২৪শে সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং জিডি করার নিয়মাবলী
Mountain View

জিডি করার নিয়মাবলী

0
image_pdfimage_print

সাধারণত যেসব ক্ষেত্রে মামলা হয় না সেসব ক্ষেত্রেই থানায় জিডি করা যায়।আইনগত সহায়তা পাওয়ার জন্য জিডি অনেক সময় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অনেক সময় আদালতেও জিডিকে সাক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। জিডি করার অর্থ হলো সমস্যার বিষয়ে থানাকে অবগত করা। যাতে পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে। বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থানায় জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করার প্রয়োজন হয়।

জিডি করার পর পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে থাকে। প্রয়োজনবোধে তদন্ত করা, নিরাপত্তা দেয়া ছাড়াও জিডির বিষয়টি মামলাযোগ্য হলে পুলিশ মামলা করে থাকে। কিন্তু এ সম্পর্কে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা না থাকায় থানায় জিডি করতে গিয়ে অনেকেই নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। জিডি বা জেনারেল ডায়েরিকে বাংলা করলে দাঁড়ায় কোনো বিষয়ে সাধারণ বিবরণ। এই আইনি সহায়তা পেতে আপনার সমস্যার বিবরণ লিখিতভাবে থানায় জমা দিতে হবে। যে কোনো ব্যক্তি থানায় এটি করতে পারবেন।

যেসব কারণে একজন ব্যক্তি জিডি করতে পারবেন:
বিভিন্ন কারণে জিডি করা হয়। যেমন ১. কেউ ভয় দেখালে বা হুমকি দিলে বা অন্য কোন কারণে যদি আপনি নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন; ২.  কোনো ব্যক্তি বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা থাকলে কিংবা কোন ধরনের অপরাধের আশঙ্কা থাকলে; ৩. কেউ কারো সম্পদের ক্ষতি করলে বা প্রাণনাশের হুমকি দিলে; ৪. আপনি যদি খারাপ কোনো কিছু আশঙ্কা করেন, যেমন কেউ আপনার
ওপর হামলা করতে পারে বা ক্ষতি করতে পারে; তাহলে জিডি করা হলে ওই ঘটনার পর দোষী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সহজ হয়। ৫. কোন রকমের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা যদি থাকে তা হলে থানায় লিখিত আকারে জানালে পুলিশ এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে পারে। ৬. কেউ হারিয়ে অথবা বাসার কেউ নিখোঁজ হলে বা পালিয়ে গেলে; ৭. কোনো প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, জাতীয়
পরিচয়পত্র,পরিচয়পত্র, অন্যান্য দরকারী নথি, পাসপোর্ট, চেকবই, লাইসেন্স, মূল্যবান রশিদ, স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ, গুরুত্বপূর্ন কোন সার্টিফিকেট,  এটিএম বা ক্রেডিট কাড,  মোবাইল ফোনের সিম, জমির দলিল, অন্যান্য দলিল প্রভৃতি হারিয়ে গেলে; হারানো জিনিস খুঁজে পেতেও আপনার জিডি সহায়ক হয়ে ওঠে পুলিশের জন্য। আইনি সহায়তার জন্য জিডি খুবই কার্যকর একটি পদক্ষেপ। ঐ সব কাগজপত্র পুনরায় তুলতে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হারানো সংবাদের জিডি চেয়ে থাকে, তাই ঐসব ক্ষেত্রে হারানো সংবাদের জিডি করে সেই জিডি নম্বরসহ কর্তৃপক্ষরে কাছে আবেদন করতে হয়।

 আপনি কোথায় এবং কীভাবে জিডি করবেন:
জিডি করার ক্ষেত্রে সাধারণত নিজের এলাকার থানাকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। তবে ঘটনা ঘটেছে বা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে এক থানায় আর জিডি করছেন অন্য থানায়, এমনটি হওয়া উচিত নয়। কেননা এতে আইনি সহায়তা নিতে ঝামেলা হয়। জিডি ও মামলা করার ক্ষেত্রে ঘটনাস্থলকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়। অর্থাৎ যে এলাকায় ঘটনা ঘটেছে বা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে, সে এলাকার থানাতেই জিডি করা উচিত।

জিডিতে কী কী উল্লেখ করতে হবে:
জিডি করতে হলে প্রথমে একটি সাদা কাগজে দরখাস্ত লিখতে হবে। এ দরখাস্তের সাধারণ দরখাস্তের মতোই। ১. দরখাস্ত করতে হবে সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর। নিচে থাকবে থানা ও জেলার নাম। ২. বিষয় হিসেবে উল্লেখ করতে হবে যে ব্যাপারে জিডি করতে চান তার নাম। দরখাস্তের মূল বা ভেতরের অংশে কী কারণে জিডি করবেন তা বিস্তারিত বর্ণনা করতে হবে। ৩. অপরাধ হবার আশঙ্কা থাকলে অবশ্যই আপনাকে আশঙ্কার কারণ, যার জন্য আপনি আতঙ্কিত তার নাম, ঠিকানা, হুমকির স্থান, তারিখ উল্লেখ করতে হবে। ৪. হুমকি দিলে হুমকি দাতার নাম, স্থান,
সাক্ষী, পূর্ন ঠিকানা উল্লেখ করতে হবে। এক্ষেত্রে ঘটনার তারিখ, সময় ও স্থান উল্লেখ করা খুবই জরুরি। ৫. কিছু হারিয়ে গেলেও সেটার বিস্তারিত বিবরণ এবং পারলে তার কোনো নমুনা, যেমন ছবি দরখাস্তের সঙ্গে সংযুক্ত করবেন। ৬. ডায়েরী নথিভুক্ত করে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ কারার জন্য আবেদন করতে হবে। ৭. যদি কোনো বিষয়ে এখনই কোনো মামলা না করতে চান, তাহলে জিডিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে দিতে হবে যে এ বিষয়ে আপাতত কোনো মামলা করবেন না। তবে মনে রাখবেন, পুলিশ যদি মনে করে যে কোনো মারাত্মক অপরাধ ঘটছে, তাহলে
জিডি থেকেও মামলা হতে পারে। ৮.দরখাস্ত সর্বশেষে জিডির আবেদনকারীর নাম, পিতা- মাতার নাম, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা প্রয়োজনে ফোন নম্বর উল্লেখ করতে হবে। ৯. জিডির ০২টি কপি করে স্বাক্ষর দিয়ে জিডির কপি থানায় ডিউটি অফিসারের নিকট জমা
দিতে হবে। ডিউটি অফিসার থানায় নির্দিষ্ট নথিতে জিডিটি তালিকাভুক্ত করে জিডির কপিতে সিল, স্বাক্ষর, তারিখ ও জিডি নম্বরসহ এক কপি আবেদনকারীকে দেবেন। পুরো প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত জিডি গণ্য হবে না। জিডি করতে আপনি কার সহায়তা নিবেন:

অভিযোগকারী নিজে জিডি লিখতে পারেন, আবার প্রয়োজনে থানার কর্মকর্তাও লিখে দিয়ে থাকেন। জিডি করতে যে কোনো পরামর্শের জন্য থানার সার্ভিস ডেলিভারি অফিসারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। আপনি যদি লিখতে না পারেন, তবে তাঁকে লিখে দিতে অনুরোধ করুন এবং এজন্য কোনো অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

আপনার জিডি কে নখিভুক্ত করবে:
থানার ডিউটি অফিসার জিডি নথিভুক্ত করেন। এক্ষেত্রে তিনি একটি ডায়েরীতে জিডির নম্বরসহ বিভিন্ন তথ্য লিপিবদ্ধ করেন। জিডির দুটি কপি করা হয়। একটি থানায় সংরক্ষণ করা হয় এবং অন্যটিতে জিডির নম্বর লিখে প্রয়োজনীয় স্বাক্ষর ও সীলমোহর দেয়া হয়। এটি ভবিষ্যতের জন্য আপনি নিজের জন্য সংরক্ষণ করবেন। প্রতিটি জিডির বিপরীতে একটি নম্বর দেয়া হয়, ফলে কোন অবৈধ প্রক্রিয়া মাধ্যমে কেউ আগের তারিখ দেখিয়ে জিডি করতে পারেন না। জিডি হওয়ার পর ডিউটি অফিসার জিডির অনুলিপি থানার অফিসার ইনচার্জ-এর কাছে পাঠাবেন। জিডিটি যদি আমলযোগ্য
অপরাধ সংঘটন বিষয়ে হয়, তবে থানা কর্তৃপক্ষ সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিয়ে অপরাধটি প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেবে এবং কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তা
আবদেনকারীকে অবহিত করবে।

আপনি কখন অনলাইনে জিডি করবেন:
আপনার যদি তাৎক্ষণিক পুলিশকে প্রয়োজন না হয় বা আপনার যদি থানায় যেতে কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকে তাহলে অনলাইনেও জিডি করতে পারবেন। পুলিশের তাৎক্ষণিক সাড়া দেবার প্রয়োজন নেই এমন ক্ষেত্রে যেমন পাসপোর্ট হারানো, ইভটিচিং, বখাটে বা মাদক সেবীদের সম্পর্কে তথ্য প্রদান বা এজাতীয় ক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করা যেতে পারেন বা সরাসরি পুলিশ সদরদপ্তরে ফ্যাক্স বা ই-মেইল করতে পারেন। এক্ষেত্রে অনলাইনে জিডি করার পর ই-মেইল বা মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জিডি নম্বরটি জিডিকারীকে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ পদ্ধতিতে দেশের বাইরে থেকেও জিডি করা সম্ভব। ইমেইল করার ঠিকানা: bangladesh@police.gov.com,
ফ্যাক্স: 9558818 । অনলাইনে জিডি করার জন্য  http://www.police.gov.bd সাইটে
গিয়ে ‘Citizens help request’–এ ক্লিক করতে হবে।
জনসচেতনায়- মোঃ সাব্বির রহমান, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত), বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

একটি নমুনা জিডির কপি

তারিখঃ ১২/১২/২০১৭ খ্রিঃ

বরাবর
অফিসার ইনচার্জ
বাঞ্ছারামপুর থানা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
বিষয় : সাধারণ ডায়েরি করার আবেদন।
জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, আমি নিম্ন স্বাক্ষরকারী মোঃ সাব্বির, বয়স-২৭, পিতা-শহিদুর রহমান, সাং-থানাপাড়া, থানা-কুষ্টিয়া, জেলা-কুষ্টিয়া এই মর্মে সাধারণ ডাইরী করার আবেদন করছি যে, গত ১১/১২/২০১৭ খ্রিঃ তারিখ সকাল ১০.১০ ঘটিকার সময় উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর থেকে  আমার নিম্নবর্ণিত জাতীয়পরিচয়পত্রটি হারিয়ে গেছে। হারিয়ে যাওয়া জাতীয় পরিচয়পত্রের বর্ণনা : জাতীয়পরিচয়পত্র নং০১৯৯৮২৭৩৬৫৬.
অতত্র, মহোদয় বিষয়টি সাধারণ ডায়েরিভুক্ত করার অনুরোধ করছি।
বিনীত
(মোঃ সাব্বির)
মোবাইল-০১৬১৫৬৮৫৭৪

আর/১২ ডিসেম্বর , ২০১৭

Share.

Comments are closed.