২২শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং ভারতের আসামে ২০ হাজার লোককে বিদেশী ঘোষণা
Mountain View

ভারতের আসামে ২০ হাজার লোককে বিদেশী ঘোষণা

0
image_pdfimage_print

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : নাগরিক নিবন্ধন নিয়ে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নাগরিকত্বের ‘সন্দেহজনক’ (ডি-ভোটার) তালিকায় থাকা প্রায় ২০ হাজার মানুষকে এরই মধ্যে ‘বিদেশী’ঘোষণা করেছে আসাম। ২০১৭ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত রাজ্যের ‘ফরেনার ট্রাইব্যুনাল’ঘোষিত বিভিন্ন রায়ে সন্দেহজনক ওই নাগরিকেরা বিদেশী হিসেবে শনাক্ত হন। কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজু এ খবর জানিয়েছেন।

২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) তালিকার প্রথম খসড়া প্রকাশ করে আসামের রাজ্যসরকার। প্রকাশিত খসড়া তালিকায় স্থান হয়নি প্রায় এক কোটি ৩৯ লাখ বাসিন্দার। যাচাই-বাছাই শেষে তাদের নাম পরবর্তী ধাপের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে রাজ্যসরকার। এরই মধ্যে মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) লোকসভায় এক প্রশ্নের জবাবে কিরেন রিজিজু জানান, ২০১৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত আসামের ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল ১৯ হাজার ৬১২ জন সন্দেহজনক ভোটারকে বিদেশী ঘোষণা করেছে।

আসামের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৭ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় আসামের তিন লাখ বাসিন্দা সন্দেহজনক নাগরিক কিংবা ডি-ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হন। যাচাই-বাছাইয়ের সময় ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে না পারা বাসিন্দাদেরই ‘ডি’ ভোটার হিসেবে শনাক্ত করা হয়।

২০১১ সালে ‘ডি’ ভোটারদের ‘ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল অর্ডার ১৯৬৪’ এর আওতায় স্থাপিত ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের বিচারের আওতায় স্থানান্তরের আদেশ দেয় গৌহাটি হাইকোর্ট। এরপর থেকে আইনি প্রক্রিয়ায় সন্দেহজনক নাগরিকদের মধ্য থেকে কাউকে বিদেশী হিসেবে শনাক্ত করার এখতিয়ারটি ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালের। এখন জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) তালিকার দ্বিতীয় খসড়া প্রকাশের জন্য যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে।

তবে ইতোমধ্যেই বিদেশী হিসেবে শনাক্ত হওয়া এসব মানুষের আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া আর তালিকায় নাম আসার সুযোগ নেই। যেসব মানুষকে ফরেনার ট্রাইব্যুনালে বিদেশী ঘোষণা করা হবে তাদের জন্য একমাত্র উপায় হবে হাইকোর্ট কিংবা সুপ্রিম কোর্টের শরণাপন্ন হওয়া। কেবল ওই দুই বিচারিক প্রতিষ্ঠানেরই ফরেনার ট্রাইব্যুনালের রায় পরিবর্তন করার এখতিয়ার আছে।

সুনির্দিষ্টসংখ্যক বাসিন্দাকে বিদেশী ঘোষণার সিদ্ধান্ত হয়রানিমূলক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কি না, লোকসভায় ওঠা এমন এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী রিজিজু দাবি করেন, ‘ডি’ ভোটারদের (সন্দেহজনক ভোটার) কাছে নোটিশ পাঠানো একটি আইনি প্রক্রিয়া।

উদ্দেশ্যমূলকভাবে হয়রানির অভিযোগ নাকচ করে তিনি জানান, ‘ডি’ ভোটারদের আটক করা হয় না। আটকের প্রশ্নটি কেবল বিদেশী হিসেবে শনাক্তদের েেত্র প্রযোজ্য। কিরেন রিজিজু জানান, ভোটার নিবন্ধনকারী কর্মকর্তারা যদি এই ধরনের মামলাগুলো ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আগে রেফারেন্সের জন্য যথাযথ কর্তৃপরে (নির্দিষ্ট ওই জেলার পুলিশ সুপার) কাছে সেগুলো পাঠাতে হয়।

তিনি বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের বিচার/ আদেশ অনুযায়ী যদি কারো ভারতীয় নাগরিকত্ব নিশ্চিত হয়, তবে ‘ডি’ ভোটার তালিকা থেকে তার নাম বাদ যায়। আবার আদালতে সেই ব্যক্তি যদি ভারতীয় নাগরিকত্ব নিশ্চিত না করতে পারেন, তবে তার নাম ভোটার তালিকা থেকে মুছে ফেলা হয়।’

‘সন্দেহজনক নাগরিক’ হিসেবে কাউকে পর্যায়ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের কারণে ১৯৭১ সালের আগে ও পরে পূর্ব পাকিস্তান এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া হিন্দুদের ওপর বেশি প্রভাব পড়েছে।

সর্বোচ্চ আদালত এবং গৌহাটি হাইকোর্টে নাগরিকতা যাচাইসংক্রান্ত মামলাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একজন আইনজীবী আমান ওয়াদুদ। তিনি বলেন, ‘বিদেশী ঘোষিত এসব মানুষকে আটক ও বিতাড়নের জন্য পুলিশ এখন খুঁজতে পারে। তবে তারা বাংলাদেশী নন। আর তাই বাংলাদেশ কখনো তাদের গ্রহণ করবে না। -নিউজ এইট্টিন

নিউজবিডি৭১/আর/৫ জানুয়ারি ২০১৮

Share.

Comments are closed.