১৫ই আগস্ট, ২০১৮ ইং দুর্নীতিতে ডুবে আছে এনসিটিবি
Mountain View

দুর্নীতিতে ডুবে আছে এনসিটিবি

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : পাঠ্যপুস্তক তৈরি ও মুদ্রণের স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) দুর্নীতিতে ডুবে আছে। বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানো থেকে শুরু করে বিতরণ পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে জেঁকে বসেছে অনিয়ম আর দুর্নীতি। এ কাজে জড়িয়ে পড়েছে নিম্নস্তরের কর্মী থেকে শুরু করে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষপদস্থ কর্মকর্তা পর্যন্ত। তারা পকেটে পুরেছেন লাখ লাখ টাকা। পদ-পদবি অনুযায়ী নির্ধারিত রুটিনওয়ার্কেও নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত সম্মানী। প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষপদস্থ কর্মকর্তা একাই নিয়েছেন প্রায় ৪৫ লাখ টাকা সম্মানী। অভিযোগ উঠেছে বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপানো এবং কাগজ-কালি কেনাকাটায় অনিয়ম দুর্নীতির। অনিয়ম এমন পর্যায়ে বিস্তার লাভ করেছে, বলা হচ্ছে এনসিটিবি এখন দুর্নীতির সমার্থক শব্দ। সম্প্রতি এই প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য রয়েছে।

প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পরিমার্জনের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠান এনসিটিবি। এর বৃহৎ কর্মযজ্ঞ রয়েছে প্রাক-প্রাথমিক, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, এবতেদায়ি, দাখিল ও ভোকেশনাল স্তরের পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ ও বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণের সংখ্যা অনুসারে এটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ সবচেয়ে বড় স্বশাসিত প্রতিষ্ঠান।

বিভিন্ন সময়ে পরিমার্জন পরিবর্ধনে সর্বশেষ ১৯৮৩ সালে গঠিত ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড’ এখন অনিয়ম আর দুর্নীতির ভারে ন্যুব্জ হয়ে পড়েছে। প্রায় ৬৭৮ কোটি ৫৬ লাখ ৭১ হাজার টাকার হিসেবে গরমিলের অভিযোগ প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সরকারি মহাহিসাব নিরীক্ষা দপ্তর যাকে অডিট আপত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। নিয়ম লঙ্ঘন করে অতিরিক্ত সম্মানী নেওয়া, বিনামূল্যের পাঠ্যবই ছাপা, কাগজ-কালি কেনাকাটাসহ নানা খাতে অপ্রয়োজনীয় খরচের মাধ্যমে এসব অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। তিন যুগের বেশি সময় পার হলেও দুর্নীতির অন্তত ৪০টি অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করতে পারছে না এনসিটিবি।

এর আগে পাঠ্যপুস্তক ছাপানোর কর্মযজ্ঞে নানাবিধ অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ওই প্রতিবেদনে উঠে আসে এনসিটিবির অন্তত ১৬ ধাপে দুর্নীতির তথ্য। বিধি লঙ্ঘন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অতিরিক্ত সম্মানীর নামে অর্থ নিজেদের পকেটে পুরে নেওয়া, দরপত্রে রাজনৈতিক প্রভাব ও কেনাকাটায় অনিয়ম-দুর্নীতি ইত্যাদি।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা আমাদের সময়কে বলেন, হিসেবে গরমিলও না, অডিট আপত্তি না, যারা অডিট করেছে তাদের এটা পর্যবেক্ষণ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদ-পদবি অনুযায়ী নির্ধারিত রুটিনওয়ার্কেও অতিরিক্ত সম্মানী দেড় কোটি টাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলে অডিট কর্তৃপক্ষÑ জানিয়ে নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, আমরা বলে দিয়েছি অতিরিক্ত কাজের পারিশ্রমিক নেওয়ার সুযোগ আছে। সেটা অর্থ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত। বহু বছর ধরে অডিট নিষ্পত্তি না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, এর আগেও এ ধরনের বিষয়গুলো ছিল।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকতা বলেন, প্রতিবছর বিধি লঙ্ঘন করে কেনাকাটা, সম্মানী নেওয়াসহ বিভিন্ন কারণে এসব অডিট আপত্তি পড়ে আছে। কয়েক বছরের ধারাবাহিকভাবে এই দুর্নীতি হচ্ছে আর বিষয়টি ধামাচাপা দিয়ে আসছেন প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। এখন মন্ত্রণালয়ের কড়াকড়ির কারণে সব মিলিয়ে ১৪৮টি হিসাব কষতে ঘাম ঝরছে এনসিটিবি কর্মকর্তাদের।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ২৮টি হিসাবে গরমিল পেয়েছে অডিট বিভাগ। তাতে টাকার পরিমাণ ২৩৯ কোটি ৩৩ লাখ ৭৮ হাজার টাকা। গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ ওই বছরের দাখিল স্তরের বইয়ের চেয়ে মাধ্যমিক স্তরের বই বেশি দরে ছাপার। টাকার অঙ্কে যা ৬০ কোটি ২৯ লাখ। দরপত্রে উল্লিখিত সংখ্যার চেয়ে বই বেশি ছাপানোয় ১০ কোটি ৮৩ লাখ বেশি ব্যয় হয়। পাঠ্যবই পরিবহনেও সার্ভিস চার্জ বাবদ অতিরিক্ত খরচ ১৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ২৮টি হিসেবের মধ্যে সাতটির গরমিল নিষ্পত্তি করতে পেরেছে এনসিটিবি। এক অর্থবছরে (২০১৫-১৬) প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তা-কর্মচারী রুটিন দায়িত্ব পালনেও অতিরিক্ত প্রায় দেড় কোটি টাকা সম্মানী নিয়েছেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে এনসিটিবির জমা দেওয়া প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫-১৬ সালে ৪০টি (আগের ১২টিসহ) অডিট আপত্তিতে ২৫১ কোটি ৫ লাখ টাকার হিসাবে গলদ। এর আগের অর্থবছরেও (২০১৪-১৫) ১৪টি হিসাবে ৩ কোটি ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৯০৬ টাকার অনিয়ম পেয়েছে অডিট টিম। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ২০টি হিসেবে ৭৩ কোটি ১৩ লাখ ৭২ হাজার ৭৪৯ টাকা লাপাত্তা। ২০১০ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ১৭টি হিসেবে মিলছে না ৮ কোটি ৮০ লাখ ৫২ হাজার ৪৭৪ টাকার তথ্য-উপাত্ত। এ ছাড়া ১৯৭৯ থেকে ১৯৮০ সালের ৩৪২ কোটি ৪২ লাখ ৪৫ হাজার ৯৬২ টাকার অনিয়ম থাকায় এখন পর্যন্ত নিষ্পত্তি হয়নি ৮৫টি হিসাব। সূত্র: আমাদের সময়

নিউজবিডি৭১/আর/ ২০ এপ্রিল, ২০১৮

Share.

Comments are closed.