মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আজও সৃষ্টি হয়নি বৃহৎ কোনো শিল্প

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : স্বাধীনতা যুদ্ধের বৈপ্লবিক চেতনার স্পর্শে এক অপরিমেয় সম্ভাবনায় উজ্জীবিত হয়ে ওঠে বাংলাদেশের শিল্পমাধ্যম। দেশ ও সমাজের অঙ্গীকারে সোচ্চার হয়ে নতুন ধারার সূচনা করেন লেখক, শিল্পী আর নির্মাতারা। তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, অপরিসীম ত্যাগের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আজও সৃষ্টি হয়নি বৃহৎ ব্যঞ্জনার কোনো শিল্প।

এ বদ্বীপভূমির মানুষ ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়ে নিয়ত তৈরি করেছে স্বপ্নের বাস্তবায়ন। পেছনে ফেলে আসতে হয়েছে যুদ্ধের রক্তাক্ত অভিজ্ঞতা। অতিক্রান্ত সেই সময় শেষে লেখক, শিল্পীদের সৃজন ভাবনায় এসেছে শানিত চেতনা। মুক্তিযুদ্ধের অনুষঙ্গ উপজীব্য করে সৃষ্টি হয়েছে গান, কবিতা, উপন্যাস ও চলচ্চিত্র। তবে প্রত্যাশাকে তা কতটা পূরণ করতে পারল?

ভাষা সৈনিক আহমদ রফিক বলেন, এতবড় একটা মুক্তিযুদ্ধ এত রক্ত এত মৃত্যু এত নারী নির্যাতন এগুলোর প্রেক্ষিতে একটা মহৎ উপন্যাস তৈরি হয়নি। এই উদাসীনতা বাংলাদেশের সাহিত্যিকদের মধ্যে আছে।

কাব্য ধারায় সবচেয়ে বেশি এসেছে মুক্তিযুদ্ধের পঙক্তি। কবিতায় কবিতায় স্বদেশ এবং জীবনলগ্নতার বহিঃপ্রকাশ ঘটতে থাকে শব্দবন্ধে। মুক্তিযুদ্ধ রঙ, রূপ, রেখায় এসেছে স্বাভাবিক ভাবে। নাটক কিংবা ছোটগল্প নিয়ম মেনেই। ইট-সিমেন্ট-ধাতব পদার্থ হয়ে উঠেছে স্মৃতি আর চেতনায় সিক্ত।

সেলুলয়েডের রঙ্গিন ফিতা ও ক্যামেরায় একাত্তরের উত্তাল তরঙ্গ ধরা দিয়েছে যৎসামান্যই। সরকারি অনুদান ব্যতীত সাহসী সৃজন ভাবনা পাওয়া যায়নি খুব একটা।

মুক্তিযোদ্ধা ও নির্মাতা বলেন নাসির উদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে হাত দেয়া উচিত। নতুন প্রজন্মের হাতে পুনর্জন্ম ঘটে মুক্তিযুদ্ধের।

সৃজনশীল মানুষের যূথবদ্ধ ভাবনায়, রচনায় উজ্জ্বল হয়ে উঠবে মুক্তিযুদ্ধ, অতীত এবং বর্তমান মিলবে একই মোহনায়। বাঙালি জাতির আপোষহীন সত্তা সহজেই শনাক্তযোগ্য হয়ে উঠবে শিল্প সাধনায়। এটাই প্রত্যাশা।

নিউজবিডি৭১/আর/৯ ডিসেম্বর , ২০১৭