কয়েক বছরে পাল্টে গেছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের দৃশ্যপট

নিউজবিডি৭১ডটকম
মানিক খান : কয়েক বছরে পাল্টে গেছে সাতক্ষীরার দৃশ্যপট। পরিবর্তন হয়েছে রাস্তাঘাট। দৃশ্যমান হয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে অঞ্চলজুড়ে।

আর এসব উন্নয়নের ছোয়া লাগিয়েছে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জগলুল হায়দার।

তিনি আর দশজন সংসদ সদস্যের চেয়ে আলাদা। মন থেকেই তিনি সাধারণ মানুষের পাশে ছুটে বেড়াচ্ছেন প্রতিনিয়ত। সংসদেও সরব থাকেন। সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর খবর সবচে বেশি সৃষ্টি করেছেন তিনি।

সংসদের ২য় মেয়াদে ৫০ মাসে চারটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে কালীগঞ্জ কলেজ, কালীগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শ্যামনগর মহসিন কলেজ, নকিপুর হরিচরণ মাধ্যমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ হয়েছে।

হাজার হাজার অসুস্থ মানুষকে চিকিৎসার সাহায্য করতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক তহবিল হতে লক্ষ লক্ষ টাকার অনুদানের চেক প্রদান করা হয়েছে। তিনি নিজ নির্বাচনী এলাকার ইমাম, পুরোহিত, শিক্ষক সহ হাজার জনগণকে সমাবেশে একত্রিত করে জঙ্গীবাদ
বিরোধী শপথ বাক্য পাঠ করিয়েছেন।

জগলুল হায়দার এমপির ঐচ্ছিক তহবিল হতে ২ টি উপজেলার ২০ টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি হতে ৫ জন করে সর্বমোট ১০০ জনের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ৫ লক্ষ টাকা বিতরণ করা হয়েছে।

সুন্দরবন থেকে ডাকাত, দস্যুদের নির্মূল করতে উপজেলার উপকূলবর্তী সকল ইউনিয়নে জীবিকা নির্বাহের জন্য সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীর সাথে নিয়মিত মতবিনিময় সভার আয়োজন করেছেন।

৩০ লাখ ১৩ হাজার ৭৩৩ টাকা ব্যয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার কুশলিয়া ইউনিয়নের পিরোজপুর হাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। ২ কোটি ৫৫ লাখ ৩ হাজার ৮৪৪ টাকা ব্যয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শ্যামনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে, যেটি উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে।

সাতক্ষীরা – ৪ আসনের নির্বাচনী এলাকার ২টি উপজেলার ২০ টি ইউনিয়নের প্রত্যেকটি ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের কার্যালয় নির্মাণ করে দিয়েছেন। ১১ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে অতি গুরুত্বপূর্ণ শ্যামনগর-কাশিমাড়ি-কয়রা এবং কয়রা – নওয়াবেকী- শ্যামনগর জেলা সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণ কার্ডে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সাতক্ষীরা ৪ আসনে প্রায় ৭০ হাজার হত দরিদ্রদের ১০ টাকা কেজি চাউলের কার্ড দেওয়া হয়েছে। ১ লাখ ৩০ হাজারের অধিক ভিজিএফ কার্ড ও ৮ হাজার ভিজিডি কার্ড ধারীরা উপকার ভোগ করছে।

ছাত্র ছাত্রীদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি করতে দুই উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জঙ্গীবাদ বিরোধী স্লোগান সম্বলিত ব্যানার বিতরণ করা হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, বীরমুক্তিযোদ্ধা সহ গরীব দুস্থদের মাঝে টিন ও নগদ অর্থের চেক বিতরণ করা হয়েছে। ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ৪৯ হাজার ২২৫ টাকা ব্যয়ে জিরণগাছা-চারা বটতলা-মৌতলা-উভাকুড় রাস্তার উন্নয়ন করা হয়েছে।

৮৩ লাখ ৬৪ হাজা ৬৯৮ টাকা টাকা ব্যয়ে ১.৫ কি.মি. গড়ের হাটখোলা প্রবাজপুর রাস্তার উন্নয়ন করা হয়েছে। সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় এলাকার প্রায় ১৩৫ কিমি কার্পেটিং রাস্তা করা হয়েছে। শ্যামনগরের ইতিহাসে সর্বপ্রথম হাজার হাজার মোটরসাইকেল নিয়ে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে দূর্গাপূজায় বিভিন্ন পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করেছেন জগলুল হায়দার এমপি। কাশিমাড়ী ইউনিয়নের কাঁঠালবাড়িয়া এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে স্মৃতিসৌধ “জন্মযুদ্ধ একাত্তর” নির্মান করে দিয়েছেন।

শ্যামনগর সদরে মুক্তিযোদ্ধা সড়কের শুরুতেই সুবিশাল বঙ্গবন্ধু গেট নির্মাণ করে দিয়েছেন। মহসিন কলেজের প্রবেশ পথে বঙ্গবন্ধু ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি সংবলিত গেট নির্মাণ করে দিয়েছেন। নকিপুর বাজারে যমুনা খালের উপর ৩৩ ফুট দৈর্ঘের ব্রীজ নির্মাণ করে দিয়েছেন। বীরমুক্তিযোদ্ধা আতিয়ার রহমান সড়ক নির্মাণ করে দিয়েছেন। শ্যামনগর উপজেলার মুন্সীগঞ্জ ইউনিয়নে সুন্দরবন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ১ কোটি ৮১ লাখ ২৭ হাজার ৮৮০ টাকা টাকা ব্যয়ে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করে দিয়েছেন।

১ কোটি ৫৪ লাখ ৪৯ হাজার ২৫৫ টাকা ব্যয়ে কালীগঞ্জ উপজেলার জিরোনগাছা-চারবটতলা-মৌতলা-উভাকুড় সড়ক পুনঃনির্মাণ করে দিয়েছেন। শ্যামনগর উপজেলার সকল বীরমুক্তিযোদ্ধার বাড়ির সামনে ডিজিটাল নেমপ্লেট স্থাপন করে দিয়েছেন। শ্যামনগর ও কালীগঞ্জ উপজেলার ২০ টি ইউনিয়নে ৭০ কোটি টাকা ব্যায়ে বিভিন্ন রাস্তার উন্নয়ন করেছেন। দূর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রনালয়ের অধিনে ৫০ মাসে প্রায় ১৫০কোটি টাকার গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষানা-বেক্ষন, রাস্তা সংষ্কার সজিদ মন্দির সংষ্কার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন ও ব্রীজ-কালভার্টসহ হেয়ারিং বন্ডের রাস্তা ও সাইক্লোন সেল্টার নির্মান করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৫০০ বান্ডিল ঢেউটিন হত-দরিদ্র স্বামী পরিতক্তাদের গ্রহ নির্মাণে প্রদান করা হয়েছে। ১০ হাজার বয়ষ্ক, বিধাব ও প্রতিবন্ধী নতুন ভাতা কার্ড প্রদান করা হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে ৩ হাজার বেকারদের প্রশিক্ষনের মাধ্যমে কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তরে প্রায় ২৫০০ জনকে সরকারী চাকরীর সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন ২ হাজার ৮শ ৪২ জন। জন স্বাস্থ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ১হাজার গভীর- অগভীর নলকূপ ও রেইন ওয়াটার প্রদান করা হয়েছে। বিভিন্ন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করে দিয়েছেন। মুড়োগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন। ডিআরএম আডিয়াল কলেজে নতুন ভবন নির্মাণ করে দিয়েছেন।

নিউজবিডি৭১/আর/ ১৩ জুন , ২০১৮