১৭ই ডিসেম্বর, ২০১৮ ইং ‘বাংলা ভাষার ভিত্তিতেই আমাদের স্বাধীনতা’
Mountain View

‘বাংলা ভাষার ভিত্তিতেই আমাদের স্বাধীনতা’

0
image_pdfimage_print

নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন শুরু হলো।‘বিশ্ব মানব হবি যদি কায়মনে বাঙালি হ’এই বাণী মনে ধারণ করে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া তিন দিনের এই সম্মেলন শনিবার বিকেলে ৪টায় একাডেমির ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মনে রাখতে হবে আমাদের শেকড় বাংলা। বাংলা ভাষাকে ভিত্তি করেই আমাদের স্বাধীনতা। আমাদের আত্মপরিচয়ের ঠিকানা। বাঙালিরা কারো কাছে মাথা নত করতে জানে না। কাজেই বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে আমাদের চলতে হবে।’

আজকে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাঙালির দৃষ্টিভঙ্গি ও অভিজ্ঞতা আদান-প্রদানের মাধ্যমে আমাদের জানার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমাদের সাহিত্য আরও গতিশীল ও সহজ হয়েছে। এই আয়োজন একদিকে নতুন সম্ভাবনাকে উম্মোচিত করবে অন্যদিকে নিজেদের সামর্থকে তুলে ধরবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি একজন সাধারণ মানুষ। যেহেতু আমার পিতা দেশ স্বাধীন করে গেছে, আমি সব সময় মনে করি আমার এই দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে হবে। যাতে বাঙালিরা বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে চলতে পারে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য সম্মেলনে বলেছিলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি যে জনগণই সব শিল্প সাহিত্যের উৎস। জনগণ থেকে বিচ্যুত হয়ে কোনদিন মহৎ সাহিত্য শিল্প তৈরি হতে পারে না। আমি সারা জীবন জনগণকে সাথে নিয়ে সংগ্রাম করেছি। ভবিষ্যতে যা কিছু করবো জনগণকে নিয়েই করবো।’

তিনি বলেন, ‘এটাই বাস্তবতা, যা কাজ সব জনগণের জন্য, জনগণের কল্যাণে, জনগণের মঙ্গলের জন্য। সেই দায়িত্বটাই পালন করার চেষ্টা করছি জাতির পিতার নির্দেশ অনুযায়ী। আমাদের এই ঋদ্ধ ভাষায় যারা সাহিত্য চর্চা করছেন তাদের একত্রিত করার উদ্যোগের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যখন জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিয়েছেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে আমি সরকার গঠন করার পরে যতবার জাতিসংঘে ভাষণ দিয়েছি, প্রতিবারই বাংলায় ভাষণ দিয়েছি। আমি গর্ববোধ করি বাংলায় ভাষণ দিতে। এটা ঠিক যুগের পরিবর্তন হয়েছে। নতুন নতুন প্রযুক্তি আসছে। সভ্যতার চাপে মাতৃভাষা হারিয়ে যাক এটা আমরা কখনো চাই না। আজকের এই সাহিত্য সম্মেলন ভাষা সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষকে আরও সচেতন করবে।’

সম্মেলনে দুই বাংলার তিন শতাধিক সাহিত্যিক অংশ নেবেন। নিখিল ভারত বঙ্গ সাহিত্য সম্মেলন ও ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় সম্মেলনের আয়োজন করছে আন্তর্জাতিক বাংলা সাহিত্য সম্মেলন পরিষদ। সোমবার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি।

সম্মেলনে বিষয়ভিত্তিক সেমিনারের সঙ্গে দুটি মঞ্চনাটক ও সঙ্গীত, গল্প ও কবিতাপাঠ, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী ও আবৃত্তি অনুষ্ঠান রয়েছে। বিভিন্ন ভাষায় প্রকাশিত বই ও লিটল ম্যাগাজিনের বিক্রয়, প্রদর্শনীর ব্যবস্থাও থাকছে।

শনিবার বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে প্রথম দিনের আয়োজন। একাডেমির বহিরাঙ্গণে প্রদর্শিত হবে দুই চলচ্চিত্র ‘সূর্যদীঘল বাড়ি’ ও ‘পদ্মা নদীর মাঝি’।

আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে ম্যাড থেয়েটারের নাটক ‘নদ্দিউ নতিম’। এ ছাড়া সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ও ভারতের কবি-সাহিত্যিকদের প্রীতি সম্মেলন। সন্ধ্যা ৬টায় কবি শামসুর রাহমান সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে ‘বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলা সাহিত্যের সমকালীন ছোটগল্প’ শীর্ষক আলোচনা। এ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেবেন পশ্চিমবঙ্গের বিখ্যাত সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার।

দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলা সাহিত্যে দেশ ভাগের অভিঘাত’, ‘সাহিত্য ও চলচ্চিত্র’,‘বাংলা সংবাদ ও সাময়িকপত্রের ২০০ বছর’ ও ‘সাম্প্রতিক বাংলা উপন্যাসের গতি ও গন্তব্য’ শীর্ষক চারটি সেমিনার। একই দিন বিকেলে রবীন্দ্র চত্বরে কবিতাপাঠের সঙ্গে আবহমান বাংলা গানের সুরে শ্রোতা-দর্শকদের হৃদয় রাঙাবেন দুই দেশের কবি-শিল্পীরা।

সম্মেলনের শেষ দিনে রয়েছে তিনটি সেমিনার-‘ভাষা আন্দোলন ও বাঙালি জাতিসত্তা’, ‘অনুবাদের সাহিত্য, সাহিত্যের অনুবাদ’ও‘প্রযুক্তির বিশ্বে সাহিত্যের সংকট ও সম্ভাবনা’। ওইদিন বিকেলে সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ও ভারতের বরেণ্য চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরী।

সভাপতিত্ব করবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

নিউজবিডি৭১/আর/ ১৩ জানুয়ারি ২০১৮

Share.

Comments are closed.