১৫ই আগস্ট, ২০১৮ ইং ইটভাটার আগুনে পুড়ল ৪০ একর জমির উঠতি ধান
Mountain View

ইটভাটার আগুনে পুড়ল ৪০ একর জমির উঠতি ধান

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
কামরুজ্জামান টুটুল, পঞ্চগড় করেসপন্ডেন্ট : পঞ্চগড়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ইটভাটার আগুনে ফুলকিতে প্রায় ৪০ একর জমির উঠতি বোরো ধান পুড়ে গেছে। এর মধ্যে অর্ধেক জমির ধান সম্পূর্ণ এবং অর্ধেক জমির ধান আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্থ জমির ধানও ঘরে তুলতে পারবেন কিনা এ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছে কৃষকরা।

ভাটার পাশের থাকা গাছও রেহাই পায়নি ইটভাটার আগুন থেকে। তবে ভাটা মালিক এটাকে ¯্রফে দূর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিয়ে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আশ্বাষ দিয়েছেন।

ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানিয়েছেন, জেলার বোদা উপজেলার ব্যাংহারী বনগ্রাম ইউনিয়নের মুন্সিপাড়া গ্রামে আনন্দ মাষ্টারের অনেক পুরনো একটি ইটভাটা দশ বছরের জন্য চুক্তিতে নেন স্থানীয় প্রভাবশালী সাইফুল মাস্টার। তিনি পার্টনার হিসেবে নেন জেলা শহরের সুরুচি হোটেলের মালিক আব্দুল জব্বার ও জনৈক হামিদার রহমানকে।

গত মৌসূমে তারা ড্রাম দিয়ে তৈরী নিষিদ্ধ চিমনী ভাটা তৈরী করে ফসলী জমিতে টিএসবি ব্যান্ডের ইট উৎপাদন শুরু করে। ইট ভাটায় কাঠ পোড়ানো অবৈধ হলেও তারা সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে কয়লা বাদ দিয়ে শতভাগ কাঠ পুড়িয়ে ইট উৎপাদন করে।

মৌসূমের শেষ দিকে এসে ভাটা আগুনের ছাই দিয়ে নষ্ট হয় পাশ্ববর্তি বোরো ধান ক্ষেত। এতে কয়েকজন কৃষককে ক্ষতিপুরণও দেয় তারা। চলতি মৌসূমে ইট পোড়ার কাজ শেষ হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভাটার দু’টো চিমনীই খুলে মাটিতে ফেলা হয়। এসময় পূর্ব দিকের বাতাসে গরম ছাই উড়ে দিয়ে পশ্চিম দিকের জমির ওপর দিয়ে চলে যায়।

এসব ছাই জমিতে পড়ে প্রায় ১৫ একর জমির ধান সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। আরও প্রায় ৩৫ একর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়। কম ক্ষতিগ্রস্থ ধান ক্ষেতগুলো ধীরে ধীরে অবস্থা খারাপ হচ্ছে। এসকল জমির ধানও কৃষকরা ঘরে তুলতে পারবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। কৃষকরা বলছেন, দিনের বেলা এ অবস্থার সৃষ্টি হলে এবং আশপাশে বাড়িঘর থাকলে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হত।

তারা জানায়, এখানকার ভাটা মালিকরা পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের খানপুকুর গ্রামে আবাসিক বাড়ির পাশে এবং আবাদী জমিতে ইটভাটা তৈরীর কাজ শুরু করেছে। আগামী মৌসূম থেকে তারা ইট পোড়ার কাজ শুরু করবে। সেখানে এ ধরণের ঘটনা ঘটলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে।

মুন্সিপাড়া গ্রামের কৃষক আনারুল ইসলাম আজকালের খবরকে জানান, ভাটার পাশে আমি প্রায় সাড়ে ২ বিঘা জমিতে বোরো ধান লাগিয়েছিলাম। আর ১০/১২ দিনের মধ্যে সেই ধান কেটে তিনি বাড়িতে তুলতে পারতাম। ভাটার আগুনের ছাই দিয়ে ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার খবর পেয়ে গত শুক্রবার সকালে জমিতে গিয়ে দেখি সব জমির ধান জ্বলে গেছে।

একই গ্রামের কৃষক খামির উদ্দীন জানান, ভাটার ছাই দিয়ে আমার পৌণে দুই বিঘা জমির ধান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর মধ্যে এক বিঘা জমির ধান কিছুটা ভাল থাকলেও শেষ পর্যন্ত ধান ঘরে তুলতে পারব কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ভাটা মালিক সাইফুল মাস্টারকে বিষয়টি বলার পর তিনি ক্ষতিপূরণ দিতে চেয়েছে। কিন্তু আজ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের কোন টাকা পাইনি।

তারা আরও জানান, শুধু আমাদের নয়; পার্শ্ববর্তি তমিজউদ্দীন প্রধান, মাহাতাব, ইয়াসিন মেম্বার, মফি মেম্বারসহ সকলের ধান ক্ষেত সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ভাটার ছাই দিয়ে বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার কথা স্মীকার করে ভাটা মালিক সাইফুল ইসলাম মাস্টার বলেন, দূর্ঘটনা বশত এ ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে হঠাৎ পূর্ব দিক থেকে বাতাস আসায় গরম ছাই দিয়ে পশ্চিম পার্শ্বের কিছু জমির ধান নষ্ট হয়েছে। আমি ক্ষতিগ্রস্থ জমি ও কৃষকদের তালিকা তৈরী করছি। ক্ষতিগ্রস্থ সবাইকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব। আমিও এই এলাকার মানুষ। আমি কার ক্ষতি করব না।

এ নিয়ে কথা বললে বোদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ মাহমুদ হাসান জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। কেউ আমার কাছে এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজবিডি৭১/আ/০৬ মে,২০১৮

Share.

Comments are closed.