১৪ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং উত্তরায় চিকিৎসক এর সহযোগিতায় ব্যবসায়ীকে হত্যা : অভিযোগ পরিবারের
Mountain View

উত্তরায় চিকিৎসক এর সহযোগিতায় ব্যবসায়ীকে হত্যা : অভিযোগ পরিবারের

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
জুবায়ের হোসেন : ঢাকা মহানগর উত্তরার হাই-কেয়ার হসপিটালে মারপিটে আহত ব্যবসায়ীকে চিকিৎসক এর সহযোগিতায় হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে পরিবারের। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাতে।

জানাযায়,বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উত্তরার ১২নং সেক্টরের ৫নং রোডের ১১নং বাড়ীর ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান ৫নং সেক্টরের ৯সি রোডের ১০৯৮ নং বাড়ীর সিমিস টাচ তামান্না বিল্ডিং এর ৬ তলায় ভাড়াটিয়ার প্রবাসী স্ত্রীর সঙ্গে জমি ক্রয় সংক্রন্ত বিষয়ে দেখা করতে যায়। পরে রাত ১১ টা ৩০ মিঃ সময় বিল্ডিং এর লিপ্ট এর নিচে শব্দ পেয়ে এগিয়ে যায় দারোয়ান আমির শেখ। দেখতে পায় আহত অবস্থায় ব্যবসায়ী আতিকুর রহমানকে। তাকে উদ্ধার করে ১২টা ৩০ মিঃ সময় উত্তরার হাই কেয়ার হসপিটালে ভর্তি করা হয়। পরে ভোর ৫টার দিকে আহত ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান মারা যায়।এ বিষয়ে ঘটনা স্থলে থাকা দারোয়ান আমির শেখ জানান, সন্ধ্যার দিকে নতুন ভাড়াটিয়ার বাসায় আসে ব্যাবসায়ী আতিকুর রহমান। পরে রাতে সাড়ে ১১টার দিকে লিপ্ট এর ভিতর আহত অবস্থায় তাকে পাওয়া যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হসপিটালে নিয়ে যায় ভাড়াটিয়ারা এর বেশি কিছু আমি জানিনা।

এ বিষয়ে নিহত ব্যবসায়ী আতিকুর রহমানের ভাড়া বাড়ীর দারোয়ান শাহিন উদ্দিন জানায়,আতিকুর রহমানের স্ত্রী লায়জু আমাকে বলেছে আমার স্বামীকে মারপিট করা হয়েছে। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসা না দিয়ে তার মুখ বন্ধ করার জন্য বেসরকারী হসপিটালে ভর্তি করে তাকে মারা হয়েছে। পরে আমার স্বামীর লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে ।

এ বিষয়ে নিহত ব্যবসায়ী মাইসা ফ্যাশান স্টক লোড এর প্রেপাইটার আতিকুর রহমান (বাচ্চুর ) স্ত্রী জানায়,আমার স্বামী উত্তরায় প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী জমি ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে চন্ডাল ভোগ এলাকার জমির দালাল তালুর এর মাধ্যমে পরিচয় মহিলার সঙ্গে বায়নার ৬লাখ টাকা নিয়ে সন্ধ্যার দিকে ঐ বাসায় যায়। পরে রাত ১১টা ৩০মিঃ এর দিকে ঐ মহিলা তার লোকজন নিয়ে আমার স্বামীকে মারপিট করে লিপ্ট এর নিচে ফেলে দেয়। বিষটি জানাজানি হলে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উত্তরার হাই-কেয়ার হসপিটালে ভর্তি করে।

আমি খবর পেয়ে হসপিটালে গেলে আমার স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে চাইলে আমাকে দেখা করতে দেয় কিন্ত তার সাথে কোন কথা বলতে দেয়নি হসপিটাল কতৃপক্ষ। আমাকে কিছু বলতে চেয়েছিল তাকে কে মারপিট করেছে । আমি কর্তব্যরত চিকিৎককে আমার স্বামীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন আপনার স্বামী ভাল আছে কোন সমস্যা নেই। বিপুল পরিমান রক্ত খনন হচ্ছে বললে তিনি আরো বলেন এ গুলি কোন সমস্যা নয়। পরে ভোর ৫টা দিকে আমার স¦ামীর মৃত্যু হয়। কিন্ত আমাকে এ সংবাদ দেওয়া হয় সকাল ১০টার দিকে। আমার স্বামী বেচে থাকলে,গোপন তথ্য ফাসঁ হওয়ার ভয়ে হসপিটালের চিকিৎক এর সহযোগিতায় আমার স্বামীকে পরে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ বিষয়ে হাই কেয়ার হসপিটালের সহকারী ম্যানেজার হেলালউদ্দিন জানায়,আতিকুর রহমানকে আহত অবস্থায় আমাদের হাই কেয়ার হসপিটালে নিয়ে এলে আমরা তাকে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভর্তি করি। পরে ভোর ৫টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। তবে সে প্রচুর আহত অবস্থায় ভর্তি হয়েছিল।

এ বিষয়ে তুরাগ থানার ওসি তদন্ত জানায় খবর পেয়ে পুলিশ উত্তরার হাইকেয়ার হসপিটাল থেকে আতিকুরের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে তদন্ত চলছে।

এ বিষয়ে একাধীক এলাকাবাসী জানায়,একটি বেসরকারী হসপিটালে পুলিশ কেস এর রোগী কিভাবে ভর্তি করে এবং তার মৃত্যু হয়। হসপিটাল কর্তৃপক্ষের বিচার হওয়া উচিত।

নিউজবিডি৭১/আর/১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮

Share.

Comments are closed.