১৬ই আগস্ট, ২০১৮ ইং ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট
Mountain View

ব্যাংকে নগদ টাকার সংকট

0
image_pdfimage_print

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : প্রয়োজনে টাকা দেবে ব্যাংক। আর ব্যাংকেই যদি টাকা না থাকে, তবে গ্রাহক যাবে কোথায়? গ্রাহক বলতে বিশেষত শিল্পোদ্যোক্তারা আর আগের মতো ব্যাংকের ঋণ পাবেন না। কারণ, ব্যাংক নিজেই টাকার পেছনে ছুটছে। তারল্য সংকটের কারণে ব্যক্তির পুঁজির দিকেই আকৃষ্ট হয়ে নানাজনের কাছে ধরনা দিচ্ছে। কর্মকর্তাদের টার্গেট বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অফার করা হচ্ছে বাড়তি সুদও। ব্যাংকের আমানত সংগ্রহের টার্গেট পূরণ করতে না পারলে চাকরিও ঝুঁকিতে পড়তে পারে— এমন আতঙ্ক মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের। দেখা গেছে, একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে একাধিক ব্যাংকের কর্মকর্তারা আমানতের আবদার করছেন। ব্যাংকের আমানত সংগ্রহের এমন অবস্থা আগে কখনো দেখা যায়নি বলেও মন্তব্য করেছেন কোনো কোনো ব্যাংকার। তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অতিমাত্রায় ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। নিয়ম না মেনেও কোনো কোনো ব্যাংক বিপুল অঙ্কের ঋণ দিয়েছে- যা গোটা ব্যাংকিং খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, গত বছর আমানতের তুলনায় দেড়গুণের বেশি ঋণ বিতরণ করেছে ব্যাংকগুলো যা নগদ টাকার সংকট বাড়িয়েছে। এ সময়ে ৭২ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে এক লাখ ১২ হাজার কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়।

সূত্রমতে, সর্বশেষ মুদ্রানীতি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় ব্যাংক বেসরকারি খাতে ঋণের লাগাম টেনে ধরে। ফলে, ব্যাংকগুলো বাধ্যবাধকতার কারণেই ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কমিয়ে আনছে। আবার অনেক ব্যাংকই পর্যাপ্ত আমানত সংকটে ঋণের জোগান দিতে পারছে না। ওসব ব্যাংক বেশি হারে আমানত সংগ্রহে বেরিয়েছে। আমানত বাড়াতে না পারলে ঋণ দিতে পারবে না, যা ব্যাংকের ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত করবে। আমানত বাড়ালে ঋণ ও অগ্রিমের অনুপাত অনুসারে পরিমাণও বাড়বে।

সাম্প্রতিককালে গ্যাস—বিদ্যুত্সহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে বিনিয়োগে মন্দা যাচ্ছিল। এরমধ্যে ব্যাংকগুলো মেয়াদি ঋণের বিপরীতে স্বল্পমেয়াদি ঋণ, বৈদেশিক মুদ্রার কারবার ও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের মাধ্যমে মুনাফা করার কৌশল রপ্ত করেছে।

অর্থ জোগানের দায়িত্বও নিতে হচ্ছে

সম্প্রতি কয়েকটি ব্যাংকের অবস্থা নড়বড়ে হয়ে যাওয়ায় এসব ব্যাংকের ভবিষ্যত্ নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম ফারমার্স ব্যাংক। এটি আমানতকারীদের টাকাও ফেরত দিতে পারছে না। সরকারের করের টাকাও ঠিকমতো পরিশোধ করতে সক্ষম না হওয়ায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে যেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গ্যারান্টি থাকে, তাই আমানতকারীদের ভয়ের কারণ নেই। বিষয়টি নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলেও আলোচনা চলছে।

আজ এ সংক্রান্ত একটি বৈঠক অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এতে ফারমার্স ব্যাংকটিকে অর্থ জোগানের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কয়েকটি ব্যাংকের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এ ব্যাংকের তহবিল সংকট কাটানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন পেলে সোনালী, জনতা, অগ্রণী ব্যাংক আইসিবির মাধ্যমে প্রায় ১১শ’ কোটি টাকা তহবিল জোগান দেবে। এ ব্যাপারে অর্থমন্ত্রীও সায় দিয়েছেন।

উদ্বেগ উদ্যোক্তা মহলে

এদিকে, শিল্পোদ্যোক্তারা উদ্বেগে রয়েছেন। তাদের মতে, বর্তমানে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা শিল্পের জন্য অনুকূল নয়। যেখানে ব্যাংকগুলোই অর্থ সংকটে রয়েছে সেখানে শিল্পবিকাশে তারা ঋণ জোগাবে কীভাবে? তদুপরি, মুদ্রানীতিতে ঋণের লাগাম টেনে ধরায় বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমে যাবে। আবার সুদের হার বেড়ে যাওয়ায়ও বিনিয়োগ নিরুত্সাহিত হবে। বহু চেষ্টার পর সুদের হার সিঙ্গল ডিজিটে এসেছিল। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহীউদ্দিন বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণে সুদের হার নমনীয় হারে রাখা আবশ্যক।

ক্ষতিগ্রস্ত হবে শেয়ারবাজার

ব্যাংকে সুদের হার কম থাকলে আমানতকারীদের অনেকেই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন- এমনটি আশা করা হয়। কিন্তু আমানতের সুদের হার বেড়ে গেলে বিনিয়োগ ঝুঁকি না নিয়ে ব্যাংকেই টাকা জমা রাখতে আগ্রহী হবেন আমানতকারীরা যা বাজারের জন্য নেতিবাচক। অন্যদিকে, ঘোষিত মুদ্রানীতিও শেয়ারবাজারের জন্য ইতিবাচক নয় বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. আহসান এইচ মনসুর। তার মতে, ব্যাংকিং খাতে আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে গেছে। এ অবস্থায় ঘোষিত মুদ্রানীতির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয় বরং সুদের হার যেমন বাড়বে তেমনি বাড়বে মূল্যস্ফীতিও। তিনি বলেন, ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে একই হারে আমানতের প্রবৃদ্ধিও ঘটাতে হবে। তা কিন্তু হচ্ছে না। শেয়ারবাজারের জন্যও নতুন মুদ্রানীতিতে কোনো সুখবর নেই। কারণ, নতুন নীতি অনুযায়ী এক্সচেঞ্জ রেট বাড়বে যা শেয়ারবাজারের জন্য ভালো নয়। ইত্তেফাক

নিউজবিডি৭১/আর/১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

Share.

Comments are closed.