১১ই ডিসেম্বর, ২০১৭ ইং আজ স্বৈরাচার পতন দিবস

আজ স্বৈরাচার পতন দিবস

0

ডেস্ক রিপোর্ট
নিউজবিডি৭১ডটকম
ঢাকা : আজ ৬ ডিসেম্বর, স্বৈরাচার পতন দিবস। ১৯৯০ সালের ৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনতার প্রতিবাদ, প্রতিরোধ আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মুখে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন ঘটে।

এই দিনে, ১৯৯০ সালে গণ-আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেন তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। তিনি এই দিনে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। মুক্তি পায় গণতন্ত্র।

১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ সামরিক আইন জারির মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেন।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটের টানা কর্মসূচি, একপর্যায়ে সারা দেশে এরশাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং এরশাদ সরকারের পতন ঘটে। ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

এরশাদের প্রায় নয় বছরের শাসনামলেই দেশে দুর্নীতি ও সন্ত্রাস ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হয়। রাজনৈতিক নেতারাও ছাত্র আন্দোলনে ব্যাপক নিপীড়নের শিকার হন। সারা দেশে এরশাদ বিরোধী আন্দোলন গড়ে ওঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সূচিত আন্দোলন এক সময় উত্তাপ ছড়ায় রাজপথে। আন্দোলনের ধারাবাহিতকতায় গড়ে ওঠে ছাত্র-জনতা পেশাজীবী পরিষদও। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দেশের সর্বত্র। বেড়ে যায় বিরোধী নেতাকর্মীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যা। ছাত্রনেতা রওফুন বাসুনিয়া, সেলিম, দেলোয়ার, জেহাদ, নূর হোসেন আর ডা: মিলনের আত্মদান স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনকে বেগবান করে। তুমুল আন্দোলনের মুখে ১৯৯০ সালের ৬ ডিসেম্বর পদত্যাগে বাধ্য হন হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।

তবে গত ২৭ বছরে বাংলাদেশ অর্থনীতির সূচকে অনেক এগিয়ে গেছে। মানুষের গড় আয় ও আয়ু- দুটোই বেড়েছে। বেড়েছে শিক্ষার হার। প্রবৃদ্ধি সাতের ঘরে পৌঁছেছে। কিন্তু রাজনীতি তথা গণতন্ত্রের সূচকগুলো অবিশ্বাস্যভাবে নিম্নগামী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করেন, ষাট ও সত্তরের প্রজন্মকে যেভাবে উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ আন্দোলিত করেছিল, আশি ও নব্বইয়ের প্রজন্মকে একইভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন।

এই আন্দোলন কেবল রাজনীতিকদের ছিল না, ছিল ছাত্র-তরুণ, শ্রমিক, সংস্কৃতিসেবীসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত আন্দোলন। মূলত নাগরিক সমাজের উদ্যোগী ভূমিকার কারণেই আওয়ামী লীগ নেত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকে এক টেবিলে বসানো সম্ভব হয়েছিল। তাদের ঐক্যের কারণেই যেমন স্বৈরাচারের পতন ঘটেছিল, তেমনি গণতান্ত্রিক শক্তির বিরোধ ও বিভক্তির রাজনৈতিক আবহাওয়ায় সেই স্বৈরাচার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
একই কথা প্রযোজ্য স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত-শিবির ও মৌলবাদী হেফাজতে ইসলামের বেলায়ও। এরা বরাবর নিজেদের সুবিধামতো পক্ষ বদল করেছে।

খোদ রাজনীতিবিদরাই মনে করেন, স্বৈরাচার পতন হলেও সাতাশ বছরে কাঙ্খিত গণতন্ত্র অধরাই রয়ে গেছে। ক্ষমতালিপ্সাকেই এজন্য সবচেয়ে বড় বাধা বলে মনে করেন তারা।

নিউজবিডি৭১/আর/৬ ডিসেম্বর , ২০১৭

image_print
Share.

Comments are closed.