম আদালত। গ্রাম আদালতের আইনগত ভিত্তি থাকায় এই আদালতের রায় উচ্চ আদালতে গ্রহণযোগ্যতা পায়। আইন অনুযায়ী পাঁচজন সদস্য নিয়ে গঠিত গ্রাম-আদালত একটি পূর্ণাঙ্গ আদালত। বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষ থেকে একজন করে স্থানীয় মুরুবি্ব এবং একজন করে ইউপি সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যানকে নিয়ে এই আদালত গঠিত হয়। আদালতের নিরপেক্ষতা নিয়ে যদি কোনো পক্ষের সংশয় বা অনাস্থা থাকে তাহলে যথাযথ কারণ দেখিয়ে চেয়ারম্যানের কাছে অথবা ইউএনও অফিসে আবেদন করা যাবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম আদালতের চেয়ারম্যান হবেন। তবে যদি চেয়ারম্যান কোন কারণবশতঃ তার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন, কিংবা তার নিরপেক্ষতা সম্পর্কে আপত্তি ওঠে তাহলে পরিষদের অন্য কোন সদস্য আদালতের চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব পালন করবেন। যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন পক্ষ সদস্য মনোনয়ন দিতে ব্যর্থ হন তবে উক্ত মনোনয়ন ছাড়াই আদালত বৈধভাবে গঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। যদি কোন পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদের কোন সদস্যকে পক্ষপাতিত্বের কারণে মনোনীত করতে না পারেন তাহলে চেয়ারম্যানের অনুমতিক্রমে অন্যকোন ব্যক্তিকে মনোনীত করা যাবে। সর্বোচ্চ ৭৫০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে এই আদালতকে। গ্রাম আদালতের রায় প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়। যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার দ্বারা সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, তার অনুপাত রায়ে অবশ্যই উল্লেখ করার বিধান রয়েছে। আদালতের রায়ের পর ডিক্রি জারি হয়। গ্রাম আদালতে সিদ্ধান্ত যদি সর্বসম্মত বা চার-এক (৪:১) ভোটে গৃহীত হয় বা চারজন সদস্যের উপস্থি’তিতে তিন-এক (৩:১) সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে গৃহীত হয়, তাহলে উক্ত সিদ্ধান্ত পক্ষদ্বয়ের উপর বাধ্যতামূলক হবে এবং সেক্ষেত্রে উক্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনরূপ আপিল চলবে না।

গ্রাম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আপীল :
• বিধান অনুযায়ী যদি তিন-দুই ভোটে কোন সিদ্ধান্ত হয় তবে সে সিদ্ধান্ত বাধ্যতামূলক হবে না। সিন্ধান্ত ঘোষণার ত্রিশ দিনের মধ্যে যে কোন পক্ষ ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (আমলী আদালত) এবং দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে সহকারী জজ (মুন্সেফ)-এর আদালতে আপিল করতে পারবেন;
• গ্রাম আদালতের ডিক্রি বা ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের নির্দেশ ৬ মাসের অধিক হবে না।

গ্রাম আদালতের বিচারিক এখতিয়ার :
দেওয়ানি ও ফৌজদারির বিশেষ বিশেষ কিছু ধারার মামলা বিচারের এখতিয়ার দেয়া হয়েছে গ্রাম আদালতকে। গ্রাম আদালত আইন,২০০৬ এর মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে পুনরায় বিচারকার্য সম্পাদনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। গ্রাম আদালত কর্তৃক ফৌজদারি বিচারযোগ্য ধারাগুলো হলো- পেনাল কোড ১৬০, ৩২৩, ৩৩৪, ৩৪১, ৩৪২, ৩৫২, ৩৫৮, ৪২৬, ৫০৪, ৫০৬ (প্রথম অংশ), ৫০৮, ৫০৯ এবং ৫১০ ধারা। এ ছাড়াও ৩৭৯, ৩৮০, ৩৮১, ৪০৩, ৪০৬, ৪১৭, ৪২০, ৪২৭, ৪২৮, ৪২৯ (৭৫০০০০ টাকা পর্যন্ত ক্ষতি হলে) এবং ১৪১, ১৪৩, ১৪৭ গবাদী পশু সম্পর্কিত (আসামী দশ জনের নিচে হলে), ১৮৭১ এর ২৪/২৬/২৭ ধারা।
দেওয়ানি মামলাগুলো হলো- (১) কোনো চুক্তি বা অন্য কোন দলিল মুলে প্রাপ্য টাকা আদায়ের জন্য মামলা; (২) কোনো অস্থাবর সম্পত্তি বা উহার মূল্য আদায়ের মামলা; (৩) কোনো স্থাবর সম্পত্তি বেদখল হওয়ার এবং বছরের মধ্যে উহার দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা; (৪) কোনো অস্থাবর সম্পত্তি বেআইনিভাবে লওয়া বা বিনিষ্ট করার দরুণ ক্ষতি পূরণের মামলা; (৫) গবাদী পশুর অনাধিকার প্রবেশের দরুণ ক্ষতি পূরণের মামলা এবং (৬) কৃষি শ্রমিকের পরিশোধযোগ্য মজুরী ও ক্ষতি পূরণের মামলা (উপরেল্লিখিত মামলা সমূহের যখন স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তির মূল্যমান ৭৫,০০০/- টাকা বা তার কম হবে)।

যে সকল অভিযোগের বিচার গ্রাম আদালতে বিচার হয় না :
বিশেষ কিছু ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মামলার বিচার গ্রাম-আদালতে হয় না। যেমন (১) ফৌজদারি মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি যদি পূর্বে অন্য কোনো আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত আসামি হয়। (২) দেওয়ানি মামলায় যদি অপ্রাপ্তবয়স্কের স্বার্থ জড়িত থাকে, (৩) দুই পক্ষের ভেতর আগে সালিশি চুক্তি হয়ে থাকলে, (৪) মামলাটিতে সরকার, স্থানীয় প্রশাসন বা কর্মরত সরকারি কর্মচারী পক্ষভুক্ত হলে। এসব ক্ষেত্রে অপরাধের বিচার প্রচলিত নিয়মে জজ আদালতে হবে। এছাড়া অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধেও কোনো অভিযোগ এই আদালত গ্রহণ করতে পারবে না।

গ্রাম আদালতে কিভাবে মামলা দায়ের করতে হবে :
গ্রাম আদালতে বিচার পেতে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর দরখাস্ত লিখতে হয়। দেওয়ানি মামলার ক্ষেত্রে ৪ টাকা এবং ফৌজদারি মামলার ক্ষেত্রে ২ টাকা ফি দিয়ে বিবদমান যে কোনো পক্ষ চেয়ারম্যানের কাছে আবেদন করতে পারে। দরখাস্ত পাওয়ার পর চেয়ারম্যান উপরে উল্লিখিত নিয়মে পাঁচজন সদস্যের আদালত গঠন করবেন। এরপর পক্ষদ্বয়ের শুনানি এবং অন্যান্য বিচার প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশ্যে রায় প্রদান করা হবে। উল্লেখ্য, কোন অপ্রকৃতিস্থ ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোন আবেদন করা যাবে না। চেয়ারম্যান অভিযোগ অমূলক মনে করলে আবেদন নাকচ করতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে নাকচের কারণ লিখে আবেদনপত্র আবেদনকারীকে ফেরত দিতে হবে।

গ্রাম আদালতে মামলার আবেদন পত্রে কি কি তথ্য দিতে হবে :
১। আবেদন পত্রটি লিখিতভাবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর দাখিল করতে হবে।
২। যে ইউনিয়ন পরিষদের নিকট আবেদন করা হবে সে ইউনিয়ন পরিষদের নাম ঠিকানা থাকতে হবে।
৩। আবেদনকারী এবং প্রতিবাদীর নাম, ঠিকানা ও পরিচয় থাকতে হবে।
৪। সাক্ষী থাকলে সাক্ষীর নাম, ঠিকানা ও পরিচয় থাকতে হবে।
৫। ঘটনা,ঘটনা উদ্ভবের কারণ, ঘটনার স্থান ও ইউনিয়ননের নাম, সময়, তারিখ থাকতে হবে।
৬। সংক্ষিপ্ত বিবরণাদিসহ অভিযোগ বা দাবির প্রকৃতি ও পরিমাণ, নালিশ বা দাবির ধরন, মূল্যমান থাকতে হবে।
৭। ক্ষতির পরিমাণ, প্রার্থিত প্রতিকার থাকতে হবে।
৮। পক্ষদ্বয়ের সম্পর্ক উল্লেখ থাকতে হবে।
৯। সাক্ষীদের ভূমিকা থাকতে হবে।
১০। মামলা বিলম্বে দায়ের করা হলে তার কারণ উল্লেখ থাকতে হবে।
১১। আবেদনকারী লিখিত আবেদনপত্রে স্বাক্ষর থাকতে হবে।
১২। মামলা দায়েরের তারিখ থাকতে হবে।

গ্রাম-আদালতের ধারণাটি অত্যন্ত চমৎকার হলেও আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত এই আদালতে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা খুব একটা শরণাপন্ন হচ্ছেন না। গ্রাম-আদালত সম্পর্কে যথেষ্ট ধারণা না রাখা এবং বিচারিক কার্যক্রম ও আইন বিষয়ে এই আদালতের বিচারকদের জ্ঞানের স্বল্পতা গ্রাম-আদালতকে এখন পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত মানে উপনীত করতে পারেনি। সরকারি-বেসরকারিভাবে গ্রাম-আদালত সম্পর্কে গ্রামীণ অঞ্চলে তাই যথেষ্ট প্রচারণা চালালে এই আদালতের প্রতি মানুষের আস্থা আসতে পারে। অন্যদিকে গ্রাম-আদালতে বিচারকের ভূমিকায় অবতীর্ণ ব্যক্তিদের যথাযথ আইনি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন। নয়তো বিচারপ্রার্থীরা উল্টো রায় পেতে পারেন এবং আদালতের প্রতি তাদের অনীহা তৈরি হতে পারে।

যদিও গ্রাম আদালতের কার্যক্রম এখনো আমাদের দেশে তুলনামূলকভাবে ধীরগতিতে প্রসারিত হচ্ছে, তারপরও যে আইনবলে একে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে তার পরিধি অত্যন্ত ব্যাপক এবং সুদূরপ্রসারী। তাই কম খরচে এবং কম সময়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কাছে ন্যায় বিচার পৌঁছে দেয়ার যে মহান অভিপ্রায় নিয়ে এই আদালত গঠিত হয়েছে, তাতে অভীষ্ট হতে হলে অবশ্যই তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রমের প্রচার এবং এর ক্ষমতার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। দেশের নিম্ন আদালত ও উচ্চ আদালতের মামলা জট কমাতে স্থানীয় সরকারের অধীনে পরিচালিত গ্রাম আদালত ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে। গ্রাম আদালতের মাধ্যমে সাধারণ মামলাসমূহ পরিচালনা করলে একদিকে যেমন মামলা জট কমবে অন্যদিকে ভিকটিমের অর্থনৈতিক সাশ্রয় হবে। তবে সাধারণ মানুষ ও তাদেরই নির্বাচিত প্রতিনিধি দ্বারা গ্রাম আদালত পরিচালিত হওয়ায় বা জনপ্রতিনিধিদের আচরণগত ত্রুটির কারণে এই আদালত অনেক সময় ভাবমূর্তি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়।

গ্রাম আদালতের মামলার দায়ের আবেদন পত্রের নমুনা
মামলা নম্বর:
দায়েরের তারিখ:
মামলার ধরন :

বরাবর,
চেয়ারম্যান
০১নং তেজখালী ইউনিয়ন পরিষদ
উপজেলাঃ বাঞ্ছারামপুর, জেলাঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

বিষয়ঃ গ্রাম আদালত গঠনের আবেদন এবং জমি-জমা সক্রান্ত বিষয় অভিযোগ।

আবেদনকারীর নাম ও ঠিকানা প্রতিবাদীর নাম ও ঠিকানা স্বাক্ষীগণের নাম ও ঠিকানা
আঃ হক মোঃ আলী ১। বাছেত মজুমদার
পিতা- রফিক শেখ পিতা- মুত রহমত শেখ পিতা- রফিক শেখ
সাং- তেজখালী। সাং- তেজখালী। ২। কালু শেখ
থানা-বাঞ্ছারামপুর, থানা-বাঞ্ছারামপুর, পিতা- রতন শেখ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া। ব্রাহ্মণবাড়িয়া। সাং- তেজখালী।
থানা-বাঞ্ছারামপুর,
ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
ঘটনার স্থানঃ বাদীর নিজ বাড়ী।
তারিখঃ ২০/০৭/২০১৭ইং সকাল ১০.০০ ঘটিকা ও ২১/০১/২০১৮ই বিকাল ০৩.০০ ঘটিকা।
তফসিলঃ মৌজা তেজখালী জে,এল নং-৪১২, তৌজি নং-৩৩৩, সাবেক খতিয়ান নং-১৭৪, দাগ নং-১৩২৬ ডাঙ্গা। ৭১শতকের কাত ৩৫ শতক।

জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী আপনার গ্রাম আদালতে অভিযোগ করিতেছি যে, বিবাদীর নিম্ন তফসিল বর্ণিত জমি আমার নিকট বিশেষ প্রয়োজনে বিক্রয়ের প্রস্তাব দিলে উক্ত জমি ১,৬৫০০০/টাকা মূল্য নির্ধারণ করিয়া ৬৫,০০০/ টাকা পরিশোধ করত ৩০০/ টাকার স্ট্যাম্পে জমির বায়নার করি। আগামী ০৩ মাসের মধ্যে বিবাদীর সমুদয় টকা নগদ পরিশোধ করিয়া জমি দলিল করিয়া নিব। বিবাদী ০২ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও ১নং সাক্ষীর নিকট উক্ত জমি বিক্রয় করার জন্য মৌখিক কথাবার্তা বলিলে বিবাদী আমার নিকট জমি বিক্রয় করিবে না বলিয়া জানায়। আমার পাওনা টাকা ফেরত চাইলে বিবাদী বিভিন্ন প্রকার প্রবনাচনা দিয়া আমাকে ঘুরাতেছে। সে আমাকে হেয়ো কারার জন্য লোক সমাজে মিথ্যা অপপ্রচার করিয়া বেড়াইতেছেন। নিরুপায় হইয়া উল্লেখিত অভিযোগে সু-বিচারের জন্য আপনার আদালতে নালিশ করিলাম। বিধায়, প্রর্থনা এই যে, উল্লেখিত অভিযোগের বিষয় সু-বিচার করিতে আপনার মর্জি হয়।

জনসচেতনায়- মোঃ সাব্বির রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

আ/২৩ জুন ,২০১৮

Share.

Comments are closed.