২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ফুটবলে কার্ড প্রচলনের মজার ইতিহাস
Mountain View

ফুটবলে কার্ড প্রচলনের মজার ইতিহাস

0
image_pdfimage_print

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : রাস্তায় লাল বাতি জ্বলছে কি করবেন আপনি? অবশ্যই দাঁড়িয়ে থাকবেন। রাস্তায় সবুজ বাতি জ্বলছে তখন নিশ্চয়ই রাস্তা পার হবেন আর হলুদ বাতিতে প্রস্তুতি নিবেন। ব্যাপারটা এরকমই বলা যেতে পারে। আচ্ছা ফুটবলের লাল কার্ড আর হলুদ কার্ডটা কি এসব রোড সিগনাল দ্বারা এসেছে? আর কেনই বা লাল হলুদ বেছে নেয়া হলো এর উত্তর গুলো আমাদের অজানা।

গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ ফুটবলের নিয়ম কানুন গুলো কড়া ভাবে পরিষ্কার। তবে এই নিয়মটা কিভাবে এলো এর উত্তর গুলো ওই আগের মত রাস্তার জ্বলন্ত বাতি হয়তো। যাই হোক চলুন জেনে নেয়া যাক টুকটাক কিছু কথা ও ইতিহাসের পুরোনো পাতা।

লাল বা হলুদ কার্ডের গল্পটা বেশ মজার। তখন ১৯৬৬ সাল। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি ল্যাটিন আমেরিকার আর্জেন্টিনা। খেলায় বেশ ভয়ংকর একটা ফাউল করলেন অ্যান্তনি রাতিন। রেফারি রুডি ক্রেইটলেন তাকে মাঠ থেকে বের হয়ে যাবার নির্দেশ দিলেন। কিন্তু আর্জেন্টাইন অধিনায়ক মাঠ ছাড়তে নারাজ। তাতেই বাধল বিপত্তি। ম্যাচ রেফারি কিন অ্যাস্টন এগিয়ে এলেন অবশেষে। অনেক বুঝিয়ে শুনিয়ে রাতিন কে মাঠের বাইরে পাঠালেন তিনি। বিষয়টা অবশ্য এখানেই শেষ হল না। রাতিন কে এই শাস্তি দেবার জন্য রুডিকে বেশ বিপাকেই পড়তে হল।

কারণ, ইংল্যান্ড দলের দুজন খেলোয়াড় মাঠে রাতিনের মতোই অপরাধ করেছিল। তাদের ফাউল টা রাতিনের মতো বাড়াবাড়ি পর্যায়ের ছিল না – এই দাবি করেও সমালোচনার হাত থেকে রক্ষা পাননি রুডি। এই বিষয়টি বেশ ভাবিয়ে তোলে কিন অ্যাস্টন কে। বড় ধরণের ফাউলের জন্য একজন খেলোযাড়কে মাঠের বাইরে পাঠানো হল, কিন্তু তারচেয়ে কম ফাউল করেছে যে তাকে কিভাবে সতর্ক করা যায়?

একদিন ভাবছিলেন আর গাড়ি ড্রাইভ করে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। পথে কিংস্টোন হাই-স্ট্রিটে ট্রাফিক সিন্যালে আটকা পড়ল গাড়ি। সিগনাল বাতি গুলোর দিকে আনমনেই চোখ আটকে গেল তার। দেখলেন বাতি গুলো সবুজ থেকে হলুদ এবং হলুদ থেকে লালে রুপান্তরিত হচ্ছে্ । সবুজ মানে চলতে থাকো। হলুদ মানে সতর্ক হ্ও। আর লাল মানে থেকে যা্ও। এখান থেকেই আইডিয়াটি পান তিনি। খেলার মাঠেও তো এভাবে খেলোয়াড়দের সতর্ক করা যেতে পারে।

এরপর তিনি প্রস্তাব দেন ফিফার কাছে। ১৯৭০ এ মেক্সিকো বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচে সমস্যা এড়াতে পরীক্ষামূলকভাবে এই পদ্ধতি অবলম্বন করল ফিফা। ফাউল করলে খেলোয়াড়কে সতর্ক করার জন্য হলুদ কার্ড আর সিরিয়াস ধরণের ফাউল করে বসলে মাঠ থেকে বেড়িয়ে যাবার জন্য লাল কার্ড দেখানোর প্রচলন শুরু হল।

সেবার প্রথম খেলাতেই হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন পাঁচ জন ফুটবলার, তবে পুরো বিশ্বকাপে কাউকেই লাল কার্ড দেখানো হয়নি। তার পর তা ছড়িয়ে গেল পৃথিবীব্যাপী, এমন কি একটু অদল-বদল করে তা ব্যবহৃত হতে শুরু করলো অন্যান্য খেলাতেও।

নিউজবিডি৭১/আর/ ২৭ মে , ২০১৮

Share.

Comments are closed.