১৭ই জুলাই, ২০১৮ ইং রাসূল (সা.) যে দোয়াটি সবচেয়ে বেশি পাঠ করতেন
Mountain View

রাসূল (সা.) যে দোয়াটি সবচেয়ে বেশি পাঠ করতেন

0
image_pdfimage_print

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : ইসলামী জিন্দেগীর রূপ রেখা হলেন স্বয়ং রাসূল (সা.)। তিনি যা কিছু করতে, তা সবই মহান আল্লাহ তা’য়ালার জন্য করতেন। নবী করিম (সা.) অসংখ্য দোয়া পাঠ করতেন। তবে তিনি একটি দোয়া সবচেয়ে বেশি পাঠ করতেন। সেই দোয়াটিকে সর্বশ্রেষ্ঠ দোয়া বলা হয়ে থাকে।

দোয়া: رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ (রাব্বানা আতিনা ফিদ্ দুনইয়া হাসানাহ্, ওয়াফিল আখিরাতি হাসানাহ্। ওয়াকিনা আজাবান্নার)। অর্থ: হে আমার প্রভু! আমাকে দুনিয়াতে সুখ দান কর, আখেরাতেও সুখ দান কর এবং আমাকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।– সূরা আল বাকারা: ২০১‍

বিশিষ্ট তাবেয়ি হজরত কাতাদাহ (রহ.) সাহাবি হজরত আনাসকে (রা.) জিজ্ঞাসা করলেন, নবী করিম(সা.) কোন দোয়া বেশি করতেন? উত্তরে সাহাবি হজরত আনাস (রা.) উপরোক্ত দোয়ার কথা জানালেন।

তাই হজরত আনাস (রা.) নিজে যখনই দোয়া করতেন, তখনই দোয়াতে এই আয়াতকে প্রার্থনারূপে পাঠ করতেন। এমনকি কেউ তার কাছে দোয়া চাইলে তিনি তাকে এ দোয়া দিতেন।– সহিহ মুসলিম : ৭০১৬

হজরত আনাস (রা.) আরও বলেন, আল্লাহতায়ালা এ দোয়ায় দুনিয়া ও আখেরাতের সকল কল্যাণ ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের প্রার্থনা একত্রিত করে দিয়েছেন।

আল্লাহ তা’য়ালা আমাদের সবাইকে দুনিয়া ও আখেরাতে কল্যাণ দান করুন। সেই সঙ্গে সকল প্রকার অকল্যাণ থেকে হেফাজত করুন। আমিন।

বিপদের সময় যে দোয়াটি পাঠ করলে স্বয়ং আল্লাহ তায়া’লা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন।

বিপদে পড়েননি এমন মানুষ খুজে পাওয়া ভার। সবাই কম-বেশি বিপদে পড়েছেন। কেউ একবার আর কেউ বহুবার। কিন্তু কখনো কি বিপদে পড়লে কোন দোয়া পড়েছেন? হয়তো বলবেন, বিপদের সময় দোয়া পড়ার কথা মনেই থাকে না।

একটি দোয়া পাঠ করলেই ভীষন বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। স্বয়ং আল্লাহ তা’য়ালা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। মূল্যবান সেই দোয়াটি এবার আমরা জনবো।

দোয়াটি হলো- ‘আল্লাহুম্মাস তুর আওরাতীনা ওয়া আমীন রাওয়াতীনা’।

প্রখ্যাত সাহাবী হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বর্ননা করেন, খন্দকের যুদ্ধের সময় আমরা আল্লাহর রাসুল (সাঃ) এর নিকট আরয করলাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ (সাঃ)! এ নাযুক মুহুর্তের জন্য কি কোন দোয়া আছে? আতংকের আতিশায্যে আমাদের হৃদপিন্ড যেন কন্ঠনালী পর্যন্ত এসে যাচ্ছে।

উত্তরে রাসুলুল্লাহ(সাঃ) বললেন, হ্যাঁ, আল্লাহর দরবারে এ ভাবে দোয়া কর, ‘আল্লাহুম্মাস তুর আওরাতীনা ওয়া আমীন রাওয়াতীনা’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের সকল দুর্বলতাকে ঢেকে রাখুন এবং আমাদের আস্থিরতাকে স্থিরতায় পরিনত করুন।

হযরত আবু সাঈদ খুদরী(রাঃ) বলেন, আল্লাহ তায়া’লা বাতাস পাঠিয়ে শত্রুদের মুখ থুবড়ে দিলেন এবং বাতাসের মাধ্যমেই তাদেরক ধ্বংস করে দিলেন।

যে ৭টি কারনে সূরা ইয়াসিনকে আল কোরআনের‘হৃদপিণ্ড’বলা হয়! সবার জেনে রাখা উচিত

তোমরা তোমাদের মৃতদের জন্য এ সূরা তিলাওয়াত করো। (রুহুলমায়ানি, মাজহারি) ইমাম গাজ্জালি রহ: বলেন, ‘সূরা ইয়াসিনকে কুরআনের হৃৎপিণ্ড এ কারণে বলা হয়েছে যে, আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘সূরা ইয়াসিন হলো আল কোরআনের হৃৎপিণ্ড।’

এ হাদিসে আরো বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন আল্লাহ ও পরকালের কল্যাণ লাভের জন্য পাঠ করবে তার মাগফিরাত হয়ে যায়।তোমরা তোমাদের মৃতদের জন্য এ সূরা তিলাওয়াত করো। (রুহুলমায়ানি, মাজহারি) ইমাম গাজ্জালি রহ: বলেন, ‘সূরা ইয়াসিনকে কুরআনের হৃৎপিণ্ড এ কারণে বলা হয়েছে যে,

১। ‘এ সূরায় কেয়ামত ও হাশর-নশর বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা ও অলঙ্কারসহকারে বর্ণিত হয়েছে।

২। পরকালে বিশ্বাস ঈমানের এমন একটি মূলনীতি, যার ওপর মানুষের সব আমল ও আচরণের বিশুদ্ধতা নির্ভরশীল।

পরকালভীতিই মানুষকে সৎকর্মে উদ্বুদ্ধ করে এবং অবৈধ বাসনা ও হারাম কাজ থেকে বিরত রাখে।

তাই দেহের সুস্থতা যেমন অন্তরের সুস্থতার ওপর নির্ভরশীল তেমনি ঈমানের সুস্থতা পরকালের চিন্তার ওপর নির্ভরশীল (রুহুলমায়ানি)।

৩। এ সূরা তার পাঠকারীকে ইহকাল ও পরকালে শান্তি ও ব্যাপক কল্যাণ এনে দেয়।

অন্য এক বর্ণনায় বলা হয়েছে, এ সূরা কেয়ামতের দিন অধিক সংখ্যক মানুষের জন্য সুপারিশকারী হবে এবং তা আল্লাহ অবশ্যই কবুল করবেন।

৪। এ সূরা তার পাঠকদের থেকে বালা-মুসিবত দূর করে। অন্য রেওয়ায়েতে এর নাম ‘কাজিয়া’ও উল্লিখিত হয়েছে; অর্থাৎ এ সূরা পাঠকের সব ধরনের প্রয়োজন মেটায়। (রূহুলমায়ানি)

৫। হজরত আবু যর রা: বলেন, আমি রাসূল সা:-এর কাছ থেকে শুনেছি তিনি বলেছেন, মরণোন্মুখ ব্যক্তির কাছে সূরা ইয়াসিন পাঠ করলে তার মৃত্যু যন্ত্রণা সহজ হয়ে যায়। (মাজহারি)

৬। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবায়ের রা: বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি সূরা ইয়াসিন অভাব-অনটনের সময় পাঠ করে তাহলে তার অভাব দূর হয়, সংসারে শান্তি ও রিজিকে বরকত লাভ হয়। (মাজহারি)

৭। ইয়াহইয়া ইবনে কাসীর বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকালে সূরা ইয়াসিন পাঠ করবে সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-স্বস্তিতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে। (মাজহারি)

নিউজবিডি৭১/আ/৮ এপ্রিল, ২০১৮

Share.

Comments are closed.