১৮ই জানুয়ারি, ২০১৮ ইং নরসিংদীর এসিল্যান্ড অফিসে ঘুষ বাণিজ্য , নিরব কর্তৃপক্ষ
Mountain View

নরসিংদীর এসিল্যান্ড অফিসে ঘুষ বাণিজ্য , নিরব কর্তৃপক্ষ

0

নিউজবিডি৭১ডটকম
সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী : নরসিংদী সদর উপজেলার এসিল্যান্ড অফিসে চলছে রমরমা ঘুষ বাণিজ্য। কর্মকর্তা-কর্মচারি এবং দালালদের সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। এখানে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। রাজনৈতিক পরিচয় দিলে কাজ অল্প দিনেই হয়। তবে মিষ্টি খাওয়ার নামে ঘুষ দিতে হবেই।

ঘুষ বাণিজ্যের কথা স্বীকার না করলেও দালালদের উৎপাত আছে বলে জানালেন
সহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ দালালদের দিয়ে কাজ করায়। আমরা কী করতে পারি? ব্যক্তিগতভাবে তিনি দালালদের কাছে ঘেঁষতে দেন না বলে জানান। তবে তার কথার সঙ্গে কাজের মিল পাওয়া গেল না।

গত বৃহসপ্রতিবার দুপুর ১২ টায় গিয়ে দেখা যায়, এই কর্মকর্তার রুমে বসে আছেন কয়েকজন। একটু পরেই দেখা গেল বাহিরের চায়ের দোকানে তাদের একজন ‘দর কষাকষি’ করছেন। বুঝতে বাকি থাকে না ভূমি কর্মকর্তার অফিসে বসে থাকা সেই লোকটি আসলে দালাল। পরে ফের সহকারী কর্মকর্তার কাছে গেলে তিনি জানান, আমার কাছে অনেক লোকজন আসে। কে দালাল আর কে দালাল না বুঝবো কেমনে? তবে আমার এখানে দালাল কম আসে। এসিল্যান্ড অফিসের কর্মকর্তাদের কাছে সাধারণ
মানুষ জিম্মি। এসিল্যান্ড অফিসে গিয়ে তারা অসহায় হয়ে পড়েন। অনেকে দালালদের দিয়ে কাজ করিয়েছেন। অনেকে আবার টাকা দিয়ে প্রতারিতও হয়েছেন। দালাল টাকা নিয়েছে ঠিকই, তবে কাজ করে দেয়নি। সেখানে কথা বলে নানা হয়রানির কথা জানা গেল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জমির নামজারি করতে এসেছেন তিনি। জানালেন, আমার ১৫ শতক জমি খারিজ করতে হবে। এক দালালকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি। কোনো কাজ করে দেয়নি ওই দালাল। আজ-কাল করে খালি ঘুরায়। এই বয়সে এতো কষ্ট করে এসে বসে থাকি কিন্তু পাষাণের মন গলে না। কার কাছে বিচার দেব, জানি না। এই ভূমি অফিসে জমির ক্রেতা-বিক্রেতাদের কাছে অনিয়মের নানা অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নাম প্রস্তাব, সার্ভে রিপোর্ট, নামজারি, ডিসিআর সংগ্রহ, মিস কেস ও খাজনা দাখিল থেকে শুরু করে সবকিছুতেই এখন ঘুষের কারবার। জমির দামের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ঘুষ লেনদেন কার্যক্রম। এখানে দালালদের সিন্ডিকেট অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বৈধ কাজে গিয়েও প্রকৃত মালিকদের নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। অসাধু সিন্ডিকেটকে ‘ম্যানেজ’ করে খারিজ পার করতে হয়। জমির মালিকরা টাকা দিয়েও জমি খারিজ করতে গিয়ে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অফিসের দালাল ও উমেদারের উৎ্ধসঢ়;পাত বেশি। সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। তবে টাকা দিলে তদন্ত প্রতিবেদন, সার্ভে রিপোর্ট আর নামজারি খতিয়ানের অবৈধ কাগজ বের করা কোনো ব্যাপারই না।

নরসিংদী ভূমি অফিসে একজন দালাল বলেন, টাকা খরচ করলে যে কোনো জমির দলিল
নিজের নামে করা সম্ভব। নরসিংদীর জমির দাম দ্রুত বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে জমি সংক্রান্ত ঝামেলাও। অনুসন্ধানে জানা যায়, খাস জমি, একজনের জমি অন্যের নামে নামজারি করে দেয়াসহ নানা অনিয়ম হয় এই ভূমি অফিসে। সেখানকার উমেদাররা সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো বেতন পান না। জমির মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ঘুষের টাকা থেকে তারা ভাগ পান। এই ভূমি অফিসে প্রতি মাসে কম করে হলেও এক হাজার নামজারি হয়। এ কাজে ডিসিআর (ডুপ্লিকেট কার্বন রিসিপ্ট বা রশিদ) বাবদ এক হাজার ১৫০ টাকা ফি আদায়ের বিধান রয়েছে। তবে নেয়া হয় পাঁচ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। কেবল এ বাবদই এই অফিসের সিন্ডিকেট প্রতি মাসে হাতিয়ে নেয় ৪০ লাখ থেকে এক কোটি টাকা। কম ঘুষ দিলে বেশি ঘোরাঘুরি, আর ঘুষের পরিমাণ বেশি হলে কাজ হয় তাড়াতাড়ি।

নিউজবিডি৭১/আর/১৮ ডিসেম্বর , ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.