১৯শে অক্টোবর, ২০১৮ ইং কিম-ট্রাম্প বৈঠক : অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা চায় উত্তর কোরিয়া?
Mountain View

কিম-ট্রাম্প বৈঠক : অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা চায় উত্তর কোরিয়া?

0
image_pdfimage_print

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাথে বহু প্রতীক্ষিত বৈঠকে বসতে না চাওয়ার যে হুমকি উত্তর কোরিয়ার নেতা দিয়েছেন তাকে বেশ চমকপ্রদ পরিবর্তনই বলা যায়।

আগামী ১২ই জুন সিঙ্গাপুরে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কিম জং আনের সাথে বৈঠকটি হবার কথা রয়েছে।গত মাসেই পুরো বিশ্ব দেখেছে মি: কিম কিভাবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুন জাই-এর হাত ধরে একটি শান্তির প্রতীকী গাছ রোপণ করেছে।সে সময় কিম জং আন প্রতিবেশীর সাথে নতুন ইতিহাস সৃষ্টির অঙ্গীকার করে এও বলেছিলেন যে, এটি শান্তি প্রতিষ্ঠার সূচনা মাত্র।

একইসাথে তিনি বলেছিলেন যে, আসন্ন সিঙ্গাপুর বৈঠকের আগে উত্তর কোরিয়া অবিলম্বে পরমাণু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা থামাবে। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চায় যে পিয়ং ইয়ং তার অস্ত্র কর্মসূচী পুরোপুরিই বন্ধ করুক।

কিন্তু এখন মনে হচ্ছে, এসবের কিছুই হয়তো নাও ঘটতে পারে।

তবে বিবিসির এশিয়ার বাণিজ্য বিষয়ক সংবাদদাতা কারিশমা ভাসওয়ানির মতে, উত্তর কোরিয়ার নেতার স্বভাব যদিও অনুনমেয় তারপরেও বর্তমান পরিস্থিতিকে বর্ণনা করা যায় ‘বিস্ময়কর’ শব্দটি ব্যবহার করেই।

এ ঘটনার শুরু হয় যখন উত্তর কোরিয়া বলে যে, আমেরিকা যদি পারমাণবিক অস্ত্র নষ্ট করে ফেলার জন্য তাদের ওপর চাপ দেয় তাহলে তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠকে বসবে না।

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং আন
বুধবার এক বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার উপ-পররাষ্ট্র মন্ত্রী কিম গিয়ে-গুয়ান আমেরিকার বিরুদ্ধে ‘অশুভ অভিপ্রায়ের’ এবং দায়িত্বহীন বিবৃতি দেবার অভিযোগ করেন। আর তিনি এজন্য সরাসরি দায়ী করেছেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টনকে।

মিজ কারিশমা মনে করেন যে, সিঙ্গাপুরের বৈঠকটির মূল বিবেচ্য আসলে বাণিজ্য। আর সেজন্যেই উত্তর কোরিয়া খুব সরলভাবেই তাদের চুক্তির শর্তগুলো তুলে ধরছে, যেকোনো সভার আগে যা হয়েই থাকে।

অর্থনীতি, গুরুত্ব সেখানেই

মি. কিম কখনোই তার দেশের অর্থনীতির ওপর নজর দেবার ক্ষেত্রে দ্বিধা করেননি।

কারিশমা ভাসওয়ানির বিশ্লেষণে দেখা যায় যে, কিম জং আন বহুবারই তার ‘বাইয়ুংজিন’ নামের দ্বৈত কৌশল প্রতিশ্রুতি বদ্ধ থাকার কথা উল্লেখ করে এসেছেন- যেখানে একইসাথে পারমাণবিক অস্ত্র এবং অর্থনীতি উভয়ের একসাথেই উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে।

আর এই কৌশল ঘোষণার প্রায় পাঁচ বছর পর এই এপ্রিলে এসে দেশটির প্রধান নেতা বলেছেন যে, উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু অস্ত্রের ক্ষেত্রে কাঙ্খিত লক্ষ্য অর্জন করে ফেলেছে, এখন সময় অর্থনীতির দিকে মনোযোগ দেবার।

সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র যখন বলে যে, উত্তর কোরিয়া সম্পূর্ণ পারমাণবিক অস্ত্র মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত সেখানে কোনো বেসরকারি বিনিয়োগ হবে না তখন অবাক হবার কিছু থাকে না।

এশিয়ার বাণিজ্য বিষয়ক সংবাদদাতার মতে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে উত্তর কোরিয়া আসলে রয়েছে খুবই চাপের মধ্যে। ২০১৭ তে দেশটির রপ্তানি ৩০ শতাংশ হ্রাস নেমে এসেছে। এমনকি তাদের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার চীনের ক্ষেত্রে রপ্তানি হ্রাসের পরিমাণ শতকরা ৩৫ ভাগ।

আর এই বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা বজায় থাকলে অবস্থা আরো খারাপ হবার সম্ভাবনাই রয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে?

কূটনৈতিক অঙ্কিত পাণ্ডার সাথে উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে কথা বলেছিলেন কারিশমা ভাসওয়ানি। মি. পাণ্ডার মতে অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণের অর্থ যুক্তরাষ্ট্র এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ভিন্ন। আসলে উত্তর কোরিয়া চায় তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাহার।

মি. পাণ্ডার বলেন যে, সবমিলিয়ে উত্তর কোরিয়ার ওপর নয়টি নিষেধাজ্ঞা বহাল আছে। আর কার্যত সবগুলো থেকে তাদের মুক্তি হয়তো সম্ভব নয়। যতই তারা দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে ইতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করুক। আসলে যুক্তরাষ্ট্র এবং জাতিসংঘের সহায়তা ব্যতীত পিয়ং ইয়ং এর মুক্তি নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের জন্যে এটি পরীক্ষা,কিন্তু কাজ কি করবে?

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের ইউলিয়াম নিউকম্ব মনে করেন যে, উত্তর কোরিয়ার সাম্প্রতিক এই মন্তব্য আসলে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি পরীক্ষা নেবার জন্যে।

এই কৌশল কাজ করবে কিনা তা নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে- তবে অনেক বিশ্লেষকই মনে করছেন যে নিরাপত্তা পরিষদের আনা নিষেধাজ্ঞা হ্রাসের বিষয়টি আসতে পারে সিঙ্গাপুর বৈঠকে এগিয়ে নিতে।

মি. নিউকম্বের মতে, নিরাপত্তা পরিষদকে হয়তো আন্তর্জাতিক এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বা হ্রাস বা স্থগিতের জন্যে কিছু একটা করে দেখাতে হতে পারে। সেটিই আলোচনা এবং অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

সেজন্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব অপরিহার্য। আর সেজন্যেই হয়তো পিয়ং ইয়ং এমন একটি চাল চেলেছে।

নিউজবিডি৭১/আ/১৭ মে ,২০১৮

Share.

Comments are closed.