১৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং ব্যাংকিং খাতের নৈরাজ্য সরকারের বড় ব্যর্থতা
Mountain View

ব্যাংকিং খাতের নৈরাজ্য সরকারের বড় ব্যর্থতা

0
image_pdfimage_print

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ব্যাংকিং খাতের নৈরাজ্য দমন করতে না পারাকে আওয়ামী লীগ সরকারের বড় ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। তিনি বলেছেন, দেশের অর্থমন্ত্রী হিসেবে এ ব্যর্থতা তারও। ফিলিপাইনের ম্যানিলায় ৩ থেকে ৬ মে অনুষ্ঠিত এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ৫১তম বার্ষিক সভা শেষে আলোকিত বাংলাদেশের এ প্রতিবেদককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী একথা বলেন। এ সময় তিনি দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অবস্থা, বাজেট, রোহিঙ্গা ইস্যুসহ নানা বিষয়ে খোলামেলা কথা বলেন। রাজনৈতিক অবস্থার কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধী দল এখন খুবই দরকার। বিএনপি পার্টি হিসেবে শেষ হয়ে গেছে। আর জাতীয় পার্টির বিরোধী দল হিসেবে শক্তিশালী অবস্থান নেওয়ার সক্ষমতা নেই।

আওয়ামী লীগ সরকার টানা ১০ বছর ক্ষমতায়। এ সময়ে সফলতার পাশাপাশি রয়েছে ব্যর্থতা। সফলতা ও ব্যর্থতা সম্পর্কে বলতে গিয়ে দুই মেয়াদেই অর্থমন্ত্রী হিসেবে থাকা আওয়ামী লীগের এই বর্ষীয়ান মন্ত্রী বলেন, আমাদের সফলতা অনেক। আমরা দারিদ্র্যের হার কমিয়ে এনেছি। দারিদ্র্য বিমোচনে আমাদের সাফল্য সারা বিশ্বে এখন দৃষ্টান্ত। এক্ষেত্রে বিশ^ব্যাপী আমাদের সুনাম ছড়িয়ে পড়ছে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করবে। এরই মধ্যে আমরা উন্নয়নশীল দেশের কাতারেও প্রবেশ করেছি। ২০৪১ সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হবে। হয়তো আমি এবং আমরা কেউই তখন থাকব না। তবে এ দেশ যে একটা উন্নয়নের পথে উঠে গেছে, সেই রাস্তা কেউই রুখতে পারবে না।

তিনি বলেন, আরেকটি বড় সাফল্য হলো দারিদ্র্য বিমোচনের সফলতায় এখন মানুষ আর গরিব নেই। কমবেশি সবাই সঞ্চয় করে। এজন্য বলি, আমার বড় সফলতা হচ্ছে উচ্চতর জিডিপি প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রাখা। ৬ শতাংশের বৃত্ত ভেঙে উপরে উঠে আসা বাংলাদেশ গত বছর ৭ দশমিক ২৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। চলতি বছর আশা করা যাচ্ছে এটা ৭ দশমিক ৬৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে।

অর্থমন্ত্রী সাফল্যের কথা যেমন বলেছেন, তেমনি দীর্ঘ ১০ বছরের ব্যর্থতাও অকপটে স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমরা ব্যাংক খাতের শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারিনি। এখনও এ খাতে নৈরাজ্য বিরাজ করছে। এটি আওয়ামী লীগ সরকারের বড় ব্যর্থতা। আর আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী হিসেবে এ ব্যর্থতা আমারও। এ সময় তিনি ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ব্যাংকিং কমিশন গঠনের কথা বলেন। তিনি জানান, আগামী দুই-এক মাসের মধ্যে কমিশন গঠন করা হবে। এতে ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। তাছাড়া শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংকও কাজ করছে। তাই এটি অচিরেই ফিরে আসবে। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতের মধ্যে সরকারি ব্যাংকগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। এগুলোর খেলাপি ঋণ ৩০ শতাংশ। আর বেসরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৭ শতাংশের নিচে। অবশ্য কোনো কোনো বেসরকারি ব্যাংকের অবস্থাও অনেক খারাপ। সেটা ভিন্ন বিষয়। এজন্য আমাদের এ খাতটাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে।

ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও ব্যাংকের সংখ্যা মোটেও বেশি নয় বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতে শুধু যে ব্যর্থতা রয়েছে তা নয়। এ খাতে আমাদের অনেক অর্জনও রয়েছে। ব্যাংকের মাধ্যমে শিল্পায়ন হচ্ছে। কর্মসংস্থান বাড়ছে ইত্যাদি। তবে আমাদের দেশে ব্যাংকের সংখ্যা অনেক বেশি বলে যারা অপপ্রচার করে, আমি তাদের সঙ্গে মোটেও একমত নই। এটা স্রেফ অপপ্রচার। আামাদের ঢাকার জনসংখ্যা কত? সরকারের হাতে যদিও সঠিক কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে ধারণা করা যায়, ২ কোটির কম নয়। আর সারা দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটির উপরে। তাহলে এত মানুষের জন্য ৫৬ বা ৫৭টি ব্যাংক বেশি হয় কী করে। দেশে এখনও এমন জায়গা রয়েছে যেখানে ব্যাংকিং শাখা অপ্রতুল, কিংবা নেই। তাহলে বেশি হলো কী করে?

আগামী অর্থবছরের বাজেটের বিষয়ে তিনি জানান, বাজেটের আকার ৪ লাখ ৬০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। নতুন করে কোনো কর বসবে না। বাজেট বাস্তবায়নের হার অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। আমরা এডিপি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মান রক্ষার চেষ্টা করছি। নতুন যে বাজেট আসছে সেটা হয়তো আমার দেওয়া সর্বশেষ বাজেট হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের মন্ত্রী হিসেবে টানা ১০ বার এবং সর্বোচ্চ ১২ বার বাজেট দেওয়ার রেকর্ড করতে যাচ্ছি। পরবর্তী বছর হয়তো আমি আর মন্ত্রী থাকব না। তবে এটা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার ওপর। তিনি চাইলে হয়তো থেকেই যাব। নতুবা এটাই আমার শেষ। তবে মন্ত্রী না থাকলেও সরকারের সঙ্গেই থাকব।

বাজেটে জাতীয় পর্যায়ের সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর ব্যাপারে একটি কাঠামো দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আসছে বাজেটে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা ও পরিকল্পনা আমি তুলে ধরব। সেখানে সরকারি-বেসরকারি প্রত্যেক চাকরিজীবীই যেন পেনশনের সুুবিধা পান সে ব্যবস্থা করা হবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য বাজেটে বক্তৃতাতেই থাকবে। একটি কাঠামো দেওয়া থাকবে। সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারি চাকুরেদের বেতন-ভাতা আর বাড়বে কিনা- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, নতুন আর এক টাকাও বেতন বাড়ানো হবে না। আমরা বেতন কমিশনের মাধ্যমে বেতন বাড়িয়েছি। এখন সরকারি চাকরিজীবীরা অনেক টাকা আয় করেন। প্রত্যেকেই কিছু না কিছু সঞ্চয় করেন। মূল্যস্ফীতিও সহনীয় রয়েছে। ফলে এ সময় আর নতুন করে বেতন বাড়ানো হবে না। তবে তারা বছর শেষে ৫ শতাংশ হারে ইনক্রিমেন্ট পাবেন। সেটা নিয়ম অনুুযায়ী। আর বেতন বাড়ানোর ব্যাপারে এ সংক্রান্ত একটি মূল্যায়ন কমিটি রয়েছে। ওই কমিটিই সময় সময় প্রতিবেদন দেবে। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন হবে সময়মতোই। আমার মতে, আবারও আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় আসবে। কেননা মানুষ হরতাল, মারামারি পছন্দ করেন না। মানুষ চায় কাজের পরিবেশ। আর চায় উন্নয়ন। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সেটাই করছে।

আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান এই নেতা দেশের জন্য একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের খুব প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন। তিনি বলেন, দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল না থাকাটা ভালো নয়। সরকারের সমালোচনাচারী কেউ নেই। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আর উন্নয়নের জন্য একটা শক্তিশালী বিরোধী দল খুবই প্রয়োজন। বর্তমানে সেটা নেই।

বিএনপির ব্যাপারে বিরক্তি প্রকাশ করে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে বিএনপি শেষ হয়ে গেছে। আগামী নির্বাচনের পরও প্রধান বিরোধী দল হতে পারবে না। বিএনপি এখন আর শক্তিশালী নেই।

জাতীয় পার্টি প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কেমন জানতে চাইলে তিনি বলেন, শক্তিশালী বিরোধী দল হওয়ার সক্ষমতা নেই জাতীয় পার্টির । সরকারে থেকে শক্তিশালী বিরোধী দল হওয়া যায় না। তাহলে ভবিষ্যতে কী হবে, এমন প্রশ্নর জবাবে হেসে মুহিত বলেন, এটা এখন বলা যাবে না। কিন্তু জবাবদিহিতার জন্য সংসদে একটা কার্যকর ও শক্তিশালী বিরোধী দল থাকতেই হবে।

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু আমাদের বাজেটে এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। ফলে এবার বাজেট দিতে কিছুটা সমস্যা হবে। রোহিঙ্গা ইস্যুর কারণে প্রতি বছর আমাদের এক বিলিয়ন ডলার বেশি অর্থের প্রয়োজন হবে। বাজেট থেকে কিছু দিতে হবে। মিয়ানমার একটি সন্ত্রাসী রাষ্ট্র। তারা রোহিঙ্গা দিয়ে বাংলাদেশকে চাপে ফেলেছে। আবার আন্তর্জাতিক মাধ্যমকেও কেয়ার করছে না। এটা তাদের সন্ত্রাসী মনোভাবের কারণে হচ্ছে। মিয়ানমার আমাদের বিরুদ্ধে এক ধরনের যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করে তারা এ যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তবে যে কোনো মূল্যেই মিয়ানমারকে রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে হবে। আলোকিত বাংলাদেশ

নিউজবিডি৭১/আ/০৮ মে ,২০১৮

Share.

Comments are closed.