‘উত্তরায় সড়ক ও ফুটপাত হকারদের দখলে’ রাজউকের লাখ লাখ টাকা উত্তোলন

নিউজবিডি৭১ডটকম
বি এম জুবায়ের হোসেন : আঁখি সাহা ডায়াবেটিক রোগী। খুব ভোরে ঘুম ভাঙে না বলে বিকেলেই হাঁটেন তিনি। কিন্তু নির্বিঘ্নে হাঁটার জো নেই। আঁখি বলছিলেন,‘হকারদের জ্বালায় নির্বিঘ্নে হাঁটাহাঁটি করতে পারি না। যদিও সিটি করপোরেশন ফুটপাতগুলোতে টাইলস লাগিয়ে পথচারী চলাচলের সুন্দর ব্যবস্থা করে দিয়েছে।’

রাজধানী উত্তরার এয়ারপোর্ট থেকে শুরু করে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত প্রতিটি সড়ক ও ফুটপাত দখলের এমন অভিযোগ আরো বহু মানুষের।

জানা গেছে, প্রায় পাঁচ হাজার হকার নগরের বিভিন্ন সড়কের ফুটপাত দখলের প্রতিযোগিতা নেমেছে। এ কারণে যানজটের পাশাপাশি জনজটেরও সৃষ্টি হচ্ছে। মাঝেমধ্যে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের হকার উচ্ছেদ অভিযান অনেকটা ইঁদুর-বিড়াল খেলার মতো হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হকারদের কাছ থেকে প্রতিদিন পাঁচ লাখ টাকা চাঁদাবাজিই এই ইঁদুর-বিড়াল খেলার অন্যতম কারণ। এর সঙ্গে জড়িত পুলিশ প্রশাসনের কিছু সদস্য, স্থানীয় হকার্স লীগের নেতারা , সিটি করপোরেশনের ও রাজুকের কতিপয় কর্মচারী।

এ বিষয়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,এয়ারপোর্ট হাজীক্যাম্প, জসিমউদ্দিন,রাজলক্ষী,আজমপুর,হাউজ বিল্ডিং ও আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত সড়কে ও ফুটপাতে প্রায় ২ হাজার অস্থায়ী দোকান রয়েছে। প্রতিটি দোকান থেকে ৪/৫শতটাকা রাজুকের সহযোগিতায় আদায় করা হয়।

এ বিষয়ে প্রতিবেদক অবৈধ দোকান মালিকদের কাছে রাজউক এর বাধা বা ভ্রাম্যমান আদালতের কথা বলতেই একাধীক সড়ক ও ফুটপাতের দোকান মালিকরা জানান,আমরা প্রতিদিন ৪/৫শতটাকা দিয়ে থাকি ভয়ের কিছু নেই। উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ার আগেই রাজউক অফিস এর লোক পরিচয় দিয়ে আমাদের জানিয়ে দেয়। তখন আমরা ঐ দিন দোকান বসিয়ে ব্যাবসা করিনা বন্ধ রাখি।

ফুটপাতের জায়গা দখল করে রাজউকের লাখ লাখ টাকা উত্তোলন বিষয়ে ১ থেকে ১৪নং সেক্টর দায়িত্বরত সুপার ভাইজার মোঃ মান্নান ও আওয়াল এর সঙ্গে যোগায়োগ করা হলে সুঃ মান্নান সাংবাদিক পরিচয় পাওয়া মাত্র রাজনৈতিক নেতাদের কথা বলতে থাকেন। তবে প্রতিবেদক আওয়ালকে মোবাইল ফোন দিলে তিনি তার ব্যাবহারিত মোবাইল রিসিভ করে কথা না বলে রেখে দেন।

এ বিষয়ে রাজউকের দায়িত্বরত সহকারী-ইঞ্জিনিয়র সোরাফ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি মিটিং এর আছি বলে ফোনটি কেটে দেন। (চলমান পর্ব ১)

নিউজবিডি৭১/আর/ ১০ জানুয়ারি ২০১৮