১৭ই নভেম্বর, ২০১৮ ইং ঢাকায় অভিনব কায়দায় চোরাই গাড়ি বেচাকেনা
Mountain View

ঢাকায় অভিনব কায়দায় চোরাই গাড়ি বেচাকেনা

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
আসাদুজ্জামান লিটন : কেউ সংগ্রহ করেন পুড়ে যাওয়া ও নষ্ট হয়ে যাওয়া গাড়ির কাগজপত্র। কেউ ওই কাগজপত্রের সঙ্গে মিলিয়ে চুরি করেন নতুন গাড়ি। পরে চুরি করা ওই গাড়ি গ্যারেজে নিয়ে একজন পাল্টে দেন ইঞ্জিন-চেসিস নম্বর, তাতে লাগিয়ে দেন নষ্ট গাড়ির ইঞ্জিন-চেসিস নম্বর। এরপর সংগ্রহ করা নষ্ট গাড়ির কাগজপত্র দিয়ে বাজারজাত করেন চুরি হওয়া গাড়ি। দীর্ঘদিন ধরে এই অভিনব কায়দায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চোরাই গাড়ি সংগ্রহ করে বেচাকেনা করে আসছেন রাজধানী ঢাকার একটি চক্র।

রাজধানীর অভিজাত কিছু অসাধু গাড়ির গাড়ির শোরুম মালিক এর নির্দেশে আগুনে পোড়া, দুর্ঘটনায় নষ্ট বা চোরাই গাড়ির কিছু কাগজপত্র কৌশলে যোগাড় করতে বলা হয় তাদের নিজস্ব কিছু সক্রিয় চক্রকে। এরপর ওই চক্রটি নানা কৌশলে যোগাড় করে ফেলে এমন কিছু কাগজপত্র যা গাড়ির সঙ্গে মিলে যায় বা মিলানো হয় হুবহু।

প্রথমে ব্যবহার অযোগ্য গাড়ির কাগজপত্র সংগ্রহ করে ওই চক্রের একটি দল। যাদের সাথে যোগাযোগ রয়েছে বিআরটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারীর। এরপর কাগজের সাথে প্রায় মিলে যায় এমন গাড়ি চুরি করে চক্রের অন্য আর একটি দল।

তৃতীয় চক্রে আছে কিছু অভিজ্ঞ গ্যারেজ মিস্ত্রী। যাদের রাখা হয় শোরুম থেকে কিছুটা দূরে শোরুম মালিকের গোপনে গড়ে তোলা নিজেস্ব গ্যারেজে। ওই চক্রের মিস্ত্রীরা এতটাই অভিজ্ঞ যে তারা চোখের পলকেই গাড়ির রং, চেসীস নাম্বার পরিবর্তন করে ফেলে।

এর পর নির্দেশ অনুযায়ী কৌশলে যোগাড় করা ওই কাগজপত্রের আদলেই শুরু হয় গাড়ির রং, চেসীস নাম্বার, ইঞ্জিন নাম্বার সহ আনুষঙ্গিক সকল পরিবর্তনের কাজ। গাড়িটিকে প্রস্তুত করা হয় অন-টেষ্ট গাড়ি হিসেবে।জানা যায়, এ ধরনের চোরাই অন-টেষ্ট গাড়ি গুলোর রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছে বিআরটিএ। তাও আবার গাড়ি ছাড়াই।

বিস্বস্ত সূত্র অনুযায়ী জানা যায়, ঢাকার অভিজাত গাড়ির শোরুম এর মালিকগণ একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মদদ দিয়ে থকে। সদস্যদের সারা বছর লালন পালন করে। প্রয়োজন মতো তাদের দ্বারা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে চাহিদা অনুযায়ী গাড়ি বা গাড়ির কাগজপত্র চুরি করানো হয়। এরপর পুরাতন ও চোরাই-কৃত গাড়িটি নতুন সাজে সাজিয়ে আন রেজিস্টার্ড গাড়ি হিসেবে চড়া দামে বিক্রি করা হয় সমাজের সহজ সরল সাধারন ক্রেতাসাধারণের কাছে।

এ ভাবেই শহরের নামী দামী গাড়ির শোরুম গুলো বছরের পর বছর জেনে শুনে অধিক লাভের আশায় প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে চোরাই গাড়ি বিক্রি করছে নতুন গাড়ির দামে।

চোখ ধাঁধানো শোরুম এর মালিক ও বিআরটি এর পারস্পরিক যোগ সাযোগে আগুনে পোড়া গড়ি, দুর্ঘটনায় নষ্ট কিংবা চোরাই গাড়ি উৎকোচ এর বিনিময়ে পাচ্ছে নতুন রেজিস্ট্রেশন সহ যাবতীয় কাগজপত্র। যার পৃষ্ঠপোষকতায় বিআরটিএ।

জমকালো আলোক সজ্জায় সাজানো ওই ধরনের অভিজাত শোরুম এর কিছু অসাধু মালিক-পক্ষের নির্মম প্রতারণা থেকে রেহাই পেতে সখের গাড়ি কেনার সময় আরও সতর্কতা অবলম্বন করতে করা প্রয়োজন। (পর্ব ১)

নিউজবিডি৭১/আর/৩ মার্চ, ২০১৮

Share.

Comments are closed.