৩৩ ফুট গভীর একটি কুয়া খনন করলেন ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : তিনি হয়তো গয়ার পর্বত মানব দশরথ মাঝি নন, কিন্তু ৭০ বছরের এই বৃদ্ধ তার চেয়ে কম কিসে? তার মনোবল অদম্য। সীতারাম লোধী নামের এই বৃদ্ধ একাই ৩৩ ফুট গভীর একটি কুয়া খনন করেছেন। এজন্য তার সময় লেগেছে ১৮ মাস।

শুধুমাত্র পানির সংকট দূর করতে পরিবারের সদস্যদের আপত্তি সত্ত্বেও তিনি নেমে পড়েন কুয়া খনন করতে। ভারতের ছত্রপুর জেলা খুব খরাপ্রবণ একটি জেলা বলে পরিচিত। সীতারম এই জেলারই বাসিন্দা। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।

ছত্রপুরের হাদুয়া গ্রামের বাসিন্দা সীতারাম ২০১৫ সালের শেষের দিকে কুয়া খনন শুরু করেন এবং শেষ করেন ২০১৭ সালে। দূভার্গবশত, বর্ষা মৌসুমে কুয়াটি ধসে পড়ে। আর্থিক সংকেটর কারণে তিনি কুয়ার দেয়াল প্লাস্টার করতে পারেন নি।

তবে সরকারি সহায়তা পেলে তিনি আবার কুয়া খনন কাজ কাজ শুরু করতে চান। সীতরাম অবিবাহিত এবং তিনি তার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে যৌথ পরিবারে থাকেন। পরিবারটির প্রায় ২০ একর জমি রয়েছে।

সীতারাম বলেন, তখন সময়টা ছিল গ্রীষ্মকাল এবং কোথাও পানি ছিল না। আমাদের টাকাও ছিল না। তাই খামার বাড়িতেই কুয়া খনন করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আদৌ পানি পাওয়া যাবে কি না-সে বিষয়টি নিশ্চিত না হয়ে আমার পরিবার কুয়া খনন করতে নিষেধ করে। তবে আমি ছিলাম প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

তিনি বলেন, আমি ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত মাটি খুড়তাম। কিন্তক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে আবার বিকালে শুরু করতাম। শেষ করতাম সূর্য ডুবে গেলে। এভাবেই চলত প্রতিদিন। আমি নিজেই খুড়তাম এবং কিছুক্ষণ খুড়ার পর মাটি ফেলতাম। এভাবেই কুয়োটি খুড়তে আমার ১৮ মাস সময় লেগেছে।

সীতারামের ভাই বলেন, আমরা কুয়া খুড়ার বিপক্ষে ছিলাম না, তবে সমস্যা হলো আদৌ পানি পাওয়া যাবে কি না-তা না জেনেই তিনি কুয়ো খুড়তে প্রতিজ্ঞ ছিলেন। আমরা তাকে থামানোর চেষ্টা করেছিলাম এই বলে যে, এই বয়সে এটা করা সম্ভব না। কিন্তু তিনি আমাদের কোনা কথাই শোনেন নি।

সীতারাম বলেন, ১৮ মাসে ৩৩ ফুট খুড়ার পর আমরা পানি পেয়েছিলাম। পানিও ছিল ভালো এবং আমরা সবাই এতে খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু বিধিবাম, বর্ষা মৌসুমে কুয়োটি ভরে যায় এবং একপর্যায়ে এটি ভেঙে পড়ে।

তবে এই বৃদ্ধ কুয়োটি আবার খুড়া শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন। তবে এজন্য তিনি সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সেচ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে কৃষকদের কুয়া খনন করতে সহযোগিতা করার জন্য ভারত সরকার পরিচালিত বিভিন্ন প্রক্ল্প রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো কপিল ধর প্রকল্প।

লক্ষণ নগর জনপদ পঞ্চায়েতের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আর কে শর্মা বলেন, আমি জানি না তিনি (সীতারম) কপিল ধর প্রকেল্পর অধীনে আবেদন করেছেন কি না। এ প্রকল্পে নির্ধারিত ব্যয় হলো এক লাখ ৮০ হাজার রুপি যা সরকার বহন করে। তবে যারা নিজেই নিজের কুয়ো খনন করতে চান, তাদের জন্য এ ধরনের কোনো প্রকল্প নেই বলে জানান তিনি।

নিউজবিডি৭১/আ/১৬ মে ,২০১৮