১৮ই জুলাই, ২০১৮ ইং হঠাৎ সুগার কমে গেলে যা করবেন
Mountain View

হঠাৎ সুগার কমে গেলে যা করবেন

0
image_pdfimage_print

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : আপনার বাড়িতে যদি ডায়াবেটিসের রোগী থেকে থাকেন, তাহলে হঠাৎ করে সুগার কমে যাওয়ার মত সমস্যায় পড়তে পারেন যে কোনো সময়ে। ভেবে দেখুন, আপনার প্রিয় মানুষটির হাত-পা শক্ত হয়ে যাওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, ক্লান্তি অনুভব করা, মাথা ঘুরান,ঘাম হওয়া ইত্যাদি পরিচিত সব লক্ষণই আপনি দেখতে পাচ্ছেন। বুঝতে পারছেন যে ওই মানুষটির সুগার ডাউন হয়েছে। কিন্তু কী করবেন কিছুতেই বুঝে ওঠতে পারছেন না। উল্টো ভয়ে আপনার নিজের হাত পা-ই ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে।

সুগার কমে যাওয়ার সমস্যাটি কিন্তু যখন-তখনই হতে পারে। আর রাত-দুপুরে হলে তো চিন্তার শেষ নেই। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াও তো মুখের কথা নয়। এ নিয়ে কিন্তু একটুও অবহেলা করার জো নেই। কারণ দেরী হলেই সর্বনাশ। কেননা সুগার ডাউন থেকে মৃত্যুও হতে পারে। তাই সুগার ফল মোকাবেলা করার অস্ত্রগুলোও জেনে নিন এবার। তবে তার আগেও জানতে হবে সুগার ডাউন হলে বুঝবেন কী করে?

কি করে বুঝবেন সুগার ফল হয়েছে?
১. আচমকাই খুব খিদে পাওয়া।
২. উদ্বেগ, টেনশন, হঠাৎ ভয় পেয়ে যাওয়া, হাত-পা কাঁপা।
৩. খুব বেশি ঘাম হওয়া।
৪. ঝাপসা দেখা,ক্লান্তি অনুভব করা।
৫. ঘুমোতে সমস্যা হওয়া।
৬. মাথা ধরা।

আচমকা সুগার ডাউন হলে কী করবেন?

১. চিনি খাওয়ান
সুগার ফলের লক্ষণগুলো যদি কারুর ক্ষেত্রে দেখেন,তাহলে তাকে সঙ্গে সঙ্গে ১ চামচ চিনি খাইয়ে দিন। এছাড়া চিনি বা গ্লুকোজ গোলানো পানিও খাওয়াতে পারেন। ঘরে যদি মিষ্টি থাকে তাহলে সেগুলোও খাওয়াতে পারেন। এগুলো হচ্ছে সব থেকে সহজ উপায়। মিষ্টি বা মিষ্টি জাতীয় খাওয়ানোর কয়েক মিনিটের মধ্যেই সুগার লেভেল খানিকটা নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করবে।

২. গুড়
সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে আনতে চিনির মতোই গুড়ও কিন্তু সমান উপকারী।

উপকরণ

১ চামচ গুড়,হালকা গরম জল ১ গ্লাস।

পদ্ধতি
গুড় জলে গুলে খান। সুগার আচমকা ফল করলে তো বটেই,এছাড়া আপনার যদি সুগারের মাত্রা ওঠা-নামা করে, বা টেন্ডেন্সি থাকে,তাহলে দিনে দু’বার করে নিয়ম করে খান।

৩. টমেটো
টমেটোতে কিন্তু প্রচুর পরিমাণে লাইকোপিন নামক অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট থাকে,যা যকৃত আর অগ্ন্যাশয়ের সমস্যাকে দূর করে। আর অগ্ন্যাশয়ের সমস্যা কিন্তু অনেক সময়েই লো ব্লাড সুগারের কারণ হয়। তাই আচমকা সুগার ফলের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ডায়েটে টমেটো রাখুন। দিনে দু’বার নিয়ম করে টমেটোর রস খান। তাছাড়া খাওয়ার সময় স্যালাড করেও খেতে পারেন টমেটো। দেখবেন সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যেই সুগার নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছে।

৪. আপেল
আপেলে প্রচুর পরিমাণে ক্রোমিয়াম আর ম্যাগনেসিয়াম থাকে,যা রক্তে সুগারের মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। খাওয়ার পর দিনে অন্তত দুটো করে আপেল খাওয়া অভ্যেস করুন। সুগারের সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।

৫. ব্যালান্সড ডায়েট
আর ব্যালেন্সড ডায়েট করুন। মাছ,মাংস,সবজি—আপনার ডায়েটে যেন সবই থাকে। ক্রোমিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদি মিনারেলস,ভিটামিন,ফাইবার যেন আপনার খাবারে থাকে। বেশী মিষ্টি খাবার কিন্তু এড়িয়ে চলাই ভালো। প্রসেস করা খাবার, অ্যালকোহল, ক্যানড খাবার, মিষ্টি ফল ইত্যাদি এড়িয়েই চলুন।

ক্রোমিয়াম যুক্ত খাবার: আলু,কড়াইশুঁটি,অয়েস্টার,হোল হুইট ব্রেড ইত্যাদি।

ম্যাগনেসিয়াম যুক্ত খাবার: টুনা,কলা,বার্লি,দুধ,দই,কাঠবাদাম,কাজু,বিনস,ব্রকোলি,সয়াবিন,পালংশাক, মিষ্টি আলু,আলু।

ভিটামিন বি ৩ যুক্ত খাবার: টুনা,মাশরুম,স্যামন,চিকেন ব্রেস্ট ইত্যাদি।

ফাইবার যুক্ত খাবার: ওট ব্র্যান,আপেল ইত্যাদি।

তাছাড়া নিয়ম করে জল খান, ঘুমোন, ব্যায়াম করুন আর ঠিকঠাক লাইফ স্টাইল মেনে চলুন। দেখবেন সুগার আপনার কন্ট্রোলে চলে এসেছে। ফলে আচমকা সুগার ডাউন হওয়ার টেনশন নিয়েও আপনাকে আর আপনার বাড়ির লোকজনকে রাতদিন ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে না।

নিউজবিডি৭১/এম কে/এপ্রিল ১০ , ২০১৮

Share.

Comments are closed.