১৬ই অক্টোবর, ২০১৮ ইং শসা-গাজরের সেঞ্চুরি
Mountain View

শসা-গাজরের সেঞ্চুরি

0
image_pdfimage_print

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : রোজার প্রভাবে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ১০০ টাকা ছুঁয়েছে শসা ও গাজরের কেজি। রোজা শুরুর আগে থেকেই ধাপে ধাপে বাড়ছে বেগুনের দাম। বৃহস্পতিবার বেগুনের দাম ছিল ১০০ টাকা। আরও বেশ কিছু সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে।

কিছুটা বেড়েছে মরিচের দাম। সেই সঙ্গে সব সবজিই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজির কেজি মিলছে না।

শুক্রবার (১৮ মে) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, মালিবাগ হাজীপাড়া, খিলগাঁও, সেগুনবাগিচা এবং শান্তিনগরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া মসলা, চিনি, মুড়িসহ ইফতারসামগ্রীর দামও বাড়ছে ব্যাপকভাবে। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণেই দাম বাড়ছে।

শসা ও গাজরের অস্বাভাবিক দাম বাড়ার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, ইফতারিতে শসা ও গাজরের চাহিদা থাকে অনেক বেশি। বিশেষ করে মুড়ি মাখাতে শসার বিকল্প নেই। আর ইফতারিতে মুড়ি মাখানো খান না-এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বাজার ও মানভেদে শসার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০-১০০ টাকায়। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৮০-১০০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগেও সালাতের অন্যতম এই উপকরণ দু’টির কেজি ৫০ টাকার মধ্যে মিলেছে।

শান্তিনগর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্যবসায়ীরা শসার কেজি বিক্রি করছেন ৯০-১০০ টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে সেগুনবাগিচা বাজারে। তবে রামপুরা ও খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ীরা এর থেকে একটু কম দামে বিক্রি করছেন। এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা ৭০-৮০ টাকা কেজি বিক্রি করছেন শসা।

শান্তিনগরের ব্যবসায়ী ইলিয়াস হোসেন বলেন, আড়তে দাম চড়া, তাই আমাদেরও চড়া দামে শসা বিক্রি করতে হচ্ছে। আমরা কম দামে কিনতে পারলে ক্রেতাদের কম দামে দিতে পারব।

সেগুনবাগিচা বাজারে শসা কিনতে আসা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, রোজা চলে এসেছে, এখন তো সব জিনিসপত্রের দাম বাড়বেই। এই দেখেন এক সপ্তাহ আগে শসা ৫০ টাকা ও গাজর ৬০ টাকা কেজি কিনেছি। এখন এ দু’টি পণ্যের কেজি ১০০ টাকা হয়েছে।

রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজিতে ১০ টাকা বেড়ে কাঁচামরিচ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। টমেটোর দামও একই হারে বেড়ে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। তা ছাড়া পটোল, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, কাঁকরোল, করলাসহ অন্যান্য সবজি ৫০ থেকে ৭০ টাকা গুনতে হচ্ছে। লেবুর হালিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেড়ে ২০ থেকে ৩০ টাকা হয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া চিচিঙ্গার দাম একই রয়েছে। কাকরোলের দাম গত সপ্তাহের মত অপরিবর্তিত রয়েছে। গত দুই মাস ধরে বাজারে দামি সবজির তালিকায় থাকা কাকরোল বিক্রি হচ্ছে ৬০-৮০ টাকা কেজি।

গত সপ্তাহে ৩৫-৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া পটলের দাম কিছুটা বেড়ে ৪০-৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অপরিবর্তিত রয়েছে বরবটি ও ঢেঁড়স। এ দু’টি সবজি আগের সপ্তাহের মতো ৫০-৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

দামের এ উত্তাপ শাকেও লেগেছে। লাল শাক, সবুজ ডাটা শাক, পাট শাক, কলমি শাক বিক্রি হচ্ছে ১০-১৫ টাকা আটি, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৫-১০ টাকা আটি। আর ২০-২৫ টাকা আটি বিক্রি হওয়া পুইশাক ও লাউ শাক বেড়ে হয়েছে ৩০-৩৫ টাকা।

এদিকে গত কয়েক সপ্তাহের মতো সবজি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে টমেটো, লাউ, চিচিঙ্গা, করলা, পটল, ঢেঁড়স, বরবটির সরবরাহ পর্যাপ্ত পরিমাণে রয়েছে। তবে সব সবজির দাম চড়া। সবজির এ চড়া দামের ক্ষেত্রেও রোজাকে কারণ হিসেবে দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

রামপুরার ব্যবসায়ী বেলাল বলেন, রোজা, রোজার কারণেই এখন সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা বেশি। রোজা চলে গেলে হয়তো সব সবজির দাম কমে যাবে। শসা ও বেগুনের দাম রোজার পর অবশ্যই কমবে। তবে রোজার ভেতর এ দু’টি পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা নেই।

নিউজবিডি৭১/আ/১৯ মে ,২০১৮

Share.

Comments are closed.