১৭ই আগস্ট, ২০১৮ ইং লাইসেন্স ছাড়া চলছে জাপানি ভ্রাম্যমাণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ‘মাই সেবা’
Mountain View

লাইসেন্স ছাড়া চলছে জাপানি ভ্রাম্যমাণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ‘মাই সেবা’

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : নিউজবিডি৭১ডটকম
রেজওয়ানুর রহমান(সংলাপ): আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে বহুদিন যাবত অবৈধ ভাবে চালানো হচ্ছে ‘মাই সেবা’নামের একটি জাপানি ভ্রাম্যমাণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। নিয়ম অনুযায়ী সকল শর্ত পূরণ ছাড়া শুধু মাত্র সিটি কর্পোরেশন এর ট্রেড লাইসেন্স পুঁজি করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সগৌরবে চলছে ‘মাই সেবা’র বেশ কিছু শাখা। রোগীর রোগ নির্ণয় করার ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে’র মালিকানায় কিছু জাপানী ব্যক্তি থাকলেও অংশীদারিতে রাখা হয়নি বাংলাদেশী কোন নাগরিক।

উন্নতমানের চিকিৎসা সেবার নামে কিছু জাপানী ব্যক্তি প্রতারনামূলকভাবে নানা রকম কূটকৌশলের মাধ্যমে নিরীহ লোকদের প্রতারিত করে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। তবে এ ঘটনা চিত্র এক দিনের নয়; ২ বছরের।

ডায়াগনস্টিক সেন্টার বা প্যাথলজিক্যাল ব্যবসার শর্ত অনুযায়ী বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়পত্র নিতে হয়। এর আগে কয়েকটি সংস্থার অনুমোদন ও লাইসেন্স নিতে হয়। আলাদা করে নিতে হয় ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র। নিতে হয় জনবল, সরকারি পরিদর্শন সার্টিফিকেট এবং ট্যাক্স ও সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স।

উল্লেখিত সকল শর্ত পূরণ ছাড়াই জমকালো সাজ-সজ্জায় খুলে বসেছেন জাপানি ভ্রাম্যমাণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার ‘মাই সেবা’ রোগ নির্ণয় কেন্দ্র। নিউজবিডি৭১’কে এমনটাই অভিযোগ করেছেন (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ভুক্তভোগী কর্মী।পরে বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে নামে নিউজবিডি৭১ এর অনুসন্ধানী টিম। টিমের অনুসন্ধানে মিলে যায় ভুক্তভোগীদের করা অভিযোগের লসাগু ও গসাগু অংকের প্রাথমিক ফলাফল।

পুরোপুরি ফলাফল হাতে আসতে আরও অনেক সময় বাকী।প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি নামে ডায়াগনস্টিক ল্যাব হলেও শর্ত অনুযায়ী ল্যাবে যা কিছু থাকা দরকার, তার কিছুই সেখানে নেই।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি নামে ডায়াগনস্টিক হলেও ল্যাবে রয়েছে শুধু মাত্র বায়োকেমিস্ট্রি অটো এনালাইজার, সেমি অটো এনলাইজার রিডার,সেন্টি-ফিউজ মেশিন, মাইক্সোস্কপ মেশিন, হট ওয়ার ওভেন, ল্যাবরেটরি রেফ্রিরেজটর। শুধু তা নয় ল্যাবের নেই কোন আইনগত অনুমোদন।

যন্ত্রপাতি বাংলাদেশে আমদানি করা হয়েছে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে। নেই সঠিক কোনও অনুমোদন পত্র।

আইন অনুসারে একটি ডায়াগনস্টিক ল্যাব করতে হলে ডিজি হেলথ এর অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু এ জাতীয় কোন প্রমাণ পত্র নাই ‘মাই সেবা’ কর্তৃপক্ষের।অনুসন্ধানী টিমের নিয়োগ কৃত সোর্স জানায়, রাজধানীর উত্তরা ৩নং সেক্টর, ঢাকা ময়মনসিংহ রোড সংলগ্ন এবি সুপার মার্কেটের সপ্তম তলায় প্রতিষ্ঠানটির একটি শাখা রয়েছে।

খবর পাওয়া মাত্র অনুসন্ধানী টিমের একটি দল পৌছায় উত্তরার এবি সুপার মার্কেট।এবি সুপার মার্কেট এর অনেক পুরনো সিকিউরিটি দাউদ ইব্রাহীম (ছদ্মনাম) এর কাছে ‘মাই সেবা’ সম্পর্কে কৌশলে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই প্রথম নামটি শুনলাম তাও আপনাদের মুখে।

এবি সুপার মার্কেট এর নিচতলায় ফার্মেসীর দোকান মালিকের কাছেও জানতে চাই ‘মাই সেবা’ সম্পর্কে তিনিও একই উত্তর দিয়েছেন।

সোর্স এর দেয়া তথ্য সূত্রের সাথে কোনও মিল না পেয়ে মুঠোফোনে অফিসকে বিষয়টি খুলে বলি। পরে অফিসের নির্দেশ অনুযায়ী ৭নং ফ্লোরে পৌছাই এবং সেখানে ঘোরাঘুরি করতে থাকি। ফ্লোরটিতে বেশিরভাগই ট্রাভেল এজেন্সির অফিস তাও আবার বন্ধ। ঘুরতে থাকি।ঘুরতে একটি ইলেক্ট্রনিক্স আমদানি কারকের অফিস খোলা দেখে ঢুকে পড়ি সেখানে। মাত্র দুই জন কর্মচারীসেখানে বসে ঝিমচ্ছিলেন। তাদের কাছে ‘মাই সেবা’ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কিছুটা অবাক হয়ে উত্তর দেন এ ধরনের কোন কিছু এই ফ্লোরে নেই।

হতাশার গ্লানি নিয়ে স্থান ত্যাগ করি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত হতাশার গ্লানি নিয়ে স্থান ত্যাগ করি। পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত কিছুটা অবাক হয়ে উত্তর দেন এ ধরনের কোন কিছু এই ফ্লোরে নেই।

পরবর্তীতে খোঁজ নিয়ে জানা যায় প্রতিষ্ঠানটির ব্যবহৃত ঠিকানায় কোনও সেবা দেয়া হয় না। প্রতিষ্ঠানটিতে গুটি কয়েকজন জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে যারা মূলত টেলিফোন অপারেটর হিসাবে কাজ করে থাকে এর মধ্যে সুন্দরী মিষ্টি হয়েছে যারা মূলত টেলিফোন অপারেটর হিসাবে কাজ করে থাকে এর মধ্যে সুন্দরী মিষ্টি কণ্ঠের নারীর সংখ্যাই বেশি।

রোগ নির্ণয়ের ওই প্রতিষ্ঠান ‘মাই সেবা’ মোটা অংকের কমিশন দিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের এজেন্ট করে। পরে তাদের মাধ্যমে রুগী সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পোস্টর, লিফলেটে মুখরোচক কথাবার্তা লিখেও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রচারিত বা প্রকাশিত মুখরোচক কথাবার্তা পড়ে একটু সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ডাক্তারদের এজেন্ট করে।

তাদের মাধ্যমে রুগী সংগ্রহ করে থাকে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, পোস্টর, লিফলেটে মুখরোচক কথাবার্তা লিখেও প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রচারিত বা প্রকাশিত মুখরোচক কথাবার্তা পড়ে একটু ভালো সেবা পেতে সাধারণ লোকজন যখন তাদের হট নাম্বারে ফোন দিয়ে সেবা চায়, তখন তাদের ভুলভাল বুঝিয়ে উন্নত চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা বলে থাকে। কিন্তু ডায়াগনস্টিক ল্যাবে সেবা না দিয়েতাদের বাসায় গিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়ার কথা বলে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম দ্বারা প্রতারণা করে থাকে ‘মাই সেবা’ নামের ওই জাপানি ভ্রাম্যমাণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এখানেই শেষ নয় সবে মাত্র মিলেছে বিন্দু এখনো কেন্দ্র বাকী।

এদিকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চিকিৎসকের অবহেলায় কোনও রোগীর মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে মামলা করা যাবে। এ বিধান রেখে বেসরকারি চিকিৎসাসেবা আইনের খসড়া প্রায় চূড়ান্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এ ক্ষেত্রে দোষী সাব্যস্ত হলে বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০৪(ক) ধারা অনুযায়ী অভিযুক্ত চিকিৎসককে দণ্ড দিতে পারবেন আদালত। এ ধারা অনুযায়ী পাঁচ বছর কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক। অনুমোদিত সার্টিফিকেট কোর্স বা ডিপ্লোমা ডিগ্রি ছাড়া অন্য কোনও যোগ্যতার বিবরণ ভিজিটিং কার্ডে বা সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা যাবে না। সব বেসরকারি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত শর্ত ও পদ্ধতিতে লাইসেন্স নিতে হবে। অন্যথায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হবে।

অবৈধ ভাবে ডাক্তার নিয়োগ ও বিদেশি ডাক্তার নিয়োগ নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান নীতিমালা না মেনে সরকারের কোনও অনুমোদন না নিয়ে বিদেশ থেকে ডাক্তার নিয়ে আসে। এটা চলতে পারে না। অনুমোদন ছাড়া কোনও ডাক্তার এখানে চাকরি বা চেম্বার করার জন্য অবস্থান করতে পারবেন না। যদি বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)’র অনুমোদন ছাড়া বাংলাদেশে অবস্থান ও চিকিৎসা প্রদানকারী বিদেশী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডিজি প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, খসড়া আইন ২০১৪ এর ৬ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে এ আইনের অধীন লাইসেন্স ছাড়া কোন ব্যক্তি চিকিৎসা পরিচালনা করতে পারবে না। চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। লাইসেন্স পেতে চাইলে কর্তৃপক্ষের কাছে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। লাইসেন্সের মেয়াদ হবে ৩ বছর। পরে আবার নবায়ন করা যাবে। দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ বা এনজিও চালিত হাসপাতাল বা ক্লিনিকে বিদেশী চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) থেকে এবং নার্স নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নার্স কাউন্সিল (বিএনসি) থেকে নিবন্ধিত হতে হবে এবং সরকারের পূর্বানুমতি নিতে হবে।

অবৈধভাবে গড়ে তোলা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, কারো বিরুদ্ধে যাতে দুদকের মামলা না হয়। এই মামলা ক্যান্সারের মতো। ক্যান্সার যেমন একটা মানুষকে ও তার পরিবারকেও শেষ করে দেয়, দুদকের মামলাও মানুষকে তার পরিবারসহ শেষ করে দেয়। এজন্য আমরা চাই আপনারা সতর্ক হন। দুর্নীতি যাতে না হয়, মামলা যাতে না হয়। যদি অবৈধভাবে কেউ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে দুর্নীতি করে তাহলে জেল-জরিমানা বাজেয়াপ্রাপ্ত করে হবে। পাশাপাশি তার সম্প্রতি বাজেয়াপ্রাপ্ত করা হবে।

বিদেশি প্রতিষ্ঠান নিয়ে ঢাকা শুল্ক মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষায় কমিশনার ড. মইনুল খান জানায়, যেসব বিদেশী শ্রমিক-কর্মকর্তা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া কোনও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন বা থাকবেন সেইসব প্রতিষ্ঠানের ওপর প্রদেয় আয়করের ৫০ শতাংশ বা ৫ লক্ষ টাকা ( যেটা বেশি) অতিরিক্ত কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদেশীদের নিয়োগ দিয়েছেন ওইসব প্রতিষ্ঠানের সব রকম কর সুবিধা প্রত্যাহার ও নিয়ম না মানলে তাদের জেল ও জরিমানাও বিধান রাখা হয়েছে। যারা অবৈধভাবে ব্যবসা করে আসছেন তাদের বিরুদ্ধে জেল-জরিমানা শাস্তি দ্বিগুণ করা হয়েছে।

মইনুল খান বলেন, নিয়মানুযায়ী বিনিয়োগ বোর্ড অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতিক্রমে যথাযথ নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশে কাজ করার কথা রয়েছে। তবে যদি কোন বিদেশি অনুমোদন ছাড়া বিনিয়োগ করে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। যদি বিদেশি নাগরিকের জরিমানা দেয়ার অর্থ না থাকে তাহলে সে দেশের নাগরিক সে দেশের সরকারের সঙ্গে কথা বলে নিলামের মাধ্যমে জরিমানা আদায় করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিদ্যমান আয়কর অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বাংলাদেশে কাজ করে এমন বিদেশী নাগরিককে তাদের যেকোনো পরিমাণ আয়ের উপর ৩০ শতাংশ হারে আয়কর দিতে হয়। একটানা তিন মাস বাংলাদেশে থাকলে বা এক বছরে ১৮০ দিন এ দেশে থাকলে তারা আয়করের আওতায় পড়বে। (পর্ব ১)

নিউজবিডি৭১/এম কে/এপ্রিল ২ , ২০১৮

Share.

Comments are closed.