১৫ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং ব্যতিক্রমী সাংসদ জগলুল হায়দার
Mountain View

ব্যতিক্রমী সাংসদ জগলুল হায়দার

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
মানিক খান : বাংলাদেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের শেষ উপজেলা শ্যামনগর। সুন্দরবনের কোল ঘেষে এ উপজেলা অবস্থিত। আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা। এ উপজেলার মোট ১২ টি ইউনিয়নসহ পাশের উপজেলা কালিগঞ্জের আটটি ইউনিয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসন। এক সময় অবহেলিত জনপদ হিসেবে মানুষ ছিল উন্নয়ন বঞ্চিত। কিন্তু বর্তমান সরকারের গত সাড়ে ৪ বছরে পাল্টে গেছে সে চিত্র। এ আসনের অলি গলিতে সর্বত্র এখন উন্নয়নের ছোঁয়া। রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজ, ব্রীজ, কালভাট, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্যসহ এমন কোন সেক্টর নাই যেখানে উন্নয়ন ঘটেনি। অভূতপূর্ব এই উন্নয়নের মূলে রয়েছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার।

তরুণ সংসদ হিসেবে জগলুল হায়দারের নাম এখন সবার মুখে মুখে। ২০১৪ সালে প্রথম বারের মতো অবহেলিত এ জনপদের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের পাশে ছুটে চলেছেন। এলাকার উন্নয়ন নিয়ে সংসদেও যেমন থাকেন সরব, তেমনি বিরামহীনভাবে রাত-দিন সারাক্ষণ ছুটে চলেন সাধারণ মানুষের দুয়ারে। খবর পেলেই ছুটে যান অসহায় মানুষের কাছে। তাদের পাশে থেকে যথাসাধ্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। শ্রমিকদের উৎসাহ যোগাতে লুঙ্গি-গামছা পরে কাজে লেগে পড়েন।

মাথায় ঝুড়ি নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা কাজ করে চলেন। গরিব-অসহায় মানুষের সাথে ব্যয় করেন তার দিনের অনেকটা সময়। প্রথম প্রথম অনেকে লোক দেখানো বলে হাসি ঠাট্টা করতেন। কিন্তু তিনি তাদের কথায় কান না দিয়ে সাধারন মানুষের জন্য কাজ করে চলেছেন। সাংসদ হওয়ার পর থেকে অদ্যাবধি তিনি মাঠে-ঘাটে সাধারন মানুষের সাথে। জানা যায়, সাংসদ হওয়ার আগেও চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে তিনি এ ধরণের কাজ করতেন। তবে এখন মানুষের ভূল ভেঙেছে। কেউ আর হাসি ঠাট্টা করে না। সবার মুখে মুখে এখন সাংসদ জগলুলের গুনগান।

সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে প্রথম বারের মতো সংসদ সদস্য নিবাচিত হয়ে দুই উপজেলায় চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর তহবিল হতে কয়েক হাজার অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসা সাহায্য প্রদান করেছেন। নির্বাচনী এলাকার ইমাম, পুরোহিত, শিক্ষক, সাধারন মানুষসহ কয়েক হাজার মানুষকে একত্রিত করে জঙ্গীবাদ বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন।

সুন্দরবন থেকে ডাকাত, দস্যুদের নির্মূল করতে উপকূলবর্তী ইউনিয়নগুলিতে সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, আইনজীবী, এনজিও প্রতিনিধিসহ সকল শ্রেণি পেশার প্রতিনিনিধিদের নিয়ে নিয়মিত মতবিনিময় সভা করেছেন। স্কুলে স্কুলে গিয়ে কোমলমতি শিশুদের মুক্তিযুদ্ধের গল্প করেছেন। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দুই উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ করেছেন। নিবাচনী এলাকার ২০ টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটিতে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কার্যালয় নির্মাণ করেছেন। হতদরিদ্র পরিবারকে ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ডে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয়দের নিয়ে পাড়ায় পাড়ায় গিয়ে উঠান বৈঠক করে সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড প্রচার করছেন। তাদের মুখ থেকে শুনেছেন সুঃখ-দুঃখের কথা। সমস্যা সমাধানে হাত বাড়িয়েছেন। তরুণ সমাজকে জঙ্গীবাদ থেকে সচেতন করতে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গীবাদ বিরোধী স্লোগান সম্বলিত ব্যানার টাঙানো হয়েছে। এর ফলে ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে জঙ্গীবাদ বিরোধী সচেতনতা তৈরী হয়েছে। দুই উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, বীরমুক্তিযোদ্ধাসহ গরীব দুস্থদের মাঝে টিন ও নগদ অর্থের চেক বিতরণ করা হয়েছে। হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহাদ্যপূর্ণ পরিবেশ আরো জোরদারকরণে দুই সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে হাজার-হাজার মোটরসাইকেলের শোভাযাত্রা সহকারে দূর্গাপূজায় বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন জগলুল।

কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ “জন্মযুদ্ধ একাত্তর” নির্মান করেছেন। তার উদ্যোগে শ্যামনগর সদরে মুক্তিযোদ্ধা সড়কের প্রবেশ পথে দৃষ্টিনন্দন বঙ্গবন্ধু গেট নির্মাণ এবং সরকারি মহসিন কলেজের প্রবেশ পথে বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত গেট নির্মাণ করা হয়েছে। তার উদ্যোগে বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান জানাতে মুক্তিযুদ্ধকালীন শ্যামনগর থানা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আতিয়ার রহমানের নামে সড়ক নির্মাণ এবং শ্যামনগর উপজেলার সকল মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে নেমপ্লেট স্থাপন করা হয়েছে। গোপালপুরে মুক্তিযোদ্ধা
স্মৃতি সৌধ নিজ হাতে পরিস্কার করে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি সম্মান জানতে ভূল করেনি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান জগলুল হায়দার। স্বামী পরিত্যাক্ত মহিলাদের ঘর তৈরিতে দেওয়া হয়েছে ঢেউটিন। উন্নয়নের সব ফলকে কৃতজ্ঞতা স্বীকারে শেখ হাসিনার নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে তিন হাজার বেকার যুবক-যুবতীর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান করা হয়েছে। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে প্রায় দুই হাজার পাঁচশত জনকে সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করেছে এই সাংসদ। অভিবাসনে পিছিয়ে পড়া জেলা হলেও তার নির্বাচনী এলাকা থেকে বিদেশে কর্মসংস্থান হয়েছে তিন হাজার মানুষের। লবনাক্ত এলাকা হওয়ায় সুপেয় পানি সরবরাহ নিশিচতকরণে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে এক হাজার গভীর-অগভীর নলকূপ বসানো হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এভাবে সারা দেশের মধ্যে ব্যতিক্রমী কাজ জনসেবায় নতুন ধারা সৃষ্টি করেছেন জগলুল হায়দচার।২০০২ সাল থেকে শ্যামনগর উপজেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করা জগলুল আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন। তাকে নিয়ে একাধিকবার প্রতিবেদন তৈরি হয়েছে। মানবিক এ কাজের জন্য ভারত হতে পেয়েছেন পুরস্কার।

জনপ্রতিনিধি হয়ে যে মানুষের কাছে থাকা যায় তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন জগলুল হায়দার। দিন-রাত, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সাধারন মানুষের বাড়ীতে পৌঁছে তাদের খোঁজ খবর নেন। ঝড়ের রাতেও লুঙ্গি কাছা মেরে টর্চ লাইট হাতে নিয়ে যান প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারন মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে তাদের খোঁজ খবর নেন। ঈদের সময় অসহায় ও দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে সেমাই, চিনি, লুঙ্গি, পানজাবি, শাড়ি নিয়ে হাজির হন। রোজার সময় ইফতারি নিয়ে ভিক্ষুকের বাড়ীতেও হাজির হতে ভুলেন না এ সাংসদ। কারো বিপদ বা অহায়ত্বের কথা যখন জানতে পারেন তখনই ছুটে যান তাদের কাছে। সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। সাইকেল চালিয়ে গ্রামে গ্রামে খোঁজ নেন সাধারন মানুষের। কখন কোন সময়ে কার বাড়ীতে হাজির হন তা কেউ জানেন না। পথ চলতে যেখানেই দেখেন মানুষের কষ্ট সেখানেই থামেন তিনি। খোশ গল্পে মেতে ওঠেন তাদের সাথে। যেখানেই সহযোগিতা প্রয়োজন সেখানেই হাত বাড়িয়ে দেন। সবসময় সাধারন মানুষের কাছে দোয়া
চান বঙ্গবন্ধু, তার পরিবার ও শেখ হাসিনার জন্য। এজন্য নির্বাচনী এলাকার সবার কাছে তিনি এখন স্যার নয়, জগলুল ভাই হিসেবে পরিচিত।

নিউজবিডি৭১/আর/ ১৪ জুন , ২০১৮

Share.

Comments are closed.